কাউন্সিলর ময়নুলের অফিস-বাসায় মিললো অস্ত্র, মাদক ও ভায়াগ্রা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল হক মঞ্জুকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার টিকাটুলিতে তার অফিস ও বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি পিস্তল, মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও যৌন উত্তেজনা বর্ধক ওষুধ।

অভিযানে কাউন্সিলর মঞ্জুর গাড়িচালক সাজ্জাদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে র‍্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফিউল্লাহ বুলবুল জানান।

র‌্যাব সদস্যরা দুপুরে তার অফিস ঘিরে অভিযান শুরু করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নানা বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করে। তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় মিষ্টিও বিতরণ করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল বুলবুল বলেন, ‌‘মঞ্জুর বৈধ কোনো আয় নেই। সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজিই তার অর্থের উৎস। সেই টাকা সে হুন্ডির মাধ্যমে আমেরিকায় পাঠায় বলেও অভিযোগ আছে।’

মঞ্জুকে গ্রেপ্তারের পর আরো অন্তত অর্ধশত অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, গত বুধবার দায়ের হওয়া চাঁদাবাজির মামলাটি ছাড়াও আট কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও দুটি মামলা রয়েছে এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।

হাটখোলার ওই বাসায় অভিযানের সময় দেখা যায়, চারতলা ওই ভবনের সিঁড়ি, গ্যারেজ বেশ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। নিচতলায় কেউ নেই, দোতালায় তালা লাগানো।

তবে তিনতলা ও চারতলা নিয়ে গড়ে তোলা ডুপ্লেক্স বেশ ঝকঝকে তকতকে। দামি টাইলস আর আসবাব দিয়ে প্রতিটি কক্ষ সাজানো। প্রায় প্রতিটি ঘরের দেয়ালে সাবেক মন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মঞ্জুর ছবি। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গেও তার ছবি দেখা যায় এর মধ্যে।

বুধবার রাতে ময়নুলের বিরুদ্ধে রাজধানীর ওয়ারী থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা হয়। আজ দুপুরে তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‍্যাব-৩। কার্যালয়ে অভিযান শেষে ময়নুলের বাসায় অভিযান শুরু করে র‍্যাব।

রাজধানী সুপার মার্কেট ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজি,অবৈধ দখলদারির পাশাপাশি মাদকের কারবারের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। অবশ্য তিনি নিজে বরাবরই তা অস্বীকার করেছেন। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে নতুন করে তার নাম সামনে আসে।

এত অভিযোগ থাকার পরও ময়নুলকে আগে কেনো গ্রেপ্তার করা হয়নি—এমন প্রশ্নে র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফি বুলবুল বলেন, ময়নুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেন না। এখন মোক্ষম সময়। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলমান ক্যাসিনো-বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ময়নুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

সিটি করপোরেশনের সভায় অনুপস্থিতির কারণে এ সপ্তাজের শুরুতে যে দক্ষিণ সিটির যে ২১ কাউন্সিলরকে কারণ দর্শাও নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে মঞ্জু একজন। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মঞ্জু ওয়ারি থানা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের গত কমিটিতেও সদস্য হিসেবে ছিলেন তিনি।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :91 বার!

error: Content is protected !!
JS security