তিনবার মন্ত্রী হয়েও সম্পদ কমেছে যার

                                      ফাইল ছবি

গ্লোবাল ডেস্কঃ-সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তিন মেয়াদে মন্ত্রী থাকার পরেও সম্পদ ক্রমাগত কমেছে তার। মৃত্যুকালে পৈতৃক বাড়িটি ছাড়া আর কোন বাড়ি, ফ্ল্যাট কিছুই ছিল না।উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গুলশানের বাড়ি বিক্রি করেছেন স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যে। স্ত্রীকে লন্ডন থেকে জার্মানীতে চিকিৎসার জন্য টাকা যোগাড় করতে গিয়ে বিমানের টিকেট পিছাতে হয়েছিল দুইবার। সরকারি বরাদ্দের প্লট নেননি, নেননি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধাও।তিনিই সৈয়দ আশরাফ। মহান নেতা, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান। সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। রাষ্ট্রপতির ছেলে হয়েও রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতির ছেলে হয়েও শুকনো রুটি খেয়েছেন, স্টেনগান হাতে মাটিতে বুকে ভর দিয়ে যুদ্ধ করেছেন।ইন্ডিয়ার জেনারেল উবান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তার বইয়ে যে সাদামাটা, শান্ত আর বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ যোদ্ধা আশরাফের কথা বলেছিলেন, তিনিই এই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।সেই সৈয়দ আশরাফ ৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিলাতে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে লেবার পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। অথচ হওয়ার কথা ছিল ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি। ১৯৯৬ সালে উনাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন শেখ হাসিনা। তারপর একাধারে ২২ বছর পার্লামেন্টারিয়ান।শেখ হাসিনার নির্দেশে এমন এক এলাকায় নৌকার জয় ফিরিয়ে এনেছিলেন যার রানিং এমপি ছিল আলবদর তাত্ত্বিক আতাউর রহমান খান। যে খালেদা জিয়াকেও পরোয়া করতো না। তারপর, সৈয়দ আশরাফ ৯৬- এ বিমান প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন।আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন ওয়ান ইলেভেনের পর। শেখ রেহানার স্বামী ডক্টর শফিক সিদ্দিকী তার এক লেখায় বলেছিলেন- কিভাবে বিপর্যস্ত জিল্লুর রহমান শেখ রেহানাকে দিয়ে অনুরোধ করিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে অনুরোধ করেছিলেন। সেই দিন, এই দুইজনের জন্য বেঁচে গিয়েছিল আওয়ামী লীগ।বই পড়তে ভীষণ ভালবাসতেন, প্রযুক্তিপ্রেমী আর কর্মী বান্ধব লোক ছিলেন উনি। দলের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়ে। কাজ ভাগ করে দিয়েছিলেন, ৩ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের হাতে। স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন ক্যামেরাবাজির বাইরেও সেক্রেটারির কাজ থাকে।সততার প্রতীক সৈয়দ আশরাফ। জাগতিক সম্পদের মোহ তাকে ছুঁতে পারেনি। ব্যক্তিগত জীবনে উদাসীন, দলের জন্য অন্তঃপ্রাণ এই মানুষটাকে নিয়ে দল-মত ভুলে গিয়ে ভেবে দেখুন, কী হারালাম!——— শত বছরে এমন রাজনীতিবিদ কালেভদ্রেই আসেন এই ভূখন্ডে!

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :433 বার!

JS security