দিরাইয়ে আব্দুল করিম যাদুঘর উদ্বোধন সম্পন্ন

দিরাই প্রতিনিধি:-সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে বাউলের বসত ভিঠায় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শাহ আব্দুল করিম স্মৃতি যাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও টেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) এর যৌথ অর্থায়নে যাদুঘরের উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় বাড়ীর আঙ্গীনায় এক উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। টিএমএসএস’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে ও টিএমএসএস এর পরিচালক রেজাউল করিমের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান।বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মুখ্যসচিব ও পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিম, রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জুবায়দা বেগম, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল আলম, পিকেএসএফ এর সাধারণ পরিষদ সদস্য প্রফেসর শফি আহমদ, বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জামিল
চৌধুরী, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম, ইউরোপবাংলা চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক শফিকুল ইসলাম, টিএমএসএস এর ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা নাজমা আক্তার জলি, তাড়ল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম পুত্র শাহ নুর জালাল,টিএমএসএস’র উপ নির্বাহী পরিচালক আব্দুল কাদের, পিকেএসএফ’র উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক জমির উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খলিকুজ্জামান বলেন, বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিম বাঙ্গালীর সম্পদ, এরকম সম্পদ একটি দেশে বেশী পাওয়া যায়না। মানুষের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, মানুষের উন্নয়নে সাংস্কৃতি যেমন আছে শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবকিছু মিলিয়েই কিন্তু উন্নয়ন। সেজন্য চিন্তার উন্নয়ন দরকার। চিন্তার উন্নয়ন নিয়েই মানুষ জন্মায়, সে কিভাবে বিকশিত হবে তা তার চিন্তারউপরই নির্ভর করে। সেই চিন্তাটা আমাদের অনেকের মধ্যেই নেই। আমরা মনে
করি একটি স্কুল কওে দিলেই শিক্ষা হয়ে গেল। উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রী নিলেই পুরোপুরি মানুষ হওয়া যায়না, মানুষ হতে হলে মানুষের সন্ধান করতে হবে।তার মধ্যে মূল্যবোধ ও উচ্চ চিন্তার শক্তি থাকতে হবে। শাহ আব্দুল করিম তিনি শুধু বাউল নন, তিনি গানে গানে মানুষের চিন্তার কথা তুলে ধরেছেন।তিনি লিখনির মাধ্যমে দারিদ্রের কথা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা-সমাজ ব্যবস্থার কথা, পিছিয়ে পরা মানুষের কথা, বিভাজনের কথা, দেশাত্মবোধের কথা তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে শাহ আব্দুল করিমের গান সুরকে সংরক্ষনের দাবি জানান তিনি। আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম রচিত গানের অনুষ্ঠান। চলে বিকেল পর্যন্ত। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাউল আব্দুর রহমান, রনেশ ঠাকুর, সিরাজ উদ্দিন, প্রাণকৃষ্ণ, আশিক সরকার ও
বাউলিয়ানা ফয়সলসহ হিট বাংলাদেশ শিল্পীগোষ্টী।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :423 বার!

JS security