গোলাপগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেষ্টা ব্যর্থ : গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: মধ্যরাতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি রেখে দুর্ধর্ষ ডাকাতির প্রচেষ্ঠা ব্যর্থ হয়েছে। বাড়ীর মালিকের বুদ্ধিমত্তায় ডাকাতদল পালিয়ে গেলেও গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে।

ঘটনাটি গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ কানিশাইল ভাড়েরা গ্রামে ঘটেছে। নিহত ডাকাতের পরিচয় জানা গেছে। তার নাম মাসুক (৩০)। সে উপজেলা যুবলীগের কর্মী এবং চিহ্নিত ডাকাত বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ কানিশাইল ভাড়েরা গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের পুত্র লুৎফুর রহমানের বাড়ীতে শনিবার রাত দিবাগত রাত ১১টায় একদল সশস্ত্র ডাকাত দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। তারা বাসায় ঢুকেই পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে রাখে। কৌশলে বাড়ীর মালিক লুৎফুর রহমান পেছন দিয়ে বাইরে এসে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা স্থানীয় মসজিদের মাইকে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষনা দিলে মুহুর্তেই গ্রামবাসী জড়ো হয়ে যায়। গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মূখে ডাকাতদল পালিয়ে গেলেও মাসুক নামের এক ডাকাত গ্রামবাসীর হাতে আটকে পড়ে। উপস্থিত গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ডাকাত মাসুক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তার লাশ রাতেই পুলিশ এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে নিহত ডাকাত মাসুক স্থানীয় উপজেলার যুবলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তবে সে চিহ্নিত ডাকাত হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত বলেও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে গণপিটুনিতে যুবলীগ কর্মী মাসুক নিহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গভীর রাতে লুৎফুরের রহমানের বাড়ীতে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটতরাজ চালায়। গভীর রাতে বাড়ী থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে বাড়ীটি তাদের দখলে নিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে।

এঘটনার ব্যাপারে বাড়ীর মালিক লুৎফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাড়ীতে গভীর রাতে ডাকাতি হলো। গ্রামবাসী এসে আমার পরিবারকে উদ্ধার করলো। গণপিটুনিতে চিহ্নিত ডাকাত মাসুক মারা গেলো। কিন্তু আওয়ামীলীগ নেতা মজির উদ্দিন চাকলাদারের পৃষ্ঠপোষক সশস্ত্র ক্যাডার যুবলীগ নেতা মালেক ও মনসুরের নেতৃত্বে ডাকাতির ঘটনার পরপরই গভীর রাতে আমার পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে আমার বাড়ীটি দখল করে রেখেছে। এটা কেমন দুঃসাহস। দেশে কি আইন ও বিচার বলে কিছু নাই। তিনি তার বাড়ীতে ফিরতে সাংবাদিক-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী সহ সকলের সহযোগিতা চান।

এদিকে এব্যাপারে আলাপকালে আওয়ামীলীগ নেতা মজির উদ্দিন চাকলাদার বলেন, লুৎফুর রহমান চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিষ্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। সে উপজেলা যুবলীগ নেতা মাসুক রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ডাকাতি ও গণপিটুনির নাটক সাজিয়েছে। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা একটি হত্যাকান্ড। আমি এর বিচার চাই।

গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই শিবলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন। কানিশাইল ভাড়েরা গ্রামে ডাকাতি এবং ডাকাত নিহতের খবর শুনে সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে। আইন হাতে তোলার অধিকার কারো নেই।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :157 বার!

JS security