অবিস্মরণীয় জয়

গ্লোবাল ডেস্কঃ-     সাকিব-তামিমরা হতাশ করছেন সমর্থকদের। আফগানিস্তানের মতো দলের কাছে ‘কুপোকাত’ টাইগাররা! এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গেছে লাল-সবুজদের। তবে ছেলেরা হতাশ করলেও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ১৬ কোটি মানুষকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন। পাকিস্তানের পর সালমাদের শিকার এবার ক্রিকেটের পরাক্রমশালী ভারত।মালয়েশিয়ায় চলমান নারীদের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সূচনাটা ভালো ছিল না। তবে বাঘিনীদের ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগেনি। এশিয়ার দুই ক্রিকেট পরাশক্তি দেশ পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দোর্দ- প্রতাপ দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা।শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত নারী দল। তারা এশিয়া কাপের ছয় আসরের সব কটির চ্যাম্পিয়ন। এবারের এশিয়া কাপেও ভারতই ফেভারিট। তার পরও শক্তিশালী এ দলটিকে হারানো সম্ভব হয়েছে রুমানা আহমেদের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও ফারজানা হকের ব্যাটিং নৈপুণ্যে। গতকাল ভারতের বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক ৭ উইকেটের জয়ে ফাইনাল খেলার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সালমা বাহিনী।গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল ভারত। তাদের বিপক্ষে এবারই প্রথম অবিস্মরণীয় জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ভারতের ১৪১/৭ তাড়ায় বাংলাদেশ ৪৯ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায়। স্র্রোতের বিপরীত থেকে দলকে টেনে তোলেন ফারজানা ও রুমানা। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার দলীয় স্কোরকার্ডে জমা করেন রেকর্ড ৯৩ রান। টি-টোয়েন্টিতে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটি।৩৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন ফারজানা। ২৫ বছর বয়সী ডানহাতি এ ব্যাটার ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ৪৬ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এটি। ম্যাচসেরা রুমানা ৩৪ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৪২ রান করেন। ফারজানা-রুমানার ব্যাটিং বীরত্বে ২ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে বাংলাদেশ।এর আগে বল হাতেও জাদু দেখিয়েছেন রুমানা। ২৭ বছর বয়সী এ লেগ স্পিনারের ঘূর্ণি জাদুতে দিকভ্রান্ত ভারত নারী দলের ব্যাটাররা। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচায় তার শিকার ৩ উইকেট। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে এদিন নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি ভারত নারী দলের ব্যাটাররা। এ ম্যাচে ছয়জন বোলার হাত ঘুরিয়েছেন। তবে রুমানা ও সালমা ছাড়া অন্য কেউ উইকেট পাননি। ২৬ রানে প্রথম সারির দুই উইকেট হারানো ভারতকে বড় স্কোরের ঘরে পৌঁছে দিতে অবদান রেখেছেন হারমানপ্রিত ও দীপ্তি।বাংলাদেশ এর আগে কখনই এত বড় রান তাড়া করে জেতেনি। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে সব মিলিয়েই বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৩৭। রান তাড়ায় বাংলাদেশের আগের রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচের ৯৫। গত সোমবার অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচেও সালমারা জয় তুলে নেন ৭ উইকেটে।আজ থাইল্যান্ড ও শনিবার মালয়েশিয়া নারী দলের বিপক্ষে মাঠে নামবেন সালমা-রুমানা-জাহানারারা। বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে খেলার হাতছানি। ছয় দলের এ টুর্নামেন্টে চার পয়েন্ট নিয়ে গতকাল পর্যন্ত টেবিলের চারে ছিল বাংলাদেশ। সমানসংখ্যক ম্যাচে (৩) বাংলাদেশের সমন পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের শীর্ষ তিনে রয়েছে যথাক্রমে ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান নারী দল।সংক্ষিপ্ত স্কোরভারত : ২০ ওভারে ১৪১/৭ (মিতালি ১৫, পূজা ২০, হারমানপ্রিত ৪২, দীপ্তি ৩২, মোনা ১৪*; সালমা ১/২১, রুমানা ৩/২১)।বাংলাদেশ : ১৯.৪ ওভারে ১৪২/৩ (শামিমা সুলতানা ৩৩, আয়েশা ১২, ফারজানা ৫২*, নিগার ১, রুমানা ৪২*; হারমানপ্রিত ১/২১, পূজা ১/২১, রাজেশ্বরী ১/২৬, পুনম ১/২১)।ফল : বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : রুমানা।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :403 বার!

JS security