কলেজছাত্রকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন,

সাতক্ষীরার তালায় এক কলেজছাত্রকে মারপিট ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ সুপার বলছেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় তালা সদরের জাতপুর গ্রামের শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। চলতি বছর তিনি জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।

যাদের বিরুদ্ধে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তালার মাঝিয়াড়া গ্রামের সৈয়দ আকিব, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামের সৌমিত্র চক্রবর্তী, তালা গার্লস স্কুল এলাকার বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী জে. আর সুমন, তালার মহান্দি গ্রামের ছাত্রলীগ কর্মী মো. জয় ও তালা সদরের ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ হাসান উৎস।

কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় বলেন, ‘ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ হাসান উৎস আমার পূর্বপরিচিত। তালা বাজারে যাতায়াত সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয়।

রোববার(২৪ এপ্রিল) দুপুরে আমাকে ফোন করে তালা কলেজ এলাকায় ডেকে নেয় উৎস। এরপর কলেজের পশ্চিম পাশের একটি রুমে নিয়ে যায়। ‘সেখানে টানা ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালায় আকিব, সৌমিত্র, সুমনসহ অন্যরা। হাত-পায়ে নির্মমভাবে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়। এরপর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। তারপর বাড়িতে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা।’

তন্ময় আরও বলেন, ‘যে রুমের মধ্যে আমাকে আটকে রেখেছিল সেটি সম্ভবত কলেজের ছাত্রাবাস কক্ষ। সেটি কলেজের মধ্যেই অবস্থিত। ওই রুমের মধ্যে মারপিট করার জন্য বেল্ট, লাঠিসোঁটা এখনও রয়েছে। ওখানে নিয়ে টর্চার করে বলে মনে হয়েছে।’

তন্ময়ের বাবা আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট করে দিল। তন্ময়ের সঙ্গে ওদের কোনো বিরোধ নেই। একসঙ্গে পড়েও না। হঠাৎ ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার স্ত্রীর কাছে রোববার বিকেলে ফোন করে ছেলেকে ফিরে পেতে দুই লাখ টাকা নিয়ে কলেজের সামনে যাওয়ার কথা বলেছে তারা।’

আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘টাকা চেয়ে যখন ফোন করা হয় তখন আমার ছেলে কৌশলে নিজের ফোন থেকে তার চাচাতো ভাই জুবায়ের আহমেদকে বার্তা পাঠায়। সেই বার্তায় তন্ময়ের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ছুটে যায় জুবায়েরসহ অন্যরা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

তালা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সেখ মো. হুমায়ূন কবীর জানান, আমরা এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর জানি না। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজে টর্চার সেল করেছে এটি আমার জানা নেই।

তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন রায় বলেন, নির্যাতনের ঘটনা আমার জানা নেই। সৈয়দ আকিব আমাদের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান আশিক বলেন, ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি এখনো কেউ জানায়নি। খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমাকে আগে কেউ জানায়নি। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে। তাছাড়া যেহেতু মামলা হয়েছে ঘটনাটি যেন সুষ্ঠ তদন্ত হয় ও দোষীরা শাস্তি পায়।

এদিকে, তালা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময়কে সোমবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২টায় বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে জানান তন্ময়ের বাবা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। গত রাতে থানাতেও আমাকে মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়েছিল।

তালা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) আবুল কালাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। মামলার বাদী আর্জির সঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড জমা না দেওয়ায় রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। হুমকি ধামকি দিচ্ছে এমন ঘটনা আমার জানা নেই।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :51 বার!

JS security