ফেঞ্চুগঞ্জে বাস চলাচল বন্ধ , ভোগান্তির শিকার শিক্ষার্থীরা

মুহাম্মদ হাবিলুর রহমান জুয়েল, ফেঞ্চুগঞ্জঃ- ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রধান বিদ্যাপীঠ ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম বাস। কিন্তু ঈদের পূর্বে থেকেই সিলেট থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো আর কলেজ রোড় হয়ে ভাটেরা যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ কলেজের পাশেই ফুলবাড়ি ও শরিফগঞ্জের মাঝখানে বৃষ্টির পানির কারণে গভীর গর্ত হয়েছে। যার কারণে বাসগুলো সিলেট থেকে সরাসরি পুরানবাজার এসে থেমে যাচ্ছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ার আশংকা ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অনেক শিক্ষার্থী এব্যপারে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। কেননা মঙ্গলবার কলেজ খোলার পরই এবছরের এইচ এস সি পরিক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক টেস্ট পরিক্ষা রয়েছে। কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাইজগাঁও -বিয়ানীবাজার ও ঘিলাছড়া ইউনিয়নের হওয়ায় তাদের পক্ষে যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়। যদিও দুই একটি সিএনজি চলাচল করলেও অতিরিক্ত ভাড়া স্বল্প আসনের কারণে তাদের পক্ষে কলেজে বাস ব্যাতিত উপস্তিত হওয়া সম্ভব নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কলেজছাত্রী জানালেন, আমাদের মেয়েদের পক্ষে সিএনজি দ্বারা চলাফেরা প্রায় অসম্ভব, তাছাড়া সেখানে যথাযথ গাড়িও পাওয়া যায় না। এতে করে আমরা ভোগান্তির স্বীকার হব নিশ্চিত। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন ছাত্র জানালেন, আমাদের সবার পক্ষে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে কলেজে আসা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে বাস চলাচলের উপযোগী করার দাবী জানিয়েছেন তারা। প্রায় মাঝে মধ্যেই শরিফগঞ্জ এলাকার এই জায়গায় রাস্তার দু-পাশের পানি জমে বাস চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যদিও ফেঞ্চুগঞ্জ প্রধান সড়ক সহ পালবাড়ি হতে ভাটেরার পূর্ববর্তী অংশের জন্য ৪৬ কোটি টাকার টেন্ডার এসেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফেঞ্চুগঞ্জেও সমাপ্ত হয়নি মাত্র ৩০% কাজ। এব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান – আমরা ব্যপারটি নিয়ে চিন্তিত রয়েছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হতে পারবে না৷ ব্যপারটি স্থানীয় কতৃপক্ষের নজরে দিয়েছি। ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের সাইট ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম সুমন জানিয়েছিলেন তার শ্রমিকরা ঈদের ছুটিতে বাইরে থাকায় মঙ্গলবারের পূর্বে রাস্তাটি মেরামত করা সম্ভব নয়। এজন্য তিনি শুক্রবার পর্যন্ত স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের একটু ত্যাগ শিকারের আহবান জানান। কিন্তু শুক্রবারের রাস্তার সংস্কার কাজ করার কথা থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার এখন পর্যন্ত কোন লেভার সেখানে দেখা যায়নি। এব্যপারে তার সাথে আবারো অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন তুলেননি। স্থানীয় ২নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করিম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এব্যপারে সাইট ইনচার্জ তাকে আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি শুক্রবারের ভেতরে মেরামত কাজ শেষ করবেন। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন শুক্রবারের ভেতরে মেরামত করে বাস চলাচলের উপযোগী না করা হলে এই রাস্তা দিয়ে অন্য সব ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেবেন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :110 বার!

error: Content is protected !!
JS security