এবার পাঁচ সোনায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

গ্লোবাল সিলেট প্রতিবেদকঃ– এবার      বাংলাদেশ পাঁচটি সোনার পদকেই দ্বিতীয় আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিকরা। সমান পাচটি রম্নপার পদকও পেয়েছে তারা, সঙ্গে পেয়েছে একটি ব্রোঞ্জ। সবমিলে আসরে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১১টি

পদক নিয়ে বাংলাদেশের আর্চারদের উচ্ছ্বাস। বুধবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত্  দিনে পাঁচ সোনা জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিকরা -সৌজন্যস্বপ্ন ছিল অতীত সাফল্য ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। গতবার ছয়টি সোনার পদক নিয়ে সেরা হওয়া বাংলাদেশ এবার পেয়েছে পাঁচটি সোনা। ওই পাঁচটি সোনার পদকেই অবশ্য দ্বিতীয় আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিকরা। সমান পাঁচটি রম্নপার পদকও পেয়েছে তারা, সঙ্গে পেয়েছে একটি ব্রোঞ্জ। সবমিলে আসরে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১১টি পদক।
মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে শুরম্ন থেকেই দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। রোমান সানা-তামিমুল-অসীম-রোকসানাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১০টি ইভেন্টের ৯টিতেই ফাইনালে ওঠে স্বাগতিকরা। তাই আগের আসরের ছয় সোনার সাফল্য ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে প্রতিযোগিতার অন্তিমলগ্নে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

বুধবার সকালে প্রথম পর্বে কম্পাউন্ড বিভাগের পাঁচ ইভেন্টের চারটিতেই সোনা জয় করে বাংলাদেশ। কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টেই শুধু সোনা হাতছাড়া হয়। মেয়েদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত ইভেন্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইরাকের ফাতিমা আল মাসহাদানিকে হারিয়ে দিনটাকে রাঙিয়ে তোলার আভাস দিয়েছিলেন রোকসানা দারুণ জমে ওঠা লড়াইয়ে ১৩৬-১৩৩ পয়েন্টে জয় পান এই তীরন্দাজ। এই ইভেন্টের ব্রোঞ্জ পেয়েছেন বাংলাদেশের বন্যা আক্তার।

গত আসরে এই ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন ফাতিমা। রোকসানা বাদ পড়েছিলেন এলিমিনেশন রাউন্ড থেকে। এবার সোনা জিতে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দারম্নণ খুশি তিনি, ‘গতবার এলিমিনেশন রাউন্ডে বাদ পড়ি। লজ্জাজনক ছিল ওটা। হাতে ব্যথা নিয়ে খেলেছিলাম। চেষ্টা করেছি এবার সেটা পুষিয়ে দিতে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘ফাতিমা গতবার সোনা জিতেছিল। তাই টেনশন হচ্ছিল। পারার ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।’
কম্পাউন্ড পুরম্নষ ব্যক্তিগত ইভেন্টের দুই প্রতিযোগীই বাংলাদেশের হওয়ায় সোনা আর রম্নপা আগেই নিশ্চিত ছিল স্বাগতিকদের। তবে ব্যক্তিগত দ্বৈরথ তো ছিল। সেখানে ১৪০-১৩৪ পয়েন্টে আবুল কাশেম মামুনকে হারিয়ে সেরা হয়েছেন অসীম কুমার দাস। প্রথমবারের মতো আন্ত্মর্জাতিক পর্যায়ে সোনা জিতে উচ্ছ্বসিত তিনি, ‘যে কোনো লেভেলে এটা আমার ব্যক্তিগত প্রথম সোনা জয়। আজ সকালে মামুন ভাই দলীয় ইভেন্টে খারাপ খেলেছেন, তখনই আমার মনে হয়েছিল আমার সুযোগ আছে। এরপর ব্যক্তিগত ইভেন্টে আমি নিজের খেলা খেলে গেছি। মামুন ভাই আর ফর্মে ফিরতে পারেননি। তাই জিতে গেলাম।’
কম্পাউন্ড পুরষ দলগত বিভাগে ইরাককে ২২৫-২০৫ পয়েন্টে হারিয়ে সোনা জেতে বাংলাদেশ। দলের হয়ে খেলেন অসীম, মামুন আর আশিকুজ্জামান অনয়। সোনার পদক এসেছে মেয়েদের কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টেও। ফাইনালে মরক্কোকে ২১৬-১৫২ পয়েন্টে হারিয়ে সোনা জেতে রোকসানা-বন্যা-রিতু আক্তারকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ। কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টে ইরাকের কাছে ১৪৬-১৪৩ পয়েন্টে হেরে রম্নপা পায় রোকসানা-অসীমে গড়া বাংলাদেশ দল
পুরম্নষ রিকার্ভের দলগত বিভাগে নেপালকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। রোমান-তামিমুল ইসলাম আর ইব্রাহিম শেখকে নিয়ে গড়া দল ৫-১ সেট পয়েন্টে জিতে সেরা হয়। তবে মেয়েদের রিকার্ভে আশা জাগিয়েও শেষতক সোনা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। নাসিরন আক্তার-বিউটি রায় আর রাদিয়া আক্তার শাপলাকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল ৫-৪ সেটে আজারবাইজানের কাছে হেরে রম্নপা পায়। এছাড়া রিকার্ভ পুরম্নষ ব্যক্তিগত ইভেন্টের ফাইনালে রোমান সানা ৭-১ ব্যবধানে হারেন সৌদি আরবের আব্দুলস্নাহ বিন আলির কাছে। একই ইভেন্টের মিশ্র দলগত বিভাগের ফাইনালে ব্যর্থ হয়েছে রোমান-নাসরিন জুটি।
আর্চারিতে রিকার্ভই মূলত অলিম্পিক ইভেন্ট। এই ইভেন্টে বাংলাদেশে রয়েছে বিদেশি কোচ। এরপরও ১৬ জাতির এই আন্ত্মর্জাতিক আসরে সাফল্য আসেনি। তাই রিকার্ভের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। তিনি বলেছেন, ‘কিছু ম্যাচ দেখে খুশি হতে পারিনি। কিছু কঠিন ম্যাচ ছিল; রিকার্ভের যেগুলো জেতা সত্যিই কঠিন ছিল। কিন্তু আমি কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চাই না। ওদের নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে আমাদের।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘পাঁচটি সোনা জয়ে আমি খুশি, তবে কিছু ম্যাচে সোনা হারানোয় কিছুটা হলেও হতাশ। আসলে এই ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ তারা মেধাবী। তাদের ক্ষমতা আছে ভালো করার।’

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :659 বার!

JS security