ইউরোপে পাঠানোর নামে ভারতে আটকে রেখে মুক্তিপণ, গ্রেফতার ২

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :- ভারতে আটকে রেখে বাংলাদেশে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় পিতা-পুত্রকে গ্রেফতার করেছে সিলেটের  বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। উপজেলার টেংরা গ্রামের মৃত আবদুল খালিকের পুত্র আবদুল হককে ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডে পাঠানোর নামে তাকে (হক) ভারতে আটকে রেখে দেশে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মানব পাচারকারী পিতা-পুত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার আসামিদের সিলেট আদলতে নেয়া হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হল- সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরখানাস্থ ঐক্যতান পীর-মহল্লার মৃত রফিক উদ্দিনের পুত্র আবদুস সালাম (৪৮) ও তার পুত্র নাঈমুর রহমান সাকিব (২৫)। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে  বিশ্বনাথ থানার এসআই দেবাশীষ শর্ম্মার নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাদের নিজ বাসা থেকে সালাম-সাকিবকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।

এর পূর্বে চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল ভারতে আটকে রেখে দেশে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে  বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের মৃত আবদুল খালিকের পুত্র আবদুল হক বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১৩ এর ৬(২)৭/৮ ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২ (০১.০৪.২০ইং)।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন, সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরখানাস্থ ঐক্যতান পীর-মহল্লার মৃত রফিক উদ্দিনের পুত্র আবদুস সালাম (৪৮), সালামের পুত্র নাঈমুর রহমান সাকিব (২৫) ও স্ত্রী আমিরুন বেগম (৪০) এবং দক্ষিণ সুরমা থানার মামরখপুর গ্রামের মৃত তেরা মিয়ার পুত্র সিরাজুল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ আগস্ট আবদুল হককে আয়ারল্যান্ড পাঠানোর জন্য ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করেন আবদুস সালাম। চুক্তির পর ৬ আগস্ট ভিসা তুলার কথা বলে হককে ভারতে পাঠান দালাল সালাম। এর ৪/৫ দিন পর সালামের পুত্র সাকিব ভারতে গিয়ে আবদুল হককে ভিসা তুলার কথা বলে দিল্লিতে নিয়ে যান। সেখানে অ্যাম্বেসিতে না নিয়ে হককে একটি বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখে সাকিব। বন্দি করার কারণ জানতে চাইলে দালাল পুত্র সাকিব তাকে (হক) বলেন আরো ১০ লাখ টাকা না দিলে তাকে (হক) অ্যাম্বেসিতে তুলা যাবে না। এরপর আবদুল হক দেশে থাকা ভাই আবদুর রবকে দিয়ে দালাল সালামের নিকট ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেন। মুক্তিপণ আদায়ের এক মাস ২০ দিন পর হককে নয়া-দিল্লির একটি নির্জন স্থানে ফেলে দেয় দালাল চক্র। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরে আসেন আবদুল হক। দেশে আসার ৬ মাস পর চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল সিলেটের মানবপাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালে আবদুল হক মামলা দায়ের করেন।

দালাল সালাম-সাকিবকে গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা  বিশ্বনাথ  থানার এসআই দেবাশীষ শর্ম্মা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের পেশাই হচ্ছে দালালি। তারা ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তাদের দালাল চক্রের মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেটের সহজ-সরল মানুষদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে। গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশন দেন। আর মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :266 বার!

JS security