জুড়ীতে বিএনপি নেতা কর্তৃক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 


স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম কর্তৃক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন সাগরনাল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে দ্বিতীয় বারের মত নির্বাচিত ইউপি সদস্য মঈনুল ইসলাম জুনেদ। সোমবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় মিনি স্টার রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত এই ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করছে। মিথ্যা সাক্ষী সাজিয়ে তাদেরকে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে শিখিয়ে দেওয়া মুখস্ত কথা বার্তা প্রচার করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা এক ধরনের অপরাধ। সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ সাগরনাল ৮নং ওয়ার্ডে যুগ যুগ ধরে হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানে বসবাস করে আসছেন। এখানে হিন্দুদের পূজা-পার্বণে মুসলমানদের যেমন সরব উপস্থিতি থাকে, তেমনি মুসলিমদের উৎসবগুলোতে হিন্দুরাও আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ সাগরনাল ওয়ার্ডে অতীতে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি ‘হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই’ এই সুন্দর ‌সহাবস্থানের দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামকে অশান্ত করে না তোলার আহ্বান জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পরাজিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম নির্বাচনের আগেও একাধিকবার আমাকে সাজানো ঘটনার মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে আমার সোর্স মারফত আগেই খবর পেয়ে যাওয়ায় তারা আমাকে বিপদে ফেলতে পারেনি। পরবর্তীতে নির্বাচনে পরাজিত হয়ে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে মিথ্যে সাজানো অভিযোগের মাধ্যমে আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। আমি এমন কুরুচিপূর্ণ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গত ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ৮নং ওয়ার্ডের ঘোষিত ফলাফলে আমি বিজয়ী হবার পর তা মেনে নিতে পারেননি পরাজিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে তিনি মিথ্যা ও সাজানো পরিকল্পনা করে তারা নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে তা মিডিয়ার কাছে উপস্থাপন করে। তারা যে নিজেরাই নিজেদের বাড়ি ঘরের বেড়া ভাঙচুর করেছে আমাদের কাছে তার যথেষ্ট প্রমাণ ও খবর রয়েছে। বিজয়ের আনন্দে আমার কর্মী-সমর্থকরা কিছু মিছিল দিয়েছে কিন্তূ বিরোধী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের শারীরিক নির্যাতন, ঘর-বাড়ীতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা-ভাংচুরের মতো কোনো ঘটনার সাথে আমার কর্মী সমর্থকরা জড়িত ছিল না।‌ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই তারা নিজেরাই ভাঙচুর করে তা আমার কর্মী-সমর্থকদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে।‌ ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা লালটু শুক্ল বৈদ্য, শিল্পী শুক্ল বৈদ্য যে মিথ্যা ও শিখিয়ে দেওয়া বক্তব্য মিডিয়ায় দিয়েছেন তার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। প্রমাণ হিসেবে লালটু শুক্ল বৈদ্য আজ সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি স্বীকার করে।

এ সময় তিনি বলেন, পরাজিত প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, আমার কর্মী সর্মথকরা – তাদের কর্মী সমর্থকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে, আমার ভয়ে নাকি তাদের কর্মী সমর্থকরা আত্মগোপনে আছে, বাজারে যেতে পারছে না – এই কথাগুলো সত্যি হাস্যকর। ‌আমার কর্মী সর্মথকরা কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেনি এসব ডাহা মিথ্যা কথা।‌ ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আনোয়ার হোসেনের ছেলে হাসান আরাফাত আমার সমর্থক আমীর উদ্দিনের ছেলে শাহাব উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করেছে ।

জুনেদ আহমেদ বলেন, আমি আমার ওয়ার্ডে সবাইকে নিয়েই মিলেমিশেই আছি। আমার গত পাঁচ বছরের মেয়াদে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমি কাউকে হয়রানি করেছি এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না । পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী সাইফুল ইসলামের ঘর-বাড়ী তছনছ করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনো সত্যতা নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে এই ব্যাপারে সঠিক খবর পাওয়া যাবে। ‌ একটি একটি বিষয় আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে, তা হলো – সাগরনাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মাখন একজন বিএনপি নেতার পক্ষ নিয়ে কিভাবে মিডিয়ার সামনে হাজির হন তা আমার মাথায় আসছে না। ‌

লিখিত বক্তব্যে জুনেদ আহমেদ আরও বলেন, জনতার রায়ে আমি যদি হেরে যেতাম তবে তা মাথা পেতে মেনে নিতাম। মেম্বার না হলেও আমি আজীবন আমার এলাকার মানুষের সেবা করে যেতাম। জনগন মনে করেছে আমাকে পূণরায় নির্বাচিত করা দরকার তাই আমাকে জয়যুক্ত করেছে। আমি আমার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীকে বলতে চাই- জনগনের রায়কে সম্মান দিতে শিখুন; সম্মান পাবেন। হীন উদ্দ্যেশ্য চরিতার্থ করতে গিয়ে শান্ত দক্ষিণ সাগরনালকে অশান্ত করবেন না। ‘হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই’ এই সুন্দর ‌সহাবস্থানের এলাকাকে অশান্ত করে তুলবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও আওয়ামীলীগের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে জুনেদ আহমেদ বিষয়গুলো তদন্ত পূর্বক চক্রান্তকারিদের বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে দক্ষিণ সাগরনালের সাধারণ মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা কুটন মিয়া, সবুর মিয়া,
আলতাফ হোসেন, আমির হোসেন, সবুর মিয়া, লালটু শুক্ল বৈদ্য, যুবলীগ নেতা আব্দুল হাসেম প্রমুখ।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :225 বার!

JS security