খুলনায় গ্রেপ্তারে নাজেহাল বিএনপি

গ্লোবাল সিলেট প্রতিনিধিঃ-   খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানে নাজেহাল বিএনপি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায়। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তীব্রতা বাড়ছে অভিযানের। এসব অভিযানের বেশির ভাগই চালানো হচ্ছে রাতের বেলা। প্রতিরাতেই এক বা একাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছেন। বাদ যাচ্ছেন না নির্বাচনী এজেন্টও।

ইতিমধ্যে গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট গ্রেপ্তার হয়েছেন। সন্ধ্যা নেমে আসলেই তাই আতঙ্ক দেখা দেয় দলীয় নেতাকর্মী, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক এবং নির্বাচনী এজেন্টদের মাঝে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনের বেলায় প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও গ্রেপ্তার এড়াতে রাতে আত্মগোপনে থাকছেন নেতাকর্মীরা। এই গ্রেপ্তার অভিযানের বিরুদ্ধে বরাবরই অভিযোগ করে আসছে খুলনা বিএনপিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বলছেন, গত একমাসে তাদের প্রায় আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরমধ্যে গত ৪-৫ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। পাশাপাশি বাড়িঘরে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগও করছেন তারা। এ ব্যাপারে প্রতিদিনই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা বলেছি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছাড়া যেন কাউকে গ্রেপ্তার করা না হয়। অহেতুক হয়রানি করার জন্য যেন কাউকে আটক করা না হয়। এভাবে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের যেন ছেড়ে দেয়া হয়। এখন আমরা দেখব পুলিশ কি ভূমিকা পালন করে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। তিনি বলেন, হয়রানি করার জন্য পুলিশ কাউকে আটক করছে না।
খুলনা মহানগর বিএনপির অভিযোগ এর বাইরে আরো অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার কারণে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি সভাপতি ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচন সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম মনা বলেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে আমাদের অনেক নেতাকর্মী মাঠে নামতে পারছে না। এমনকি নির্বাচনী এজেন্টরাও ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি বলেন, গত একমাসে খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় আড়াইশ’ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আর গত ৪-৫ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। মনা বলেন, প্রতিরাতেই থানা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। অনেক সময় তাদের না পেয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের নানারকম হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। জেলা বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, এ ব্যাপারে আমরা প্রতিদিনই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিচ্ছি, কিন্তু ফলাফল শূন্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :281 বার!

JS security