দিরাইয়ে ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে ধুম্রজাল-এলাকাবাসীর মতামত উপেক্ষিত-Global-Sylhet

সোয়েব হাসান-গ্লোবাল ডেস্ক :- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধল বাজারস্থ ৬০বছরের পুরোনো ইউনিয়ন ভুমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতামতকে উপেক্ষা করে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, অনিরাপদ ও ঝুকিপূর্ণ
একটি স্থানে রহস্যজনক ভাবে এ ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে এই ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। গতকাল শুক্রবার সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান পুরোনো ভূমি অফিসটি ধল বাজারের উত্তর-পশ্চিমে সরকারী প্রায় ৫ শতক ভূমির উপর দাড়িয়ে আছে। দীর্ঘকাল ধরে এভূমি অফিসটি ৩৫ বর্গ মাইল আয়তনের তাড়ল ও কুলঞ্জ ইউনিয়ন দুটির ৩৫টি মৌজার মানুষদের সেবা দিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এর পাশ্ববর্তী রয়েছে পোষ্ট অফিস, ব্রাক অফিস, গ্রামীণ ব্যাংক, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, তাড়ল ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, ধল হাই স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্টান।  রয়েছে বিদ্যুতের সুব্যাবস্থা সহ উৎসব মুখর পরিবেশ। আপরদিকে ধল বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পূর্বে উজান ধল ও কাদিরপুর গ্রামের হাওর বেষ্টিত মধ্যবর্তী স্থানে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এ ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এখানে মানুষ চলাচলের জন্য এখনও রাস্তাঘাট গড়ে উঠেনি। নেই কোন আশ-পাশে সরকারী বা আধাসরকারী প্রতিষ্টান অথবা বাজার। এক কৃষক পরিবারের ছোট্ট একটি ঘর ছাড়া পাশ্ববর্তী কোন বাড়ি- ঘর নেই। বর্ষায় থাকে অথৈ পানি। এর অতি নিকটে রয়েছে তোফান খালীর মতো ঝুকিপূর্ণ একটি গভীর খাল। এ খাল দিয়ে বর্ষায় আছড়ে পড়ে হাওরে নদীর পানি। হেমন্তে এখানে গরু চড়ে। রাতব্যাপি নীরব-নিস্তব্দ এ স্থানের প্রধান আকর্ষন করিম লোক উৎসব। এ উৎসবের সময় বছরে তিন দিন এ স্থান সরব হয়ে
উঠে।   এলাকাবাসী জানান, নতুন ভবন নির্মাণের নামে অতিরিক্ত জায়গার অযোহাতে ২০১৭ সালের প্রথম দিকে তাদের অগোচরে ভূমি অফিসটি অন্যত্র স্থানান্তরের একটি নীরব পরিকল্পনা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে,এলাকার মানুষ নতুন ভবন নির্মাণে জনস্বার্থে ধল বাজারের নিস্কন্টক প্রয়োজনীয় ভূমি দেয়ার অঙ্গীকার করে ০৫/০১/২০১৭ইং দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ২২/০১/২০১৭ইং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর তারা আবেদন করেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ১২/০২/২০১৭ইং তারিখে ধল বাজারের নিস্কন্টক ১০ শতক ভূমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবরে দান করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে রাজা মিয়াকে নির্দেশ প্রদান করেন। যার স্মারক নং০৫.৪৬.৯০০০.০০৮.২৫.০০২.১৬-৪২৩(৪)। এর সূত্র ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরজমিনে তদন্তে এসে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ধল বাজারের নিকটস্থ ইউনিয়ন অফিসের পাশে পিলার কূপে উক্ত জায়গা চিহ্নিত করেন। ফলে নির্দেশ মতো এলাকাবাসী তাদের মালিকানা সম্পত্তি থেকে ১২ শতক চিহ্নত ভ’মি নিজ খরচে রেজিষ্টারিমূলে স্থানীয় তহশীলদারকে সামনে রেখে ২২/০২/২০১৭ইং তারিখে জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ বরাবরে দান করে নতুন ভবনের জন্য প্রতিক্ষায় থাকেন তারা। এদিকে রহস্যজনক ভাবে ধল বাজার বেষ্টিত নির্ধারীত স্থানে ভবনটি না হয়ে হাওর বেষ্টিত অনিরাপদ তুফান খালের নিকটে নির্মাণের এ কাজটি করার গত মাসে দায়িত্ব পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্টান হক এন্টার প্রাইজ। এ প্রতিষ্টানের সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৮/০৯/১৮ইং তারিখের টেন্ডারে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের এ নতুন ভবনের কাজটি তারা এ সপ্তাহেই শুরু করতে চান। তা নির্মানে বালু, পাথর, সিঙ্গেলসহ মালামাল ঠিকাদার তুলছেন যথাস্থানে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষের প্রধান উদ্যাগক্তা রাজামিয়া তালুকদার জানান, ভাবতে অবাক লাগে, ডিসি স্যার আমাদের জায়গা নিলেন অথচ ভবন দিলেন না। তাড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ বলেন,
শুরু থেকে আমি এলাকাবাসীর সুবিধার পক্ষে। ধল বাজারকে কেন্দ্র করে অনেক প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে। তাই বাজারের পাশে থাকলে জনগন এ অফিসের কাজ করতে গিয়ে প্রয়োজনে অন্য অফিসেরও সুবিধা নিতে পারবে। কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, দীর্ঘ দিন থেকে আমরা উৎসব মুখর পরিবেশে দুই ইউনিয়নের মানুষ ধল বাজারের ভূমি অফিসে ভূমির খাজনা দিচ্ছি। এ জন্য উক্ত স্থানটি দু’ইউনিয়নের মানুষের সেতু বন্ধন হিসাবে কাজ করে। তাই এখানে অফিসটি থাকবে বলে তিনি আশা করেন। তাড়ল ইউনিয়নের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান আকিকুর রেজা (পুলিশ) এবং নূরুল হক তালুকদার সহমত পোষন করে বলেন, ধল বাজার আমাদের এলকার একটি প্রাণ কেন্দ্র আর বাজারকে কেন্দ্র করে  অনেক প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে। এ স্থান থেকে গণ বিচ্ছিন্ন তুফানখালের মুখে এ অফিসটি স্থানান্তর হলে জন দূর্ভোগ বাড়বে এবং মানুষের প্রত্যাশার বিপরীতে প্রতিষ্টানটি গড়ে উঠবে বলে তারা উল্লেখ করেন। ধল চান্দপুর গ্রামের প্রবীন মুরব্বী মক্তিযুদ্ধা সামছুল আলম মিয়া জানান, স্বাধীন দেশের মানুষ বেশী বেশী সুবিধা ভোগ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তুু বাজার থেকে অন্যত্র অফিসটি গেলে জনদূর্ভোগ বাড়বে এবং অনিরাপদ থাকবে অফিস।
তাড়ল ইউনিয়নের আওমীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আইদুল্লা মিয়া বলেন, আমাদের শেখ হাসিনার সরকার দেশের মানুষের সুবিধা এবং শান্তি চান।   এ
অফিস পরিবর্তনের মাধ্যমে এলাকার শান্তির পরিবেশ বিঘ্নীত হলে এর দায়ভার কতৃপক্ষকে নিতে হবে। এছাড়া বাজার থেকে ৬০ বছরের পুরোনো
অফিস অযুক্তিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এলাকার শান্তি বিনিষ্ট হওয়ার একটি নীল নকশার অংশ বলে এলাকার সমাজ কর্মী আকমল হোসেন মনে করেন। এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দরখাস্ত পেয়েছি এবং উভয় জায়গা পরিদর্শন করেছি।  এলাকার মানুষের দাবী যুক্তিযুক্ত। কিন্তুু কাজটি অন্যত্র হওয়ার জন্য কার্যাদেশ হয়ে গেছে। ফলে আমি কোন সিদ্ধান্ত জানাতে পারব না। জেলা প্রশাসক মহোদয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন।  এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, বিষয়টি বিস্তারিত জানানোর জন্য এবং
যেখানে জনগণের বেশী সুবিধা হবে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনে তিনি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :1173 বার!

error: Content is protected !!
JS security