ছাত্রদলের অভিযোগ,রিজভী বিএনপি কার্যালয়কে আবাসিক ভবনে পরিণত করেছেন

গ্লোবাল ডেস্কঃ-  দীর্ঘদিন পর দেশবাসী দেখলো বাহাদুর ছাত্রদলকে। যারা তাদের অভিভাবক দল বিএনপি অফিসে তালা লাগিয়েছে। এটা আবার যেই সেই অফিস নয়। একেবারে কেন্দ্রীয় অফিস। শুধু তাই নয়, ওই অফিসের বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা। বিকালে রিজভীকে পাহারা দেয়া আরেক ছাত্রনেতাকে পিটিয়ে সেখান থেকে বের করে দিয়েছে। অফিসের সামনে অবস্থানও নিয়েছে তারা। চমকে ওঠার মতো কাহিনী বটে।

ছাত্রদল এমন বাহাদুর হলো কীভাবে? বিশেষ করে গত পাঁচ বছর যেখানে বিএনপি নেতারা বাহাদুরের অভাবে আন্দোলন করতে সাহস পাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে বড় কোনো মিটিং মিছিল পর্যন্ত করতে পারেনি। সেখানে হঠাৎ করে ছাত্রদল বাহাদুর হয়ে দেখা দিলো কোন মন্ত্রণা পাঠে? ভাবতে অবাক লাগে যেখানে মানববন্ধন কিংবা মিছিলে ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী জোগাড় করতে বেগ পেতে হচ্ছে বিএনপিকে সেখানে বিএনপি অফিসে তালা দেয়ার সাহস পেলো কীভাবে তারা? না! এটাকে সাহস বললে ভুল হবে। বলতে হবে দুঃসাহস। এ দুঃসাহস তো তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেখা যায়নি আজ অবধি। এক বছরের বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি।

তার মুক্তির জন্য এক হাজার ছাত্রদল নেতাকর্মী এক হয়ে রাজপথে মাঠে নেমেছে- এমন নজির তো দেখাতে পারেনি তারা। ছাত্রদলের অভিযোগ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপি কার্যালয়কে আবাসিক ভবনে পরিণত করেছে। তারা রিজভীকে বিতাড়িত করে অনাবাসিক কার্যালয় করতে চায়। এ জন্য আনা হয়েছিল একটি এম্বুলেন্সও। যদিও পরে এম্বুলেন্সটি খালিই ফিরে যায়। বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বীর বাহাদুর ছাত্রদলের কিছু নেতা রিজভীকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে। এ সময় তর্ক-বিতর্কও হয়। পরে নিচে এসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটা ধরে নেয়া যায় বিএনপির নীতিনির্ধারক এখন ছাত্রদল। তারা যা বলবে তা-ই হবে। তবে একটা কথা বলতে হয়, রিজভীকে পছন্দ করুক আর না করুক তিনি ব্যতিক্রম। বিশ্বের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় বন্দি থেকে দিনের পর দিন প্রেস ব্রিফিং করে যাওয়ার ঘটনা নেই। যা রিজভী করে যাচ্ছেন। এ কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল।

জানালা ভেঙে ওই অফিস থেকে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। সে যাই হোক- নিজ দলের অঙ্গ সংগঠন থেকে যখন মূল দলের অফিসে তালা দেয়া হয় তখন বুঝতে হবে এই দলে শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। এখানে সবাই শেঠ। আর যে কারণে এটা করা হচ্ছে সেটা হলো- ছাত্রদলের কমিটিতে কোনো বয়সসীমা করা যাবে না। ধারাবাহিক কমিটি করতে হবে। বুড়া আর সন্তানের জনক হউক তাতে আপত্তি নেই। ছাত্রত্বেরও কোনো দরকার নেই। হাস্যকর দাবি। ছাত্রদলে স্থান পাবে ছাত্ররা-  এটাই নিয়ম। অছাত্র দিয়ে ছাত্রদল পরিচালনা করে তো দেখেছে সবাই। দলের কি হাল হয়েছে? ছাত্রদলের নেতারা হয়তো বলবেন আন্দোলন করতে গিয়ে মামলায় জর্জরিত তারা। আসলেই কি আন্দোলন করতে গিয়ে মামলায় জর্জরিত তারা? তাহলে তারাই কেন বলেন ভুয়া মামলার আসামি হয়েছেন। কোনো ঘটনা না ঘটলেও পুলিশ তাদের আসামি বানিয়েছেন? বাহাদুরি নিজ কার্যালয়ে না দেখিয়ে রাজপথে দেখালে বিএনপিকে এখন তিন নাম্বার দলে দেখা যেতো না। কমপক্ষে দুই নাম্বার দলে থাকতো বিএনপি।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :175 বার!

error: Content is protected !!
JS security