দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সেই সেতু বাঁশ নয় সাটারে সার্পোটের জন্য ব্যবহার হয়েছে বাঁশের চোঙ্গা –তদন্ত কমিটি

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সেই সেতু পরিদর্শন করলেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক রডের পরিবর্তে বাঁশ নয় সাটারে সার্পোটের জন্য ব্যবহার হয়েছে বাঁশের চোঙ্গা –তদন্ত কমিটি

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে শহীদ মিয়া:-
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব বীরগাঁওয়ের সেই সেতু প্ররিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পকল্প পরিচালক সওদাগর মুস্তাফিজুর রহমান। মঙ্গলবার দুপুর দেড় টায় উপজেলার বীরগাঁও-হাঁসকুড়ি গ্রামের সংযোগ সড়কের এ সেতু পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বীরগাঁও সেতুতে ‘রডের বদলে বাঁশ’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে যে সংবাদ প্রাশিত হয়েছে তা আমাদের নজরে আসে। আজ (মঙ্গলবার) এ সেতু পরিদর্শনে আসি। এসে দেখলাম যে, প্রকৃত পক্ষে রডের পরিবর্তে কোনো বাঁশের ব্যবহার হয়নি। বন্যার সময় সেতুর কাজ চলাকালীন সময়ে উইং অংশের সাটার আটকানোর জন্য ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা বাঁশের চোঙা ব্যবহার করা হয়েছে যা ঢালাই শেষে খোলে ফেলার কথা ছিলো। কিন্তু তা তারা খোলেন নি। বন্যার পানিতে সেতু কিছুটা ওয়াস আউট হলে যার কিছু অংশ এখন দৃশ্যমান হয়েছে। এই বাঁশের অংশকেই রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আমরা এখানে এসে সেতুর বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে দেখেছি, আসলে রডের বদলে এখানে কোনো বাঁশের ব্যবহার করা হয়নি। মূলত এই বাঁশ সাটার আটকানোর জন্য সাপোর্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে তারা প্লাস্টিকের পাইভ ব্যবহার করতে পারতেন।’পরিদর্শন কালে উপস্থিত ছিলেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন, বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী সজীব কুমার চক্রবর্তী, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহকারী প্রকৌশলী মুহিদুল ফারুক, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল হক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ভূঁঞা, ঠিকাদার মো, রাজীব আহমদ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মুজাহিদ মিয়া প্রমূখ। অপরদিকে গণমাধ্যমে সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত ২৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কর্তৃক ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি উক্ত সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটির আহবায়ক জেলা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো: ইমরান হোসেন, সদস্য নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হারুন রশীদের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনেও একই কথা চলে আসে রডের পরিবর্তে সেতুতে কোন বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। ৮-১০ টি বাঁেশর চোঙ্গা ব্যবহার করা হয়েছে সাটার আটকানোর জন্য। উল্লেখ্য যে, গত বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হাঁসকুড়ি-বীরগাঁও রাস্তার জিল্লুর মিয়ার বাড়ির সামনে এ সেতুর নির্মাণ কাজ করা হয়েছিলো। সেতুটি মেসার্স স্মাট এন্টারপ্রাইজ নির্মাণ করে। এ বছর সেতুর কিছু অংশ ভাঙলে বাঁশের চোঙা দেখা গেলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :361 বার!

JS security