দিরাই আনন্দ স্কুলের প্রাইমারী সমাপনীতে কলেজ ছাত্রী দিয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ

((ছবিঃ ১) আঁখি রানী দাস সে ভাটি বাংলা কলেজ ছাত্রী, একাদশ শ্রেণীর কলেজ রোল-১০৬, ২) পূর্ণিমা রানী দাস,সে চাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।))

এস এম ওয়াহিদুল ইসলামঃ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আনন্দ স্কুলের সমাপনী পরীক্ষায় কয়েকটি কেন্দ্রে শিক্ষক ও উপজেলা সুপার ভাইজারের যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছে। আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কেন্দ্র শিক্ষিকা শিল্পী রানী তালুকদার ও সুপার ভাইজার হিরেন্দ্র হাজরা দিরাই উপজেলার আওতাধীন গোপালপুর আনন্দ স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের  শ্যামারচর পরীক্ষা কেন্দ্রের সমাপনী পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণীর পরিক্ষার্থীর পরিবর্তে ৬ষষ্ঠ, ৭ম ও কলেজ ছাত্রীদের মাধ্যমে প্রক্সি পরিক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নিম্নে সরজমিন তদন্তে কয়েকটি প্রমাণ তুলে ধরা হলো।
২০৮৩ রোল নং আসল ছাত্রীর নাম  দীপিকা রানী দাস, এর প্রক্সি দিচ্ছে  পূর্ণিমা রানী দাস, বাড়ি গোপালপুর,প্রক্সি পরিক্ষা দেওয়ার ছাত্রীর মাতা- মহিলা মেম্বার দীপ্তি রানী দাস এ প্রতিবেদকের সাথে (রেকর্ড আছে) মুঠোফোনে স্বীকার করেছেন উনার মেয়ে চাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সে আনন্দ স্কুলের ছাত্রী নয় কিন্তু কেন পরীক্ষা অন্যজনের পরিবর্তে দিচ্ছে এ কথার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
২০৮৭ রোল নং আসল ছাত্রীর নাম রানী দাস, পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী ফেক ছাত্রীর নাম আঁখি রানী দাস সে ভাটি বাংলা কলেজ ছাত্রী, একাদশ শ্রেণীর কলেজ রোল-১০৬, তার পিতার নাম মনুরঞ্জন দাস।
অপর ফেক পরীক্ষার্থী অর্পিতা মজুমদার (রোল নং ২০৮৪ এর পরিবর্তে অংশ গ্রহণ করেছে) ৬ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ব্রজেন্দ্রগঞ্জ হাইস্কুল। মাতার নাম শিল্পী রানী তালুকদার উনি নিজেই আনন্দ স্কুলের শিক্ষক এবং উনার মেয়ে গত বছর ৫ম শ্রেণীতে সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে বলে যায়।
এছাড়াও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় আরো অনেক পরীক্ষার্থীই ফেক ছিলো অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে তারা হলো-
হিমেল মজুমদার পিতা-পজেশ মজুমদার, রোল নং ২০৭৭ ৬ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ব্রজেন্দ্রগঞ্জ হাইস্কুল।
হিমাংশু মজুমদার রোল নং ২০৭৮ ৬ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ব্রজেন্দ্রগঞ্জ হাইস্কুল তাদের পিতা-পজেশ মজুমদার, মাতা মায়ারাণী তালুকদার।
বৃষ্টি রানী দাস পিতা রিপন রানী দাস, পার্থ দাস, নিখিল দাস, শোভা রানী প্রমুখ আনন্দ স্কুলের কোন শিক্ষার্থী নয়।
এব্যাপারে গোপালপুর আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা শিল্পী রানী তালুকদার এ প্রতিনিধিকে হাইস্কুল ও কলেজ ছাত্রী দিয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। তিনি নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এব্যাপারে আনন্দ স্কুলের দিরাই উপজেলা সমন্বয়কারী ইন্তাজ আলী বলেন আপনাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠিন প্রক্সি পরীক্ষার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম এ হালিম বলেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে অনিয়মের সাথে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :538 বার!

JS security