এড. ড. সামছুল হক চৌধুরী’র দিরাই-শাল্লার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সিলেটে সাংবাদিক সম্মেলন


স্টাফ রিপোর্টারঃ-  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি, বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট ড. সামছুল হক চৌধুরী’ আজ সিলেটের অভিজাত হোটেল গোল্ডেন সিটিতে দিরাই-শাল্লার উন্নয়নে গৃহীত উনার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক বৃন্দ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শফিকুর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহ চৌধুরী মাসুদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সিলেট জেলা সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা হারুন রশীদ, আওয়ামী লীগ নেতা মকসুদ আলম, ও যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।
এডভোকেট সামছুল হক চৌধুরী’ দিরাই শাল্লায় দুটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, দিরাই শেখ রাসেল স্টেডিয়াম নির্মাণ ও জগদল ২০ শয্যা হাস্পাতালের লোকবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করে অবিলম্বে জনগণের চিকিৎসা সেবার জন্য চালু করার আবেদন পরিকল্পনা মন্ত্রীর ডিও লেটার সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছে আবেদনের ডকুমেন্টসসহ দিরাই শাল্লার উন্নয়ন উনার পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট ড. সামছুল হক চৌধুরী’র বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণঃ-
আসসালামু আলাইকুম ও আদাব।
সম্মানিত উপস্থিত সাংবাদিকন্ধুগণ। সবাই কে প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

আমি ড. মো: সামছুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ-২, দিরাই-শাল্লা আসনে গত দুই টার্মে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে জাতীয় সংসদ পদের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম’ সুতারাং এই যখন বাস্তবতা তখন সময়ের পরিক্রমায় আমার সুনামগঞ্জ-২, দিরাই-শাল্লা আসনে এলাকার উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ সম্পর্কে আজকের এই মতবিনিময়।
সম্মানিত সাংবাদিকন্ধুগণ,
প্রথমেই আমার এলাকা সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদের দিরাই-শাল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।
আমি পারিবারিকভাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। তাই ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে এই আদর্শের পথে আমার যাত্রা শুরু/অতীতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ১/১১ থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রলীগের লড়াকু সৈনিক হিসেবে অধ্যাবধী দেশে ও প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্টায় কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রজীবনের পর থেকে পারিবারিক প্রয়োজনে দেশের বাহিরে অবস্থান করলে ও সখোনে থেকে ও আমার রাজনৈতিক তৎপরতা থেমে থাকেনি।

এলাকার মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন সড়ক নিমার্ণসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কর্মকান্ডে ছাত্রজীবন থেকে দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বৎসর যাবৎ আওয়ামী রাজনীতি ও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সংগঠনের সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ।
আপনারা নিশ্চয় জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি দামি কথা বলেছেন, তা হলো গ্রাম হবে শহর। গ্রামকে আধুনিক নগর সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলেছেন তিনি। কিন্তু কীভাবে গ্রামকে নগরে পরিণত করে গ্রামের মানুষকে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা যায়, সেটির বিভিন্ন আইডিয়া তৈরি করে স্বপ্নটিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

এছাড়া সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় গ্রামকে কিভাবে শহরে রুপ- দেওয়া যায় তার একটি গাইড লাইন তৈরী করে কর্মপন্থা বাস্তবায়নে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তাদের মতে সারা দেশে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎ-সুবিধা প্রদান ও ডিজিটাল ইমেশন। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা জনগনের দ্বাড় খোবায় পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার জনগণ ইউনিয়নে ২০ শয্যা বিশিস্ট হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য সেবা চালু করতে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়কে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা সুনামগঞ্জ-২, দিরাই-শাল্লা’র পক্ষ থেকে।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ
আপনারা নিশ্চয় জানেন,কর্মমুখী শিক্ষা প্রসারে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই এবং শাল্লা উপজেলার শিক্ষায় অনগ্রসর ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কর্মমুখী শিক্ষা প্রসারে জন্য কোন কারিগরী প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে দিরাই-শাল্লা উপজেলার ছেলে-মেয়েরা কারিগরী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দিরাই-শাল্লা উপজেলায় কারিগরি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের বিহিত সুপারিশ করার জন্য মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে দিরাই শাল্লা বাসীর পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলা বাসীর অবহেলিত জনপদ হিসেবে পরিগণিত। এ এলাকায় ছেলে- মেয়েদের খেলাধুলা তথা মানসিক বিকাশের জন্য কোন ষ্টেডিয়াম নির্মাণ হয়নি। ফলে এলাকার ছেলে মেয়েদের শরীর চর্চা ও খেলাধুলার একটি আধুনিক মানের ষ্টেডিয়াম নিমার্ণ করা প্রয়োজন। যার নামকরণ হবে শেখ রাসেল এর নামে। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়কে দিরাইয়ের ষ্টেডিয়াম নির্মাণের সুপারিশ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে করার জন্য দিরাই বাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাইএ

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ
গ্রামকে শহরে পরিণত করতে হলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে করে এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হয়। গ্রামীণ অর্থনীতির মূল শক্তি হলো কৃষি। বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ধান আবিষ্কার করেছেন। এই ধরনের গবেষণালব্ধ ধান, খাদ্যশস্য মাটির প্রকৃতি, আবহাওয়া, উত্পাদনশীলতা বিবেচনা করে আবিষ্কার করা হয়েছে। কৃষিকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে এর মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে এর রপ্তানিকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। গ্রামের কৃষককে জানাতে হবে কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা যায়। গ্রামের কৃষি অর্থনীতিকে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কৃষির উত্পাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষককে প্রযুক্তিবান্ধব করার পরিকল্পনাকে এই বিনিয়োগের আওতায় আনতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিকবন্দুগণ
স্বাধীনতার প্রায় পঞ্চাশ বছরের ধারপ্রান্তে সময় এসে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের গ্রাম উন্নয়নের জন্য “আমার গ্রাম-আমার শহর” ¯েøাাগানে একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনাসমেত নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন তা বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু আমাদের সুনামগন্জ ২ আসন সেই যেই সেই। প্রশ্ন উড়তে পারে আমি জনপ্রতিনিধি নেই কিন্তু আমি কেন এসব করছি। হ্যাঁ আমি মনে প্রাণে বিশ^াস করি মানব সেবা করতে হলে জনপ্রতিনিধি লাগে না। মানব সেবা কে আমি ইবাদত মনে করি। ২০১৪ সালে তৎকালীন মন্ত্রী বাবু সুরনজিত সেন গুপ্ত’র মনোনয়নের সময় আমি ছিলিাম একমাত্র লড়াকু সৈনিক। এই নির্বাচনী এলাকা আমার। তাই সেই সময় থেকে আমি জাতীয় সংসদের মনোননয়ন প্রত্যাশা করছি। কিন্তু দু:খ জনক হলেও সত্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় আমি আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেই। এবার সময়ের পরিক্রমায় মাননীয় সংসদ জয়া সেগুপ্ত সংসদ সদস্য হয়েছেন পরপর দুবার কিন্তু ভাটি এলাকার ভাগ্য যেনো পুরনোই রয়েগেছে। হ্যাঁ আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি মানব সেবা করতে হলে জনপ্রতিনিধি লাগে না। মানব সেবা কে আমি ইবাদত মনে করি।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :169 বার!

error: Content is protected !!
JS security