এক মহিলার দুই স্বামী এলাকায় তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক :- এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্য ব্যক্তিকে নিয়ে ঘর সংসারের ঘটনা এলাকার লোকজনকে ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকটা ছবির কাহিনির মতো। আমেরিকান গ্রিন কার্ডধারী এক সাবানা আক্তারের কাহিনী এখন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে “টক অব দ্যা টাউন”। এক নারীর দুই স্বামীকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সাবানার সৌদি আরব প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রীকে ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্থানীয় মুরুব্বিদের কাছে অভিযোগ করেও সৌদি প্রবাসী স্বামী কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। বরং তাকে ও তার পরিবারকে নানা ভাবে হয়রানীর হুমকী দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার গাজিনগর এলাকার আমিনুল ইসলামের পুত্র সৌদি প্রবাসী মোঃ সুহাগ মিয়া ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জগদল গ্রামের আব্দুল খালিকের কন্যা সাবানা আক্তারকে ২০১২ ইংরেজি সনের ০৫ এপ্রিল ৩ লক্ষ টাকা দেন মোহর স্বায়বস্থ্য করে বিয়ে করেন। যাহা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারের কাজী অফিসে রেজিষ্ট্রি হয়। বিয়ের পর গোপনে তাদের সংসার ভালোই চলছিল।সাবানার আত্বীয় রেনু বেগম ও রেবা বেগমের সহযোগিতায় সুহাগ মিয়া প্রায়ই জগদলে সাবানার বাড়িতে আসাযাওয়া করত।এভাবে লুকিয়ে চলতে থাকে তাদের সংসার, ২০১৩ সালে তাদের আমেরিকার ভিসা হলে পরিবার থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয় চাচাত ভাই সাব্বির কে বিয়ে করে আমেরিকায় নিতে হবে।আর যদি চাচাত ভাই সাব্বিরের কাছে সাবানা বিয়ে না বসে তাহলে তাদের পরিবারকে আমেরিকা নেয়া হবে না।এমতাবস্থায় সাবানা ও তার ভাই কাউসার স্বামী সুহাগ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে বলেন বৃহৎ স্বার্থের জন্য সাব্বিরের কাছে বিয়ে বসতে হচ্ছে,সাব্বিরকে আমেরিকা নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে সুহাগকে নিয়ে যাবে,এই শর্তে সুহাগ রাজি হন।কথামত সাব্বির কে বিয়ে করে আমেরিকা নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে দেন সাবানা,কিন্তু ডিভোর্স দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেন সাবানার পরিবার। সুহাগের সাথে যোগাযোগ না করে গোপনে দেশে এসে জগদল গ্রামের মরহুম আব্দুস সালামের পুত্র নাদিমের সাথে তড়িঘড়ি করে দিরাই বাগান বাড়ি সেন্টারে বিয়ে বসেন সাবানা।বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেখে আকাশ ভেঙে মাথায় পরে সুহাগ মিয়ার।

এ ব্যাপারে সুহাগের পিতা তালিমুল ইসলাম ভারাক্রান্ত মনে বলেন আমরা এখন কি করব,আমার পুত্রবধুর পিত্রালয়ের ক্ষমতা আছে বিধায় আমার ছেলেকে ডিভোর্স না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে দিতে পেরেছে। তারা মানুষ কিনা আমার সন্দেহ আছে। তারা যদি মানুষ হতো এবং মুসলমান হতো তাহলে এরকম জঘণ্য কাজ তারা কখনও করতে পারতোনা।

তিনি বলেন আমরা সাবানার এলাকায় যাবো, যদি সমাধান না হয় তাইলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো। 

সুত্রঃ-ক্রাইম সিলেট

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :755 বার!

JS security