করোনাকালীন দুঃসময়ে শিশু-কিশোরদের পাশে ডা. জুবাইদা রহমান

ডা. জুবাইদা রহমান শিশু-কিশোর ও সমাজের নিপীড়িত মানুষের জন্য সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন। শৈশবে ছাত্রী থাকা অবস্থায় যখনই ছুটি থাকতো তখনই তিনি সমাজের অবহেলিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষা প্রদানে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। স্কুলজীবনে তিনি মেডেল অব অনার, গোল্ড মেডেল পেয়েছিলেন। কিন্তু দাম্ভিক না হয়ে বরং স্কুলজীবন থেকেই তিনি দেশের অবহেলিত শিশুদের সাথে অবাধে সময় কাটাতেন, বুঝতে চাইতেন তাদের কষ্টগুলো।

বিজ্ঞানপ্রেমী জুবাইদা শৈশবে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য স্কুল থেকে পেয়েছিলেন স্বর্ণপদক। হলিক্রস কলেজে অধ্যয়নকালে টিম লিডার হিসেবে প্রথম পুরস্কারে ভূষিত হন ‘জাতীয় বিজ্ঞান মেলায়’। তাঁর নির্মিত প্রজেক্টটির নাম ছিল ‘প্রাণায়িত ছবি’-short animation on Germination. শিক্ষা জীবনে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায়ই মেধা তালিকায় স্থান পান তিনি। পরবর্তীতে সম্মান হিসেবে পান চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড। ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ডিএমসি) এমবিবিএস পড়াকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন প্রফেশনাল পরীক্ষায় হনার্স পান এবং ফাইনাল পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য তিনি মাহবুব মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। বিসিএস হেলথ ক্যাডারদের প্রশিক্ষণকল্পে অনুষ্ঠিত ফাউন্ডেশন ট্রেনিং-এ তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন। প্রবাসে অবস্থানের এই সময়ে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের মানুষকে দূরে ফেলে এলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। Save the children, Great Ormond Street Hospital, Sight Savers, UNICEF-সহ বিভিন্ন সংস্থাকে সাধ্যমতো স্বল্প পরিসরে সহায়তা করে যাচ্ছেন। আমাদের দেশে স্যানিটেশন একটি বিরাট সমস্যা, তাঁর উদ্যোগে দেশে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্যানিটেশন পদ্ধতি স্থাপন করা হয়েছে। দেশের শিশু-কিশোরদের দৃষ্টিশক্তির দিকে লক্ষ্য দিয়ে তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরদের চোখের চিকিৎসা ও পরবর্তীতে চশমার ব্যবস্থা করে দেন। ধার্মিক, মেধাবী ডা. জুবাইদা ২০১৬ সালে তাঁর স্বামী, শাশুড়ি, মা, মেয়ে ও বোনের সাথে একত্রে পবিত্র হজব্রত পালন করেন। এছাড়া বিয়ের পূর্বে তিনি চারবার ওমরাহ পালন করেন। দেশে ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তারেও তিনি কাজ করছেন। শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় পুস্তক প্রদানসহ বিভিন্ন রকম সহায়তা করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি করোনা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তাঁর বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে বহু মসজিদে মাস্ক ও সাবান সরবরাহ করেন।

করোনার এ দুঃসময়ে বিশ্বের শিশু-কিশোরদের স্কুল বন্ধ। এ সময় তাদের মনোবল বৃদ্ধি ও তারা যেন মানসিক বিষোণ্ণতায় না ভোগে সে জন্য তিনি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন এবং বর্তমানে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও এর প্রতিরোধকল্পে ডা. জুবাইদা রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজ্ঞানধর্মী ফেসবুক গ্রুপে (Conquer Covid-19-A Global Initiative) এ সকল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ব্যক্তিগত জীবনে ডা. জুবাইদা লেখালেখি করেন ও কবিতা রচনা করেন। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর এ সময়ে কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার শেষের দুটি পঙক্তি মনে পড়ে যাচ্ছে- ‘স্বাধীনতা তুমি বাগানের ঘর, কোকিলের গান বয়েসি বটের ঝিলিমিলি পাতা, যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা’!

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :72 বার!

JS security