ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন শুরু শনিবার

ওআইসি (ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা) রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলন শনিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

৪০টি দেশের মন্ত্রী, সহকারী মন্ত্রীসহ ওআইসিভুক্ত সব রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, ওআইসি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে পৃথক সেশনে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতেই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমাদ আল ওথাইমিনসহ সব দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর আগে ১৯৮৩ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এবার ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো এ সম্মেলন হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর বাইরে কানাডা অতিথি রাষ্ট্র হিসেবে অংশ নিচ্ছে। সম্মেলনে কানাডা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়া ফ্রিল্যান্ড।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ৪৫তম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের বিস্তারিত আলোচ্যসূচি তুলে ধরে বলেন, এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ইসলামিক ভ্যালুস ফর সাসটেইনেবল পিস, সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ বা ‘স্থিতিশীল শান্তি, ঐক্য এবং উন্নয়নের জন্য ইসলামী মূল্যবোধ’।

তিনি বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের বেশ কিছু দেশ শান্তি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় হুমকি, বাইরের হস্তক্ষেপ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, ইসলামফোবিয়া, মানবিক বিপর্যয়সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংস্থাটির সম্মিলিত উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের সম্মেলনে মুসলিম উম্মাহ এবং ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সন্ত্রাসবাদ দমন ইস্যু বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর বাইরে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে পৃথক সেশনে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং এ সংকট সমাধানে সুপারিশ সংবলিত ঘোষণাপত্রও গৃহীত হবে। তিনি জানান, সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত, ঢাকা ঘোষণাপত্র এবং সংশ্নিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো ওআইসির দলিল হিসেবে গৃহীত হবে। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে গণমাধ্যমের ব্যবহার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওআইসি চেয়ার প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত।

এ ছাড়া দারিদ্র্যবিমোচন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বিষয়েও বাংলাদেশের কিছু প্রস্তাব রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ বছর ঢাকায় এই সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গৃহীত উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনগুলো মুসলিম বিশ্বসহ পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে শুধু ওআইসিতে নয়, বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনির্মাণ, স্বার্থ সংরক্ষণ ও স্বীয় কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে।

এবারের সম্মেলনে ওআইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের পদ আইভরি কোস্ট থেকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :768 বার!

JS security