খুলনার ভোটে জাতীয় নির্বাচনের আবহ

গ্লোবাল সিলেট ডেস্কঃ-   খুলনার ভোটে জাতীয় নির্বাচনের আবহএকাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে খুলনা সিটির এই নির্বাচনের দিকে এখন সবার নজর। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটার-সবার কাছে এ নির্বাচন বিশেষ গুরম্নত্ব পাচ্ছেযাযাদি রিপোর্ট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনায় এখন বিরাজ করছে জাতীয় নির্বাচনের আবহ; ভোটের পরিবেশ নিয়ে নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতিতে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বছরের এই সিটি নির্বাচনের দিকে এখন সবার নজর। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটার-সবার কাছে এ নির্বাচন বিশেষ গুরম্নত্ব পাচ্ছে। আরও চার সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে ভোট কেমন হবে এখান থেকেই তার আভাস মিলবে।আগামীকাল ১৫ মে দলীয় প্রতীকে খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোট হবে। তাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়রপ্রার্থী রয়েছে।

কে এম নুরম্নল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন যোগ দেয়ার পর গেল বছর কুমিলস্না ও রংপুর ভোট করে সব মহলের প্রশংসা কুড়ায়। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিশনের অধীনে আরও ভালো নির্বাচনের আশা রাখেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রম্নপের (ইডবিস্নউজি) পরিচালক আব্দুল আলীম।

তিনি বলেন, কুমিলস্না ও রংপুর সিটির ভোটের চেয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনের গুরম্নত্ব এখন অনেক। গাজীপুরের ভোট বিলম্বিত হওয়ায় খুলনা নিয়ে দুই দলের চাপেই থাকতে হচ্ছে কমিশনকে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করার পাশাপাশি ইসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
তিনি বলেন, এখন আরও চারটি সিটি ভোট বাকি; তারপর সংসদ নির্বাচন। সিটি ভোটেই এখন জাতীয় নির্বাচনের আবহ। দলীয় প্রতীকে হওয়ায় খুলনার ভোট দেখেই মানুষের কাছে মেসেজ যাবে পরের ভোট কেমন হবে। কমিশনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এটি।
সংসদ নির্বাচনের আগে সবার নজর নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে সঠিক পথে এগোনোর পাশাপাশি সঠিক সিদ্ধান্ত্ম নিচ্ছে কিনা-উলেস্নখ করেন ইডবিস্নউজি পরিচালক।
আব্দুল আলীম বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে আশা করি। অনিয়ম থাকলে বা সুষ্ঠু ভোট না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব থাকবে সব মহলে। স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও শুধু খুলনার জয়-পরাজয়কে নিয়ে সংসদ নির্বাচনের আভাস দেয়া সঠিক হবে না। তবে আস্থা ও পরিবেশ তৈরির পথে আরও একধাপ অগ্রগতি হবে।’
বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফেমার সভাপতি মুনিরা খান জানান, ভালো ও যোগ্য প্রার্থী থাকায় খুলনায় নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত্ম সন্ত্মোষজনক। নির্বাচন কমিশনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ এ নির্বাচনটি ভালোভাবে সম্পন্ন করার।
তিনি বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। ইসির সদিচ্ছা ও ক্ষমতার প্রয়োগ মানুষ দেখতে চায়। ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে পারলে সামনে ভোটার, দল ও প্রার্থীর কাছে ইসির পজিটিভ ইমেজ আরও বাড়বে। এটা খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ, ইসির খুব সিরিয়াসলি দেখা উচিত।
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমান সুযোগ না পাওয়ার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-দুদলই কমিশনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে এমপি-মন্ত্রীরা প্রচারে নামতে না পারলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার হওয়ায় নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে বলে তাদের শঙ্কা।
অন্যদিকে বিএনপি বলছে, খুলনার পুলিশ কমিশনার তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারকে প্রভাবিত করতেই ইসির যুগ্মসচিবকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দলগুলো পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে পারে। কিন্তু কমিশন ভালো নির্বাচন করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
যে কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত্ম করেন তিনি।
হেলালুদ্দীন বলেন, এখন সবার নজর খুলনায়। এ নিয়ে সবার আগ্রহ, ভোটের পরিবেশ নিয়ে দল, প্রার্থী, ভোটার ও গণমাধ্যম তা পর্যবেক্ষণ করছে।
সেনা মোতায়েনের পক্ষে-বিপক্ষে দলগুলো বক্তব্য দিলেও কমিশন শুরম্নতেই বলে দিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হবে।
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত্ম একটানা ভোট চলবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনে। তাদের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণা চালিয়েছেন।
ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার উপ সচিব ফরহাদ হোসেন জানান, শনিবার রাত ১২টার মধ্যে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়তে হয়েছে। সংশিস্নষ্ট সিটির ভোটার নন এমন ব্যক্তিদের ওপর নির্ধারিত সময়ের পরে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
রোববার রাত ১২টা থেকে প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার প্রথম প্রহর থেকে ভোটের পর আরও ৪৮ ঘণ্টা সব ধরনের মিছিল, শোডাউন, আনন্দ মিছিল বন্ধ থাকবে আচরণবিধি অনুযায়ী।

নিরাপত্তার চাদরে খুলনা
খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও পরের দিন মিলিয়ে ১৩ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত্ম পুলিশ, বিজিবি,র্ যাব, আনসার-ভিডিপি, ব্যাটালিয়ন আনসারসহ নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত থাকবেন।
ভোটের আগের দিন সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানো ও ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সাধারণ ও গুরম্নত্বপূর্ণ বিবেচনায় ২২-২৪ জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে খুলনা সিটিতে তিন ধাপে নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটের আগে-পরে চার দিন বিচারিক হাকিম রয়েছেন মাঠে। খুলনায় ভোটের দিন নির্বাহী হাকিম থাকবেন ৪৯ জন ও বিচারিক হাকিম ১০ জন।
পুলিশ-এপিবিএন-আনসার ব্যাটালিয়ন নিয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ১০টি টিম;র্ যাবের ৩১টি টিম; বিজিবি থাকবে ১৬ পস্নাটুন। রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ৩-৪ পস্নাটুন অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন রাখা হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি পস্নাটুন গঠন করা হয় ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য নিয়ে। ভোটের মাঠে প্রতি পস্নাটুনে কতজন থাকবেন তা এলাকা অনুযায়ী ঠিক করা হবে।
ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক থাকবেন ১০ নির্বাচন কর্মকর্তা।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :385 বার!

JS security