বিশ্বনাথে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাজাপ্রাপ্ত আসামী সভাপতিত্ব করায় – এলাকায় তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক :-   সিলেটের বিশ্বনাথে একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান অংশগ্রহন করা নিয়ে এলাকায় তোলাপাড় চলছে। গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার দেওকলস উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ওই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মতছিন একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়েও ওই অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতিত্ব করেন। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়েও প্রকাশ্যে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এমপির অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সভাপতিত্ব করায় এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। শুধু তাই নয়, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম মতছিন উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় অনুষ্ঠান গুলোতে প্রকাশে অংশগ্রহন করে যাচ্ছেন। কিন্ত পুলিশ তাকে অদৃশ্য কারণে গ্রেফতার করছে না। তবে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, ফখরুল ইসলাম মতছিন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও স্থানীয় এমপি মোকাব্বির খানের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।
জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার শাহাজিরগাঁও গ্রামের আওলাদ আলীর পুত্র সেলিম মিয়া বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৬ সালে একটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন (দায়রা ৪৭৭/২০১৭ইং, বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নং- ৩৩৬/২০১৬ইং)। এই মামলার বিচারকার্য শেষে গত ১৫ জানুয়ারী রায় প্রদান করেন সিলেটের অতিরিক্ত আদালতের দায়রা জজ (৫ম আদালত) সাবেরা সুলতানা খানম। রায়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনকে ১বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও নালিশী চেকে উল্লেখিত ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা দন্ডে দন্ডিত এবং জরিমানার টাকা আদায় সাপেক্ষে সমুদয় অর্থ বাদিকে প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।
ওসমানীনগর থানার রঙ্গিঁয়া গ্রামের মৃত শেখ আজহার আলীর পুত্র শেখ মো. আবদুর রউফ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১২ মার্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-ওসমানীনগর সি.আর ৫২/২০১৭ইংরেজি)। এ মামলায় সিলেটের অতিরিক্ত আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ বেগম ফারহানা ইয়াছমিন ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এন.আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ফখরুল ইসলাম মতছিনকে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও নালিশী চেকে বর্ণিত টাকার দ্বিগুন (৩ লাখ) টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন।
একই বছর শেখ মো. আবদুর রউফ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার আরেকটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-ওসমানীনগর সি.আর ২৫/২০১৭ইংরেজি)। এ মামলায় সিলেটের ৩য় আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ সাহেদুল করিম ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট এন.আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ফখরুল ইসলাম মতছিনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও নালিশী চেকে বর্ণিত টাকার দ্বিগুন (২ লাখ) টাকা জরিমানা (অর্থদন্ড) করে রায় ঘোষণা করেন। এসব মামলার রায়ে নালিশী ও জরিমানার টাকা আদায়ের পাশাপাশি আসামী ফখরুল ইসলাম মতছিন পলাতক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন আদালত।
মামালার বাদী সেলিম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, একাধিক সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়ার পরও ফখরুল ইসলাম মতছিন প্রকাশ্যে পুলিশের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্ত তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। মতছিনকে গ্রেফতারের দাবিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে তিনি স্মারকলিপি দিয়েছেন বলেও জানান।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :153 বার!

error: Content is protected !!
JS security