বাংলাদেশের আইটি সেক্টর ও একজন আরজু হোসেন

মুহাম্মদ হাবিলুর রহমান জুয়েল:- আরজু হোসেন একাধারে একজন ওয়েব ডেভেলপার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং এসইও এক্সপার্ট। একসময় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দাপটের সাথে কাজ করেছেন এবং ছিলেন টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার। এবং পাশাপাশি কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে। এবং বর্তমানে তিনি ওয়েলথি আফিলিয়েট এর মত একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেছেন।

উল্লেখ্য ওয়েলথি আফিলিয়েট কোম্পানি ইউরোপ এবং আমেরিকার খুবই জনপ্রিয় একটি নাম। সমগ্র পৃথিবী থেকে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইনে এই কোম্পানি থেকে আইটি সেবা নিয়ে থাকে । এই ২০ লক্ষ মানুষকে অনলাইনে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রতিবছর ৩০০০ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রয়োজন এবং তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল পুরো পৃথিবী থেকে দক্ষ আইটি এক্সপার্ট নিয়োগ দেওয়া। কিন্তু বাঙ্গালী মায়ের বাঙ্গালী সন্তান তার প্রতিষ্ঠানকে শর্ত ছোড়ে দিলেন যে তিনি বাংলাদেশের আইটি সেক্টরে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ট্রেনিং দিয়ে তিনি সেই প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগাতে চান।

এবং তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে এটাও বলেন তার প্রতিষ্ঠান যদি তার শর্ত মেনে না নেন তাহলে তিনি প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতিষ্ঠানে তার শর্ত মেনে নিয়েছে এবং তারপর থেকে তিনি ফ্রিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসতেছেন বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে অনলাইনে তারা যেন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে এবং বাংলাদেশ আইটি সেক্টর কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এবং তারে উদ্যোগে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৩৫০ জন ছেলে মেয়ে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে এ কোম্পানিতে কাজ করতেছে। আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য তিনি ঢাকা উত্তরায় প্রতিষ্ঠা করেন আরজু আইটি ফার্ম এবং ছোট পরিসরে সিলেট এবং গাজীপুরে দুটি শাখা চালু করেন।

কবি ও সাংবাদিক মুহাম্মদ হাবিলুর রহমান জুয়েল-কে টেলিফোনে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন – আমি চাই আমার দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর কে সঠিকভাবে তুলে ধরতে। যাতে তারা তাদের কর্মসংস্থান খোঁজে পায়৷ এক্ষেত্রে আমি আমার সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাব৷ বাংলাদেশ ২০ লাখেরও বেশি বেকার মানুষ আছে এবং আমি প্রতিবছর অন্ততপক্ষে ৫০০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে অনলাইনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই এবং আমি মনে করি অনলাইনে বিশাল একটা চাকরি বাজার আছে যেটা আমরা চাইলে ধরতে পারি। আমি চাই আমার দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর কে সঠিকভাবে তুলে ধরতে। যাতে তারা তাদের কর্মসংস্থান খোঁজে পায়৷ এক্ষেত্রে আমি আমার সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাব৷ প্রশ্নঃ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর নিয়ে ধারণা কম কেন? বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর নিয়ে ধারণা কম হওয়ার কারণ তারা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে নিজেকে আপডেট করে না এবং তারা যখন আইটি প্রশিক্ষণ নিতে যায় তখন তারা সঠিক প্রশিক্ষণ পায় না ৷

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবসময় আইটি সেক্টর নিয়ে চিন্তা করার পূর্বেই আপনি দেখবেন ভোয়া কিছু এপস এসে তাদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করে। কিন্তু মূলত এরা কোন বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান না। এজন্য পিছনে হারিয়ে যায় বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা। প্রশ্নঃ ভোয়া এপস এবং আউট সোর্সিং সম্পর্কে কিছু জানতে চাই? এপস সবগুলো ভোয়া নয় কিন্তু আসল এপসগুলো ঠিকই তাদের কাজ করছে নকল এপসগুলো মানুষকে প্রতারিত করে। আউট সোর্স মূলত কাজের উপর নির্ভরশীল। এ ব্যাপারে অনেকে না বুঝে ধোকা খায়। আপনি যদি ওয়েব ডেভলপার হোন অবশ্যই আপনার সে কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে পাশাপাশি আপনি যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে করছেন তার সক্ষমতা জানা জরুরি।বর্তমানে ফেলেছে মার্কেটপ্লেসে ছেলেমেয়েরা কাজ পাচ্ছে না তার কারণ আমাদের ছেলেমেয়েরা সময়ের সাথে নিজেকে আপডেট করিনি কারণ পাঁচ বছর আগে তারা যা শিখেছিলো বর্তমানে তা মার্কেটে নাই এবং এগুলো অনেক আপডেট হয়ে গেছে তাই আমাদের ছেলেমেয়েরা আর নতুন করে কাজ পাচ্ছে না।

এবং তার পরে রয়েছে ভালো প্রশিক্ষকের অভাব। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যে সমস্ত কাজ আছে তা আমাদের বেকার যুবকদের জন্য খুবই কম আমি মনে করি তাই আমি মার্কেটপ্লেসের বাইরে আইটি সেক্টরে কাজ খোঁজার চেষ্টা করতে বলব আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের। আপনি একটু ভেবে দেখুন ফেসবুক, গুগল, ইয়াহু এরকম অনেক বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে পুরো পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ থেকে হাতেগোনা মানুষ আপনি পাবেন। আমি মনে করি শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দিকে যদি আমরা তাকিয়ে থাকি তাহলে আমাদের দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের সঠিক কর্মসংস্থান করতে পারবোনা তাই আমাদের এই সেক্টর গুলোতে গুরুত্ব দেয়া উচিত। প্রশ্নঃ আমরা জানি আপনার বাবা মা দুজনই মার্কিন প্রবাসী কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে বাবা-মাকে ছেড়ে আপনি কেন বাংলাদেশে আছেন? আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর্তব্য মনে করি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা। এজন্য আমার এই পরিশ্রম।

প্রশ্নঃ আপনার আরজু আইটি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কি? উত্তরঃ যেহেতু আমাকে বাংলাদেশ থেকে আইটি এক্সপার্ট সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেজন্য আমি চাই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মাধ্যমেই বাছাইকৃত এক্সপার্ট বিদেশের প্রতিষ্ঠানে কাজের উপযুক্ত করা । এতে অনেক শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের নাম উজ্জ্বল হবে। প্রশ্নঃ শিক্ষার্থীরা কিভাবে আপনার আইটি সেক্টরে যুক্ত হবে? আমার আইটি ফার্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে অনলাইনে কোর্স করানো যাতে করে যারা গ্রামে থাকে এবং শহরে এসে কোর্স করতে পারে না এবং যারা অর্থের দিয়ে কোর্স করতে পারেনা তাদের কে ফ্রিতে পরিপূর্ণ কোর্স করানো। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে যে কেউ রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করে আমাদের এই আইটি সেক্টরে যুক্ত হতে পারে। আমার অনলাইন কোর্স এর মধ্যে ওয়েব ডেভলপিং এন্ড ডিজাইন, এসইও এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন রয়েছে।

প্রশ্নঃ বাইরে না গিয়ে কাজ – মূল কথা কি? নতুন কিছু কি? উত্তরঃ হ্যা! অবশ্যই। আমি চাই বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কাজ করুক। আমি চাই বাংলাদেশের আইটি সেক্টরে যারা এক্সপার্ট আছেন তারা বাংলাদেশের এই সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীদের আইটি সেক্টরে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানব শক্তিতে রুপান্তরিত করুন এবং বিদেশে কাজের সুযোগ করে দেন তাহলে আমি মনে করি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে কোন বেকার সমস্যা থাকবে না।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :610 বার!

JS security