উপজেলা নির্বাচন,সিলেট সদর; আশফাককে টক্কর দিতে মাঠে সুজাত আলী রফিক

সিলেট প্রতিনধিঃ- টানা দশ বছর ধরে সিলেটের সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ চৌধুরী। এবারও প্রার্থী হতে চান তিনি। তবে এবার তাকে ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিতে রাজী নন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক।  চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছের রফিক।ইতোমধ্যে সুজাত আলী রফিক সংবাদ সম্মেলন করে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দিয়ে শুরু করেছেন প্রচারণা।  দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, টানা দুইবার নির্বাচিত হয়ে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আশফাক আহমদের অবস্থান শক্ত থাকলেও এবার বইতে পারে পরিবর্তনের হাওয়া। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রীসভায় একাধিক নতুন মন্ত্রী স্থান পাওয়ায় দেশব্যাপী সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখের সন্ধান করতে পারেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমনিটি ধারণা তাদের। তবে সুজাত আলী রফিক তৎপরতা চালালেও নির্ভার আশফাক আহমদ। তিনি বলছেন, ‘পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনাই নেই।’ অপরদিকে সুজাত আলী রফিক বলছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের পরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন পরিবর্তন। তাই এবার পরিবর্তন হবেই।  বর্তমান চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ চৌধুরী ও সুজাত আলী রফিক ছাড়াও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাশা করছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলার শ্রমিক লীগের সভাপতি প্রকৌশলী এজাজুল হক এজাজ। এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি যদি উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে সকলের জন্য প্রার্থীতা হবে উন্মুক্ত। সে ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে আশফাক আহমদকে। নির্বাচনে প্রার্থীতা উন্মুক্ত থাকলে আশফাক আহমদ মোকাবেলা করতে হতে পারে তারই দলের সুজাত আলী রফিক ও এজাজুল হক এজাজকে।  সে ক্ষেত্রে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।তবে আশফাক আহমদ চৌধুরী এসবের কিছুতেই ভিতু নন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘একাধিক প্রার্থীর কারণে আমার ভয় পাওয়ার কারণ নেই। প্রার্থী যে কেউ হতেই পারে।’ দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলছেন, গত ১০ বছরে আমি সদর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে রূপ দিয়েছি। তাই আমার বিশ্বাস গতবারের তুলনায় এবার অনেক ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হবো। তিনি বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে আমি বিতর্কিত হওয়ার মতো কোন কাজ করিনি। তাই ‘যদি মনোনয়ন না পাই’, এরকম কোন শব্দ নাই। আমার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে ‘যদি’ বলতে কোন শব্দ নাই। মনোনয়ন আমি পাবো এটি নিশ্চিত। এদিকে পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক। তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন পরিবর্তনের পক্ষে। জনগণ চায় সদর উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় নতুন মুখ আসুক। তাছাড়া উনার (আশফাক আহমদ) এখন বয়স হয়েছে। সকল কাজ এখন উনার পক্ষে সম্ভবও নয়। তাই এখন পরিবর্তন খুবই প্রয়োজন।’ সুজাত আলী রফিক বলেন, ‘গত উপজেলা নির্বাচনের পূর্বে আশফাক আহমদ সাহেব স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে আমার হাত ধরে ওয়াদা করেছিলেন এবার আমাকে তিনি ছাড় দিবেন। কিন্তু এবার তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে মনোনয়নের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আশাকরি নেতৃবৃন্দ তৃনমূলের নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশার গুরুত্ব দিবেন।  সুতরাং মনোনয়ন আমি পাবই। আর মনোনয়ন না পেলে তখন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।’

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :45 বার!

error: Content is protected !!
JS security