বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী সৈবন হত্যার আসামী নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার

 গ্লোবাল সিলেটডটকমঃ- বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী সহিব উদ্দিন সৈবন হত্যাকান্ডের আরেক আসামী শামীম বিশ্বাসকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনা সদর থানা এলাকার শিমুলআটির নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। আসামী শামীম বিশ্বাস ওই এলাকার সাদির বিশ্বাসের পুত্র।  এ নিয়ে ব্যবসায়ী সৈবন হত্যায় যুক্ত ২জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল মুন্সীর নেতৃত্বে ঘাতক শামীমকে গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেন পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক, মামলার তএবিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল মুন্সী জানান, বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী সৈবন হত্যা মামলার প্রধান আসামী জাকির হোসেনের দেয়া তথ্য এবং বিশেষ টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে শামীম বিশ্বাসকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এ মামলায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আসামী শামীমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরী কাজের কথা বলে জেলা শহর সিলেটে যান বিয়ানীবাজারের পৌরশহরের জামান প্লাজার ব্যবসায়ী সহিব উদ্দিন সৈবন। পরদিন ২০ এপ্রিল শুক্রবার সকালে সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক সড়কের চারখাই গাছতলা নামক এলাকা থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই দু’দফা জানাজা শেষে বড়লেখা উপজেলার ইটাউরী গ্রামে নিহতের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সিলেটের আখালিয়া টুকেরবাজার এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেনকে তার শশুড় বাড়ি বিয়ানীবাজারের বৈরাগীবাজার এলাকার খশির সড়ক ভাংনি থেকে আটক করে। আটকের পর পুলিশের কাছে সৈবন হত্যাকান্ডে সে জড়িত বলে স্বীকার করে জাকির এবং এ হত্যাকান্ডে আরো ৫/৬ জন জড়িত বলে জানায়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস গাড়িটিও তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। গত ১৩ মে পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে প্রেরণ করা হলে ১৬৪ ধারায় জাকির স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়। ১১ মে রিমান্ডে জাকিরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুশিয়ারা নদীর শেওলা সেতুর নীচ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুইটি ছুরি ও ৭টি ঘামছা উদ্ধার করে পুলিশ। রিমান্ডে জাকির জানায়, পাওনা টাকা চাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী সহিব উদ্দিন সৈবনকে হত্যা করা হয়। এতে অংশ নেয় আরো ৪ ঘাতক। এর মধ্যে ৩ জনের বাড়ি সিলেটে এবং একজনের বাড়ি নেত্রকোনা। সেই সূত্র ধরে বিশেষ টেকনোলজি ব্যবহার করে ঘাতক শামীমকে বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে বিয়ানীবাজার নিয়ে আসা হয়। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

দন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই সুরঞ্জিত দাস ও এস.আই বিরাজ।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :535 বার!

JS security