ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সুনামগঞ্জের ৫টি হাওর তলিয়ে গেছে

স্টাফ রিপোর্টার :- ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে নদ-নদীর পানি বেড়ে ডুবল সুনামগঞ্জের হাওর। গতকাল শনিবার রাতে জেলার বৃহত্তম ৫টি হাওর ডুবে গেছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া হাওরের ৯৬ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি ৬ ভাগ ধান হাওরের কান্দা শ্রেণির (উচু) জমিতে ঝুঁকিমুক্ত আছে। তবে ধান কেটে রাখা ও শুকানোর জন্য খলাতে ফেলে না রেখে দ্রুত গোলায় তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওর ডুবে কান্দার জমিতে গড়ে তোলা অস্থায়ী খলা (ধান প্রক্রিয়াজাতকরণের মাঠ) ডুবে যাবে।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ফনির প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পানি নামছে ভাটির জনপদ হাওরে। আজ রবিবার সকাল ৬টায় সুরমা নদীর পানি ৫.৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৬.০৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেই অতিক্রম করবে বিপৎসীমা। এদিকে হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ উপচে পানি ঢুকে গতকাল শনিবার রাতে তলিয়ে গেছে তাহিরপুর উপজেলার শনি ও মাটিয়ান হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর, ধর্মপাশার সোনামোড়ল হাওর এবং সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর।
সূত্র আরো জানায়, সুরমা নদীর পানি ৫.৪৭ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই হাওরের বাধ উপচে পানি ঢুকে। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি ৫.৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বশির উদ্দিন সরকার বলেন, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারা ও ছাতক বাদে অন্য সব উপজেলার ধান কাটা হয়ে গেছে। এই তিনটি উপজেলায় সামান্য ধান উচু শ্রেণির জমিতে রয়ে গেছে। এ পর্যন্ত গড়ে ৯৬ ভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। যে ৫টি হাওর ডুবেছে সেগুলোর ধান কাটা হয়ে গেছে। সেই কাটা ধান খলাতে ছিল। আর অল্প ধান কান্দা শ্রেণির জমিতে কাটার বাকি আছে। এখন সব হাওর ডুবলেও ফসলের কোনো সমস্যা নেই। তবে ধান খলায় শুকানোর জন্য রাখা ধান দ্রুত গোলায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া বলেন, যে ৫টি হাওর ডুবেছে তা বাধ উপচে পানি ডুকেছে। কারণ ৫.৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে নদ-নদীর পানি বাড়লেই হাওরের সকল বাধের ডিজাইন লেভেল ঝুঁকিতে চলে যায়। যে কারণে বাধ উপচে ৫টি হাওরে পানি ঢুকেছে।
তিনি আরো বলেন, ডুবে যাওয়া হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। কেবল খলায় প্রক্রিয়া জন্য কিছু ধান জড়ো করে রেখেছেন কৃষক। নদ নদীর পানি বাড়বে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :233 বার!

error: Content is protected !!
JS security