দিরাইয়ের সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবণটি ঝুঁকিপূর্ণ

গ্লোবাল ডেস্ক :- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার  তাড়ল ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের সন্তোষপুর সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণপাশে হাওর আর উত্তর পাশে চাম্টি নদী অবস্থিত। উত্তর পাশে নদীর পানি আর নৌকার ঢেউয়ে দিন দিন মাটি ভেঙ্গে পড়ছে। স্কুল ভবনের খুঁটির সাথেই বড় জাম গাছের শেখর, সরে গেছে  বিদ্যালয়ের সবকটি খুঁটির নিচের মাটি। এইভাবে আর বছর দু – এক পার হলে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি আব্দুস ছাত্তার। তিনি বলেন আমরা মাসিক মিটিংএ বিগত কয়েকবার শিক্ষা অফিসার আব্দুল হালিম , সহকারী শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার রায় ‘র সাথে আলোচনা করেছিলাম। উনারা আশ্বাস দিলেও ক্ষুদ্র মেরামত ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কাজের কোন অগ্রগতি নেই।

সন্তোষপুর গ্রামের মধ্যে এই বিদ্যালয়টি হাওর পাড়ের হাজার শিক্ষার্থীদের বসবাসরত একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যালয়টি অন্য গ্রাম থেকে সংযোগবিহীন এবং নদির অন্য পাড়ে অবস্থিত। পারাপারের কোন ব্রীজ বা বাঁশের সেতু না থাকায় ছাত্ররা প্রতিদিন শ্রেণীর পাঠদানে অংশগ্রহণ করতে পারেনা। যার দরুন পাঠদানে ছাত্রদের উপস্থিতি কম ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও কম হয়ে থাকে। বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র – ছাত্রী ২৮০ জন। তাদের মধ্যকার বেশিরভাগ ছাত্র নদীর ওপার থেকে এপাড়ে নৌকায় পার হয়ে পড়তে আসে। তাতে প্রায় সময়ই দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয় ও নৌকা ডুবে পানিতে ভেজে বই ও কাগজপত্র নষ্টও হয়ে থাকে বলে অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের।

বিদ্যালয়ের নিচে একটি টিউবওয়েল থাকলেও তা এখন ব্যবহার অযোগ্য ও বিপদজনক স্হানে রয়েছে।টিউবওয়েলের নিচের মাটি না থাকায় তাও এখন ধ্বংসের মুখে। যে কোন সময়ই টিউবওয়েলের পাকাস্হ ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই সকল সমস্যা জনিত কারণগুলি বিষয়ে জানতে চাইলে সত্য প্রবাহ প্রতিনিধিকে প্রধান শিক্ষিকা মহসেনা চৌধুরী জানান, আমি ২০১৭ সাল থে‌কে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর দরখাস্ত ও আলোচনা করে থাকি কিন্তু তাতে কোন ফলপ্রসূ কাজ বা উন্নতি হয়নি।

২০১৮ ইংরেজিতে ক্ষুদ্র মেরামতের নগদ ৫০ হাজার টাকার কাজ হলেও আশানুরূপ কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি বলে জানান সাবেক বিদ্যালয় অভিভাবক কমিটির সদস্য মোস্তফা মিয়া।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আব্দুল হালিম জানান ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য ডিপিও বরাবর আবেদন পাঠানো হয়েছে। বাজেট পাশ হলেই কাজ শুরু হবে। 

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :175 বার!

error: Content is protected !!
JS security