গুলিতে বাবার মৃত্যু – মেয়ের বিয়ে অনিশ্চিত

গ্লোবাল ডেস্কঃ- বিয়ের হলুদ মাখার জন্য প্রস্তুত ছিলো মেয়েটি। বুধবার ছিল তার হলুদ পরার দিন। মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাবাও। তার আগেই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নতুন জীবনে পদার্পনের স্বপ্নে বিভোর মেয়েটি। মঙ্গলবার হরিপুরে বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিতে প্রাণ হারান বাবা সাদেক আলী। ফলে অষ্টাদশী স্মৃতি আকতারের বিয়ে এখন প্রায় অনিশ্চিত। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বহরমপুর গ্রামবাসীর মনে এখন মামলার আতঙ্ক। ওই ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।হরিপুরের বহরমপুর গ্রামের স্মৃতির বাবা সাদেক আলী। মঙ্গলবার বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষ চলাকালীন গুলিতে প্রান যায় সাদেকের। তার পরদিন বুধবার স্মৃতির গায়ে হলুদের দিন ছিল। সেজন্যই একমাত্র সম্বল গরুটি বিক্রি করতে যাচ্ছিল বাজারে। পথিমথ্যে এ নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ হারান এই অসহায় পিতা। পিতা হারিয়েছেন স্মৃতি। এখন তার বিয়েটাও অনিশ্চিত। এর মধ্যে পাকা হওয় যাওয়া সেই বিয়ের জন্য বরপক্ষও কোনো যোগাযোগ করেননি।

মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় প্রাণ যায় আরো দুজনের। তার একজন ১২ বছরের শিশু জয়নুল। তার বাবা নজরুল ইসলাম জানান, স্কুল থেকে ফেরার পর জয়নুল ওই ঘটনা দেখতে গিয়ে গুলির শিকার হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পানি পানি চিৎকার করে সেই পানিটুকুও পায়নি। এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে এই বালক।
ওই ঘটনায় প্রাণ যায় শিক্ষক নবাব আলীর। যার জন্য কাঁদছে গোটা বহরমপুর। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা তার পরিচিতি ছিল উপজেলাজুড়ে। তার ছাত্রছাত্রীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিদিন তিনি একশজন শিশুকে পড়াতেন বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।
বহরমপুর গ্রামে বুধবার চলছিল শোকের মাতম। বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখা গেছে মানুষের আর্তনাদ, কান্নার রোল। একই সাথে দেখা গেছে প্রতিবাদের ঝড়ও। ওই গ্রামের চাপাধা বাজারে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। তারা সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সাংসদ দবিরুল ইসলাম বহরমপুরে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন করেছে তদন্ত কমিটি। তিনদিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সদস্যদের গুলিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তদন্তসাপেক্ষে দোষী যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত তিনজনের মরদেহ বুধবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে মামলার আতংক বিরাজ করছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :75 বার!

error: Content is protected !!
JS security