দিরাইয়ের ভরাম হাওড়ে পানি ঢুকছে ফলে হুমকিতে সীমান্তবর্তী ২টি হাওড়

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের পাশে নোয়াখালের পূর্বপাশে নদীর তীর উপচে ভরাম হাওড়ে পানি ঢুকছে। পানি ঢুকা বন্ধ করতে না পারলে হুমকিতে পরবে এ হাওড়ের সীমান্তবর্তী আরও দু’টি হাওড়। একটি উপজেলার  উদগল এবং অপরটি শাল্লা ও খালীয়াজুড়ি উপজেলার ছায়ার হাওর। এ দুটি হাওরে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর বোর চাষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১/০৪/২২) ভোর থেকে পানি ঢুকলেও তা ঠেকাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবোর লোকজন আসলেও স্থানীয় কৃষকরা বাঁধ নির্মাণে কেউ যোগদেননি এমন অভিযোগ পাউবোর। কৃষকরা বলছেন দিনের বেলা নিজের জমিতে ছিলেন এবং সন্ধ্যার পর থেকে তারা বাঁধের কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভরাম হাওরে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোর আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত কৃষকরা ৪০-৫০ ভাগ ফসল কাটতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে পাহাড়ী ঢলের পানি নেমে আসায় নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করলেও কৃষকরা বলছেন পাউবোর বাঁধ নির্মানে অনিয়ম, দুর্নীতি, নাব্যতা হারোনো নদীগুলো খনন না করা। এ ছাড়া পূর্বের মতো খনন করে কালনীর সাথে কুশীয়ারা নদীর সংযোগ স্থাপন করলে পাহাড়ী ঢলের পানি সহজে নিষ্কাশন হতো বলে তারা দাবী করেন। ভরাম হাওড় পাড়ের ধল চান্দপুর গ্রামের কৃষক আনাসুর রহমান বলেন তিনি এ হাওরে ৫০ কেয়ার জমি আবাদ করেছিলেন। ফসলহানীর আশঙ্কায় তিনি আধা-পাকা ২৭ কিয়ার জমির ফসল কাটতে সক্ষম হয়েছেন। যা শ্রমিকের মজুরি দিয়ে তার কিছুই থাকবে না। কৃষক আনাস বলেন কুশিয়ারা নদীর সাথে কালনীর সংযোগ থাকলে এমন অবস্থা হতো না। এ হাওর পাড়ের শাল্লা উপজেলার খাসিপুর গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া জানান, এ হাওরে তাঁর ২০ কেয়ার জমি রয়েছে । কিন্তু নিজে চাষ করেন নাই। তার কাছ থেকে নেওয়া বর্গা চাষী মাত্র ৬ কেয়ার জমি কাটতে পেরেছেন। এ ছাড়া তিনি বলেন এ হাওড় পানিতে তলিয়ে গেলে শাল্লা ও খালীয়াজুড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওর হুমকিতে পরবে। এর মধ্যে বড় হাওড় খ্যাত ছায়ার হাওড়ও রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ.টি.এম মোনায়েম হোসেন বলেন, নদীর পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর পাড় উপচে হাওরে পানি ঢুকছে। এখানে সকাল থেকে এসেছি। কিন্তু বাঁধের কাজে সহযোগিতার জন্য কোন কৃষক বা শ্রমিক আসেননি। সন্ধ্যার পরে কিছু কৃষক-শ্রমিক বাঁধে কাজ করতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া এখানে এক্সাভেটর মেশিন সিলেট থেকে আনা হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পৌঁছে যাবে । রাতেই তিনি পানি ঢুকা বন্ধ করতে পারবেন বলে আশ্বস্থ করেন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :79 বার!

JS security