বান্ধবীর পেটে সন্তান, সাফাই সাক্ষ্য দিলেন ইউএনও

গ্লোবাল ডেস্কঃ-  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে তার বান্ধবীর আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা গত রোববার (৯ জুন) দুইপক্ষকে ডাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারনে আসেননি অভিযোগকারী ঐ নারী। তিনি মৌখিকভাবে সময় চেয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এমরান হোসেন তাকে লিখিতভাবে সময় চেয়ে মেইল পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউএনও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ কি সাক্ষ দিয়েছেন তা জানা যায় নি।

বর্তমানে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন ঘটনাটির তদন্ত করছেন। তিনি জানান, তদন্ত কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগকারী আসেন নি। তিনি মোবাইল ফোনে সময় চেয়েছেন। আমরা বলেছি, লিখিতভাবে সময় চেয়ে মেইলে আবেদন করতে। আসিফ ইমতিয়াজ তার পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন।

অভিযোগকারী নারী জানান, গত ৮জুন আমার উপর হামলা করেছে আসিফের ভাই, বোন জামাইসহ কয়েকজন। যার ফলে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় এখন একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার বরাবর রোববার (৯ জুন)ইমেলের মাধ্যমে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। এছাড়াও আসিফ আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে আতংকের মাঝে আছি। হামলার বিষয়ে আমি স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এমরান হোসেন স্যারকে ঘটনাটি জানিয়েছি। আমি ন্যায় বিচার চাই।

এদিকে সুনামগঞ্জে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)আসিফ ইমতিয়াজ বান্ধবীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক অতপর অন্তঃসত্ত্বার ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর বির্তর্কিত উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপজেলাবাসী। শুধু তাই নয় এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসববুক ও এলাকা জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ। তাই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে কার্যালয়ে না এসে বাসায় বসে অফিস করছেন ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ। এছাড়াও উনার ব্যবহ্নত সরকারি ফোন নাম্বারটিতে কল দিলে কেউ পাচ্ছেন না। অনেক সময় সরকারি নাম্বার বন্ধ থাকে। ফলে উপজেলাবাসী তার কাছ থেকে কোন প্রকার সহযোগীতা পাচ্ছেন না। উপজেলাবাসীসহ এমন কালিমা লিপ্ত অফিসারকে আর দেখতে চায় না।

জানাযায়, তাহিরপুর উপজেলায় নব-যোগদানকারী ইউএনও তার পূর্বের কর্মস্থল চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় পূর্বে বিয়ে করা স্ত্রীর সাথে ডির্ভোস হয়। কিন্তু শ্বশুর পেশাদার উকিল হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ বিলম্বিত হচ্ছিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এডিসি (এলএ) আসিফ ইমতিয়াজের (পরিচিতি নং-১৬৭৫৩)। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নরিয়া গ্রামে আবু ইসহাকের নাতি। কিন্তু পরিচিত হওয়া নতুন বান্ধবীর সাথে সংসার করার তর সইছিল না তার। শেষ পর্যন্ত পৃথক বাসা নিয়ে বিয়ে না করেই সংসার শুরু করেন। অসাবধানতাবশত পেটে চলে আসে সন্তান। কিন্তু সব কিছুই গোপন রেখে আসিফ চাইছিলেন অনাগত সন্তানকে গর্ভপাত ঘটাতে। কিন্তু রাজি হলেন না বান্ধবী। এ নিয়ে সম্পর্কের অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দিল সেই বান্দবী।

গত ০৩,০৪,১৯ইং তারিখে লিখিত ভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে বিচার চান। এর পর একজন এডিসিকে বিষয়টির তদন্তভার দেওয়া হয়। এডিসিকে এ ঘটনা অস্বীকার করেন আসিফ ইমতিয়াজ। পরে চট্টগ্রাম প্রশাসন তাঁকে বদলির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাহিরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে বদলি করা হয়। বদলির পরই তাঁর জীবনের কলঙ্কিত ঘটনাটি আরও ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। সর্বশেষ এ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে এবিষয়ে তর্দন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যিনি এমন একটি জঘন্য কাজ করেছেন তিনি কিভাবে এই উপজেলাবাসীর উন্নয়নে ভাল কাজ করবেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ও অন্তঃসত্ত্বার ঘটনার এখন উপজেলার আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন তদন্ত করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আমরাও আছি খুবই লজ্জার মাঝে এই বিয়ষটি নিয়ে। সবাই এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের তীর ছুড়ছে আমাদের দিকে। আমরাও এই বিষয়ে উত্তর দিতে দিতে নাজেহাল অবস্থায় আছি। উপজেলাবাসী তাকে আর চায় না। তার শাস্তি দাবি করছে। আর তাকে এখানে রাখলে উপজেলা সুনাম নষ্ট হবে। বদলি হলে আমরাও এই দুর্নাম থেকে বাচঁব।

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবেই বিব্রতকর অবস্থার মাঝে আছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :210 বার!

error: Content is protected !!
JS security