প্রশাসনের নিষেদাজ্ঞা অমান্য-করে আব্দুল মান্নানের নামের সাথে মুক্তিযোদ্ধা লিখে ফের বিতর্কের সূচনা, এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া!

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার :

প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে জনৈক ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দাবী করে কতিপয় ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা অব্যাহত রাখায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সহ এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জানা যায়, উপজেলার রায়বাঙ্গালী গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুবের আলম খোরশেদ তার পিতা মৃত আব্দুল মান্নানকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দাবী করে ‘মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান স্মৃতি পরিষদ’ গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলে, এনিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ জানালে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সদ্যবিলুপ্ত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আতাউর রহমান বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২১মে দিরাই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার শাহিদুল ইসলাম ও দিরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল’র উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত প্রদান করে বলেন যে, যেহেতু রায়বাঙ্গালী গ্রামের আব্দুল মান্নান নামে তালিকাভুক্ত কোন মুক্তিযোদ্ধা নেই এবং এর স্বপক্ষে কোন অকাট্য প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি, সেহেতু তার নামের সাথে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিখে কোন প্রচার-প্রচারণা ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষেধ প্রদান করা হলো। এসময়ে বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান সহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের এমন স্পষ্ট বিধি-নিষেধ থাকার পরও কতিপয় ব্যক্তি তাদের নিজস্ব ফেসবুক আইডি ও কিছু ভূয়া আইডি থেকে আব্দুল মান্নানের নামের পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ব্যবহার করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এপ্রসঙ্গে আলাপকালে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান বলেন, একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে কোন স্বার্থে তার ছেলে বারবার এমন বির্তকের জন্ম দিচ্ছে, সেটি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। প্রশাসনের নিষেধ থাকার পরও জুবের আলম ইন্ধন দিয়ে তার নিজস্ব লোক দ্বারা এসব অপ্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। আমাদের হাতে যাবতীয় তথ্যাদি আছে। আমরা অচিরেই এগুলো নিয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সাহেবের নিকট যাবো। প্রয়োজনে পূনরায় আইনের আশ্রয় নিবো। একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাবেক কমান্ডার আব্দুল করিম, পৌর কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার করুণা সিন্ধু দাস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপদেষ্ঠা জুবের চৌধুরী, কানাই লাল রায়, সহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা। এবিষয়ে দিরাই প্রেসক্লাব সভাপতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস ও দৈনিক ইত্তেফাক জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান তালুকদার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সবকিছুর উর্দ্ধে। এগুলোকে পুঁজি করে মিথ্যা প্রতারণার মাধ্যমে কিছু লোক সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো সত্যিকার অর্থে নিন্দনীয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এব্যাপারে দিরাই পৌরসভার প্যানেল মেয়র বিশ্বজিৎ রায় বিশ্ব বলেন, একজন মৃত পিতাকে নিয়ে টানাহেছঁড়া করে তার সন্তানের ব্যক্তিস্বার্থে এমন আচরণ আমাদের হতবাক করেছে। এটি সত্যিই অপ্রত্যাশিত। আমরা ব্যক্তিগতভাবে জুবের আলমকে অনুরোধ করছি এগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য। একই প্রতিক্রিয়া জানালেন দিরাই উপজেলা যুবলীগের অন্যতম নেতা ফারুক সরদার, কলিম উদ্দিন, লালন মিয়া, পৌর কাউন্সিলর সবুজ মিয়া, দিরাই পৌর যুবলীগ সভাপতি সারোয়ার আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া সহ অনেকে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড উপদেষ্ঠা মুরাদ মিয়া বলেন, যা হচ্ছে তা সত্যি দুঃখজনক। আব্দুল মান্নান মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকলে তার ছেলের পিতার স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্ঠা করা উচিৎ ছিল। কিন্তু জুবের আলম যা করছে তা নিন্দনীয়। একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড উপদেষ্ঠা ও পৌর কাউন্সিলর এবিএম মাসুম প্রদীপ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড অন্যতম নেতা শফিক মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সভাপতি শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক রাহাত মিয়া রাহাত সহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :673 বার!

JS security