দিরাইয়ে পি,আই,সি,রা মাটিকাটার বিল দিচ্ছেনা—অভিযোগ শ্রমিক ও ঠিকাদারের

স্টাফ রিপোর্টারঃ-সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এবছর হাওর রক্ষা বাধ নির্মাণ, প্রকল্প কমিটি গঠন থেকে শুরু করে কার্যাদেশ ও পরবর্তীতে বিল বন্টণ সহ সব কিছুতেই ছিল বিতর্ক! এই বিতর্ক এখনো পিছু ছাড়ছেনা কিছুতেই।
সকল পি,আই,সি,রা (৬২%) ৩য় বিল পাইলেও অভিযোগ উঠেছে মাটিকাটা শ্রমিক ও এস্কেভেটর মালিক এবং ঠিকাদারদের পাওনা টাকা পরিশোধ করছেনা প্রকল্প সভাপতিরা!
পাউবো ও ইউ,এন,ও, অফিস সূত্রে জানা যায়- ১ম ও ২য় বিলে মোট বিলের ৫০% এবং ৩য় বিলে ১২% মোট ৬২% বিল প্রতি প্রকল্পের অনুকূলে দেওয়া হয়েছে অথচ এস্কেভেটর ও মাটিকাটা শ্রমিকের সম্পূর্ণ বিল না দিয়ে পি,আই,সি,রা কাল পরশু করে ঘোরাচ্ছে।
এমতাবস্থায় মাটিকাটা শ্রমিক ও এস্কেভেটর মালিক এবং ঠিকাদাররা প্রতিকার না পেয়ে লিখিত অভিযোগ করতে শুরু করেছেন অনেকেই।
তাড়ল ইউপির তলবাউসী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হুমায়ূন কবির স্বাক্ষরিত সুনামগঞ্জ দুদক পরিচালক, পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন. প্রতি ফুট মাটি ২.৫০/-( দুই টাকা পঞ্চাশ পয়সা) রেটে কাজ করে এখন পর্যন্ত বিল পাচ্ছেন না!
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন ধনপুর গ্রামের উমর সিদ্দিকের ছেলে দুলাল আহমেদ পি,আই,সি, নং ৫ ও পি,আই,সি, নং-৬ সভাপতি মকদ্দুছ মিয়া পিতা-মৃত আং হাসিম এর কাছে পাওনা- ৩,২৯,০০০/- (তিন লক্ষ ঊনত্রিশ হাজার) টাকা। উদগল হাওরের মাছুয়া খাড়া বাধের দুই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ২৩,৮২,০০/-(তেইশ লক্ষ বিরাশি হাজার) টাকা তিন বিলে পেয়েছেন ৬২% এ ১৪,৭৬,৮৪০/- (চৌদ্দ লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার আটশত চল্লিশ) টাকা। দুই প্রকল্পে সর্বসাকুল্য এস্কেভেটর দিয়ে মাটিকাটা বিল এসেছে ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ টাকা) ঠিকাদার হুমায়ুন কবির বিল পেয়েছেন ৭,৭১,০০০/-(সাত লক্ষ একাত্তর হাজার) টাকা হুমায়ুন কবিরের প্রকল্প নং-৫ ও ৬ এ দুলাল ও মকদ্দুসের কাছে পাওয়া রয়েছে ৩,২৯,০০০/- (তিন লক্ষ ঊনত্রিশ হাজার) টাকা। লছিমপুর খাল-কেজাউড়া বাধ নির্মাণ প্রকল্পে- ৫৩নং পি,আই,সি, সভাপতি- মৃত যতীন্দ্র লাল সামন্তের ছেলে অঞ্জন সামন্তের বরাদ্দ ১৬,৫৮,০০০/-(ষোল লক্ষ আটান্ন হাজার) টাকা ৬২% বিল পেয়েছেন ১০,২৭,৯৬০/-(দশ লক্ষ সাতাইশ হাজার নয় শত ষাট) টাকা অথচ মাটিকাটার মোট বিল এসেছে পুরো প্রকল্পে মাত্র- ২,৭৫,০০০/-(দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) টাকা এরমধ্যে হুমায়ুন কবিরের অঞ্জনের কাছে পাওনা রয়েছে- ১,৭০,০০০/-(এক লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা কালিয়াকোটা হাওরের দত্তের খাড়া বাধ নির্মাণ প্রকল্প নং-৪১ এর সভাপতি গোলাপ চন্দ্র রায়ের ছেলে অষ্টম রায় ও প্রকল্প নং-৪১(ক) এর সভাপতি মৃত জামিনী দাসের ছেলে পরিমল দাসের দুই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ৩৩,০০,০০০/- (তেত্রিশ লক্ষ) টাকা মোট এস্কেভেটর দিয়ে মাটিকাটা বিল এসেছে ৬,৬৭,০০০/-ছয় লক্ষ সাতষট্টি হাজার টাকা এর মধ্যে ঠিকাদার হুমায়ুন কবিরের পাওনা ১,৫৭,৫২৫/- (এক লক্ষ সাতান্ন হাজার পাঁচশত পঁচিশ) টাকা অথচ ৬২% এর বিল উভয় পি,আই,সি, পেয়েছেন – ১৯,২২,০০০/- (ঊনিশ লক্ষ বাইশ হাজার) টাকা।

জেলা প্রশাসক,দুদক, পাউবো, ইউ,এন,ও এবং ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর পাওনা টাকার জন্য দরখাস্তকারী মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন সরকারের নির্ধারিত প্রতি ফুট মাটি যেখানে ৬.৫০ টাকা সেখানে আমি মাত্র ২.৫০ টাকা রেটে মাটি কেটে টাকার জন্য এখন হন্য হয়ে দ্বারেদ্বারে ঘুরছি পি,আই,সি, সভাপতিরা দেই দিচ্চি করে আমাকে হয়রানি করছে অথচ সকল পি,আই,সি, আমার মাটিকাটা মোট বিলের প্রায় তিনগুণ বেশি বিল ইতিমধ্যে তুলেছেন তথাপিও আমার বিল দিচ্ছেন না।

আমি এস্কেভেটর ভাড়া ও ড্রাইভারদের বেতন ও তেলের টাকা বাবৎ অনেক টাকা ঋণগ্রস্থ আছি তাই বাধ্য হয়ে পাওনা টাকা আদায়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবেদন করেছি। আমি আমার প্রাপ্য টাকা উদ্ধারে মিডিয়া সহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
এবিষয়ে তাড়ল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন- প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মাটিকাটার মোট বিলের কয়েক গুণ বেশি বিল পেয়েও মাটিকাটা শ্রমিক ও ঠিকাদারের বিল পরিশোধ না করা দুঃখজনক আমি ইউ,এন,ও মহোদয় সহ উপজেলার মাসিক বৈঠকে বিষয়টি উত্তাপন করবো।
এবিষয়ে প্রকল্প কমিটি গঠন থেকে কাজের সময় বিভিন্ন অনিয়ত ও দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার একমাত্র জনপ্রতিনিধি সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহ চৌধুরী মাসুদ এ পপ্রতিনিধিকে বলেন- আমি শুরু থেকেই বলে আসছি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ও প্রয়োজনের চেয়ে অধিক বরাদ্দ অনেক প্রকল্পতেই দেওয়া হয়েছে তার বাস্তব প্রমাণ উপরোক্ত প্রকল্পতে প্রাক্ষলিত বরাদ্দের চেয়ে চার-পাচগুণ কমে মাটিকাটা সম্পন্ন হয়েছে অবশ্যই আনুষঙ্গিক আরো কিছু খরচ রয়ে শুধুমাত্র বাধে তারপরও মাটিকাটা শ্রমিক ও ঠিকাদারের বিল পরিশোধ না করা দুঃখজনক। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কে শ্রমিক ও ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ করতে পি,আই,সি,কে বাধ্য করতে ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রয়োজনের অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত করার আহ্বান জানাই।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :1309 বার!

JS security