নদী বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ!

গ্লোবাল সিলেট ডেস্কঃ-বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমির দলিল বন্ধক রেখে রূপালী ব্যাংক শিকারপুর শাখা থেকে ৭০ লাখ টাকা সিসি ঋণ নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন ওই জমির ওপর আরো ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা সিসি ঋণের জন্য আবেদন করেছেন হেমায়েত মুন্সী নামের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে এ ঋণ দিতে সহায়তা করেছেন স্থানীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভাগীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) স্থানীয় বাসিন্দা জালিস মৃধা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি প্রতিষ্ঠানে জালিসের লিখিত অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। ঋণ গ্রহীতা হেমায়েত উজিরপুরের পূর্ব মণ্ডপাশা গ্রামের মৃত কাসেম মুন্সীর ছেলে। অভিযোগকারী জালিস মৃধা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

এদিকে জালিস মৃধা অভিযোগ করেছেন, রূপালী ব্যাংক থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির লোকজন তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করছেন। মুঠোফোনেও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে তাকে।

স্থানীয় সূত্র এবং লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শিকারপুরের মটক্কা ব্রিকস-সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে ৮ থেকে ১০ বছর আগে বহু লোকের জমি বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হওয়া জমির খোঁজখবর নিয়ে হেমায়েত মুন্সী মৃত আব্দুর রব হাওলাদারের দুই ছেলে জসিম হাওলাদার ও কালাম হাওলাদার; মৃত মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে মোস্তফা মোল্লা; মৃত হাছেন খলিফার ছেলে কাশেম খলিফা; মৃত হোসেন আলী খলিফার তিন ছেলে বাবুল খলিফা, ইউসুফ খলিফা ও জয়নাল খলিফা এবং মৃত করিম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে এসএ রেকর্ডের কাগজ কেনেন। অথচ হেমায়েত বাজার দরে জমির যা মূল্য হয় সে অনুযায়ী দলিল করে নেন। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমি কোনোদিন ফিরে পাবেন না জেনে উল্লিখিত ব্যক্তিরা দলিল করে দেন বলে স্বীকারও করেছেন।

এ ছাড়া হেমায়েত মুন্সী তার বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সময় জমি দখলের পাশাপাশি জমির ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি হেমায়েতের বর্তমান বাড়িটিও নাকি অবৈধ। ওই বাড়ির মালিকের ছেলে শাহিনকে তিনি একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশছাড়া করেছেন বলেও জানা গেছে। দিলীপ বালা নামের এক পল্লী চিকিৎসকের বাড়িও দখলের অভিযোগ আছে হেমায়েতের বিরুদ্ধে। ওই দখলকৃত জমিও বন্ধক রাখা হয়েছে ব্যাংকে। এ ছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ২৭১, ২৭০ দাগের প্রায় ৮০ শতাংশ জমির জাল দলিল ও পর্চা তৈরি করেও ঋণ নিয়েছেন হেমায়েত। উত্তোলনকৃত সিসি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। সম্প্রতি হেমায়েত ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার সিসি ঋণের প্রস্তাব পাঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এসব কাজে শিকারপুর রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি জালিস মৃধা জানতে পেরে বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল শাখার মহাব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি ওই ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক গ্রহণ করে বরিশাল রূপালী ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়কে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। একই অভিযোগ দুদক সেগুন বাগিচা ঢাকার বরাবরেও পাঠানো হয়। দুদক কার্যালয় অভিযোগটি গ্রহণপূর্বক প্রাপ্তি স্বীকার করে জালিস মৃধার কাছে চিঠি পাঠান। দুদক কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ওই বিষয়টির প্রাথমিক তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার পর কেন্দ্রীয় অফিসের নির্দেশক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জালিস মৃধা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর রূপালী ব্যাংকের বরিশালের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে অভিযোগকারী জালিসকে ডেকে আনা হয়। জালিস রূপালী ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্টো জালিস মৃধাকেই অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য হুমকি-ধমকি দেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হেমায়েত মুন্সী মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি নিয়মকানুন মেনে আমি ঋণ নিয়েছি। শত্রুতাবশত আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে রূপালী ব্যাংক বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের জিএম আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :301 বার!

JS security