ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় প্রত্যাহার

গ্লোবাল ডেস্কঃ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের আইন উচ্চ আদালতে বাতিলের আদেশ মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হলেও তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরশাদ সরকারের আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে আইন করা হয়। এরপর উচ্চ আদালতের রায়ে ওই আইন বাতিল হয়ে যায়। আইনটি বাতিলের অনুমোদন দিতে দীর্ঘদিন পর সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে একটি খসড়া তোলা হয়। বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা যায়।এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের সচিব বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রাজনীতি বন্ধের বিষয়ে সামরিক শাসনামলে মন্ত্রিসভার যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা বাতিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তুললেও তা ফেরত দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিউল বলেন, মন্ত্রিসভা বলেছে, এটা পুরানো ইস্যু, পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। আরো অনেক ইস্যু আছে, সবগুলো আনতে হবে। একটা নিয়ে আলাপ করা ঠিক হবে না। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নিয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা বাতিল করতে হলেও মন্ত্রিসভায় আনতে হয়। সামরিক শাসনামলে প্রণীত আইনগুলোর মধ্যে যেগুলোর প্রয়োজন আছে তা যুগোপযোগী করে নতুন করে বাংলায় রূপান্তরে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। তবে সামরিক শাসনামলে প্রণিত যেসব আইন প্রয়োজন নেই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।মন্ত্রিসভা বৈঠকের সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে জানতে চান এখন কেন এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হলো? তখন শিক্ষামন্ত্রী জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বলা হয়েছিলো সামরিক শাসনামলের যেসব আইন আদালতে বাতিল হয়েছে সেগুলো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নিতে হবে। সে কারণেই এটি তোলা হয়। এ সময় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বৈঠকে বলেছেন, আদালত এটা বাতিল করেছে। উচ্চ আদালতে বাতিলের পর এটি বাতিল হয়ে গেছে। এর আর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায়োজন নেই।

সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে চান এর আগে আদালতে কোনো আইন বাতিলের পর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে- এরকম কোনো রেফারেন্স আছে কিনা। তখন আইনমন্ত্রী জানান, আদালতে বাতিলের পর আর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায়োজন নেই। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর খসড়াটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গত ২৫ ও ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কলকাতা সফর নিয়ে কথা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রসঙ্গটি তোলেন। সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার অথবা বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন।শাস্তি বাড়িয়ে বিএসটিআই আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন
বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বাড়িয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) আইন এবং জাতীয় পাটনীতি-২০১৮’এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই আইনের খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বিএসটিআই পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের কাজ করে থাকে। ১৯৮৫ সালের বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন অর্ডিনেন্সকে সংশোধন করে নতুন আইন করা হচ্ছে। তেমন বড় কোনো পরিবর্তন নেই, শাস্তিগুলো বাড়ানো হয়েছে। আগের আইনে লাইসেন্স ছাড়া কেউ স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ছিল। প্রস্তাবিত আইনে সেটাকে বাড়িয়ে কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ২ বছর বা জরিমানা এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। অর্থদণ্ড ২৫ হাজার টাকার নিচে হবে না। লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করে রফতানি নিষিদ্ধ পণ্য রফতানি করলে এক বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। জরিমানা হবে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। এই অপরাধের জন্য বর্তমান আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ডসহ এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। নিবন্ধন নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করলে তা বাজেয়াপ্ত করার বিধান প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে।

শফিউল জানান, পণ্য বিক্রয়, বিতরণ, বাণিজ্যিক বিতরণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘণ করলে চার বছর কারাদন্ড, বা ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। জরিমানা ৫০ হাজারের কম হবে না। এই অপরাধের জন্য আগে সাজা ছিল চার বছর কারাদন্ড বা ৭ হাজার থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড। কোনো অপরাধের জন্য এই আইনের কোনো ধারায় কাভার না করলে সর্বোচ্চ এক লাখ ও সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হবে। আগে কোনো ধারায় কাভার না করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হত। প্রস্তাবিত বিএসটিআই আইনে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আদেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আপিল করতে পারবেন।প্রস্তাবিত আইনে অন্যান্য অপরাধের দন্ড নামে একটি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো বিষয় আইনে সুনির্দিষ্টভাবে যদি না আসে তবে সেই বিষয়ে এই ধারার আলোকে বিচার করা যাবে। এই ধারায় অপরাধের জন্য শাস্তি ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা। আগেও এই ধারা ছিল, সেখানে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ছিল। এই আইনের অধীনে কেউ একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দ্বিগুণ শাস্তি পেতে হবে। তিনি বলেন, আইনের সাধারণ অপরাধগুলোর বিচার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হবে, দ্বিতীয়বারের অপরাধের বিচার হবে দায়রা আদালতে।

জাতীয় পাটনীতি অনুমোদনমন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, পাঁচটি বিষয়কে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিয়ে মন্ত্রিসভা জাতীয় পাটনীতি-২০১৮’ অনুমোদন দিয়েছে। ২০১১ সালে পাটনীতি করা হয়, সেটাকে যুগোপযোগী করে নতুন করে করা হয়েছে। আগেরটার থেকে বেশি বড় পার্থক্য নেই। কিছু নতুন সংযোজন আছে। আগে সংজ্ঞা দেওয়া ছিল না, নতুন করে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আগে ভিশন অনেক বড় ছিল, প্রায় এক পৃষ্ঠা। এখন ভিশনে বলা হয়েছে- দেশে বিদেশে প্রতিযোগিতা সক্ষম শক্তিশালী পাটখাত প্রতিষ্ঠা। মিশন হল- উৎপাদশীলতা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বহুমূখী পাটপণ্য সৃজন করা। নতুন পাটনীতিতে মানসম্মত পাট উৎপাদন, পাটের নায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, পাটপণ্যের বহুমূখীকরণ, পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং পাটের বাজার সম্প্রসারণকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।শফিউল বলেন, জাতীয় পাটখাত সমন্বয় কমিটিকে নীতিমালার মধ্যে আনা হয়েছে, এই কমিটিকে আগে পরিশিষ্টে রাখা হয়েছিল। এছাড়া পাট, পাটজাত পণ্য, বহুমূখী পাটজাত পণ্য, পাট ব্যবসায়ীসহ কয়েক বিষয়ের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :253 বার!

JS security