গল্পটা তোমার আমার ।। নন্দিনী খান

নিরব ভীষণ ডিস্টার্বড ছিল। পার্সোনাল আর প্রফেশনাল লাইফ নিয়ে খুব ব্যস্ত, বিরক্ত। কিছুই যেন ঠিক মতো হয়ে উঠছিল না।‌ ঠিক এমন একটি সময়ে অধরা নামের একজনের কাছ থেকে একটা মেসেজ এলো “হাই, হাও আর ইউ” ।

নিরব প্রথমে ভাবলো উত্তর দিবে কিনা।‌ পরে ভাবলো উত্তর দেই, দেখি কি হয়। নিরব উত্তরে “হ্যালো” বললো। সেই থেকে অধরার সাথে প্রতিদিন  নিরবের কথা হতো। প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্ত প্রতিটি সেকেন্ড ওরা কানেক্টেড থাকতো। অধরা মাঝে মাঝে রাগ করতো, কিন্তু আবার ভাবতো, যদি নিরবের ভালো লাগে, তাহলে সমস্যা কি । কথাই তো বলছি। এভাবে কিছুদিন গেল , অধরা বুঝতে পারলো হয়তো নিরব কিছু করার চেষ্টা করছে। হয়তো পারছে না বা হয়ে উঠছে না। নিরব ভীষণ ভালোবাসা চাইতো, অধরাও তাকে ভালোবাসা দিতে চাইতো, কিন্তু ভাবতো নিরব যদি আরও কিছু চেয়ে বসে।

অধরা এটা মানতো যে দুজন দুর্বল মানুষ কখনই একটা ভালো জীবন পার করতে পারে না। তাই সে নিরবকে বিয়ে দেবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু নিরব বিয়ের কথা শুনলেই পালিয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকে কিছুটা দিন। তারপর নিরব একদিন ভীষণ রাগ করে অধরাকে বলে, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো । অধরা উত্তর দিতে চায় না। আবার কয়েকদিন পর নিরব অধরাকে জিজ্ঞেস করলো “ডু ইউ লাভ মি”। সেদিনও অধরা উত্তর না দিয়ে একটু রাগ করে বললো, স্টুপিডের মত কথা বলবি না।‌ তুই চলে যা আমার লাইফ থেকে। নিরব চুপ হয়ে গেল। সেদিনের পর থেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে অধরা তার মোবাইলে আর কোনো “গুড মর্নিং” মেসেজ পেল না ‌। সে নক করলে নিরবের পক্ষ থেকে আসতো কাটা কাটা জবাব।

এর মধ্যেই অধরা একটা ফুলটাইম জব পেল। জব থেকে একটা বাড়িও পেল। এবার তার পায়ের নিচের মাটি একটু শক্ত হলো । এখন সে নিরবের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। অধরা ভাবলো এবার সে নিরবকে “হ্যাঁ” সূচক উত্তর দিবে।‌ এখন সে লাইফে রিস্ক নিতে পারবে। এবার অধরা নিরবকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বললো। নিরব রাজি হলো । অধরা আজ অনেক খুশি, আজ সে নিরবকে তার মনের কথা জানাবে । নিরবের অভিযোগ ছিল অধরা কখনো মন খুলে কিছু বলে না । মনের মধ্যে যেটা থাকে, সেটা সে কখনোই বলে না। কখনো একটু আধটু বলে ফেললেও আবার কথা ঘুরিয়ে নেয়। অধরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ সে কিছুই লুকিয়ে রাখবে না। মনের সব কথা বলে দিবে। ‌

অনেক পরিকল্পনা নিয়ে অধরা একটি লাল শাড়ি পরে নিরবের সাথে দেখা করতে গেলো।‌ হাতে ছিল লাল ও হলুদ গোলাপ । অধরা যখন নিরবের কাছে গেল, তখন দেখলো নিরব সুন্দর একটি মেয়ের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। তারা দুজনে ভীষণ হাসছে। খুব সুন্দর লাগছে তাদের দেখতে । অধরা আরো কাছাকাছি এগিয়ে যেতেই নিরব বলল, এই দেখতো আমার বউ কেমন হয়েছে। তুই বলেছিলি সুন্দর মেয়ে বিয়ে করতে। ‌ অধরা চমকে গেলেও সে ছিল পাকা অভিনেত্রী। সে নিজেকে সামলে দিয়ে হেসে বলল, শয়তান আমি জানিনা মনে করেছিস। এই নে তোদের জন্য ফুলের শুভেচ্ছা। এই কথা বলে ফুলগুলো দুজনের দিকে বাড়িয়ে দিলো। ভালো থাকিস তোরা। কথাগুলো বলেই অধরা বলল-আজ যাইরে, সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। ছেলেটি অধরাকে বললো, তোর ফোন আসছে না দেখেই বুঝেছি, তোর জীবনে কেউ আছে। অধরা হেসে বলল হ্যাঁ। সে অনেক ধনী, সুন্দর । তোর মতো ফকির না। ছেলেটি অধরাকে বললো, আমি কখনোই ফকির ছিলাম না, তুই শুধু বুঝিসনি। দেখ, তোর পছন্দের সব গয়না কিনে দিয়েছি আমার বউকে। অধরা বললো, খুব ভালো করেছিস। কখনো কষ্ট দিস না। এরপর আমি যাই রে বলে সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে পড়ল অধরা।

রাস্তায় নেমে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, তার চোখের কাজল গড়িয়ে পড়তে লাগলো গালে। একটা রিকশা নিয়ে বাসায় গিয়ে ডোর বেল বাজাতেই দিয়া দরজা খুলে দিলো। বললো, আম্মু তোমার জন্য পাস্তা বানিয়েছি, খাবা? অধরা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলো,
বলল, হ্যাঁ আম্মু খাব।

(নিউইয়র্ক থেকে)

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :172 বার!

JS security