তাহিরপুরে শিশু হত্যা: দাদা-চাচা-ফুফুসহ সাতজন কারাগারে

তাহিরপুর প্রতিনিধি:– পারিবারিক বিরোধের জেরে তাহিরপুরে তোফাজ্জল নামে এক শিশুকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক দাদা, চাচা ও ফুফুসহ সাতজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রবিবার দুপুরে তাহিরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভজিত পাল এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন ওই ঘটনায় শুনানির কথা থাকলেও একজন আইনজীবীর মৃত্যুতে বিচারকার্য চলেনি। পরে ম্যাজিস্ট্রেট শুভজিত পাল তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বেলা ১২টায় তাহিরপুর থানা থেকে তাদের আদালতে পাঠায় পুলিশ।

আটকৃতরা হলেন, উপজেলার সীমান্ত গ্রাম বাঁশতলার নিহত শিশু তোফাজ্জলের চাচা হাফেজ সালমান হোসেন (২২), লোকমান  হোসেন (২০), ফুফু শিউলি আক্তার (১৮), ফুফা সেজাউল কবির (২৫) তার বাবা কালা মিয়া (৫০), হাবিবুর রহমান (৬৫) ও তার ছেলে রাসেল।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আতিকুর রহমান জানান, পূর্ব বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমার জের ধরে শিশু তোফাজ্জলকে হত্যা করার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করেছিল পুলিশ। নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত তোফাজ্জল উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের সীমান্তগ্রাম বাঁশতলার জুবায়েল হোসেনের ছেলে ও বাঁশতলা দারুল হেদায়েত মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জেলার দিরাইয়ে তুহিন নামে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তার কান দুটি কাটা ছিল, পেটে ঢোকানো ছিল দুটি ছুরি। তদন্তের পর পুলিশের দাবি, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিবারের লোকজনই তুহিনকে হত্যা করে।

ওই ঘটনার কয়েক মাস না যেতেই ঘটল তাহিরপুর উপজেলায় সীমান্তে মাদ্রাসায় পড়ুয়া সাত বছর বয়সী শিশু তোফাজ্জল অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড। নিখোঁজের পর অপহরণ সন্দেহে পরিবারের পক্ষ হতে দাদা জয়নাল আবেদীন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশ ওই শিশুর সন্ধান পেতে দেশের সব থানায় তার বার্তা ও ই-মেইল পাঠায়।

নিখোঁজের চারদিন পর গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সীমান্তে বাঁশতলা গ্রামে বস্তাবন্দি অবস্থায় তোফাজ্জল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাত বছরের শিশু তোফাজ্জল অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে থানা পুলিশ সকালেই কালা মিয়া ও তার ছেলে সেজাউল কবিরকে আটক করে। পরে দাদা, চাচা, ফুফুসহ আরো পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এ পর্যন্ত সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে তাহিরপুর থানা পুুলিশ।

নিহত শিশুর বাবা জুবায়েল জানান, আটক কালা মিয়ার ছেলে সেজাউল কবিরের সঙ্গে নিহত শিশু তোফাজ্জলের ফুফু শিউলি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে শিউলিকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলাকালীন অবস্থায় গত বুধবার নিখোঁজ হয় শিশু তোফাজ্জল। এরপর অপহরণকারীরা শুক্রবার সকালে চিরকুট লিখে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দেয়ায় তোফাজ্জলকে হত্যা করা হয়।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, অধিকতর তদন্ত ছাড়া শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত রয়েছেন সে ব্যাপারে কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :259 বার!

JS security