ভারতের কাছে পাওনাগুলো নিয়ে কথা বলুন: ফখরুল

গ্লোবাল সিলেট ডেস্কঃ-  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন- প্রধানমন্ত্রী ভারতের পশ্চিম বঙ্গে সফরে  গেছেন খুব ভালো কথা। কিন্তু ভারতের কাছে বাংলাদেশের যে পাওনাগুলো রয়েছে সে বিষয়ে কথা বলুন। গতকাল রাজধানীর গুলশানের ইম্যানুয়েলস ব্যাংকুয়েট হলে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আয়োজনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, ভারতের পশ্চিম বঙ্গ সফরে গেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ করেছেন সেটা অত্যন্ত ভালো কথা। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন- ভারতের কাছে আমাদের যে পাওনাগুলো রয়েছে, সমস্যাগুলো রয়েছে সে সমস্যাগুলো সম্পর্কে তিনি কথা বলছেন কিনা? সরকার গঠন করার পর আওয়ামী লীগ বলেছিল তিস্তা নদীর চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার। অথচ তাদের ক্ষমতার দীর্ঘ ৯ বছর হয়ে গেলেও আমরা তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা তো দূরের কথা একফোঁটা পানির বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।শুধু তিস্তা নয়, অভিন্ন ১৫৮ টি নদীর পানির হিস্যার বিষয়ে কোনো চুক্তি এখনো হয়নি। অথচ দেখা যাচ্ছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তি হচ্ছে। আবার ভারত সীমান্তে আমাদের মানুষদের হত্যা করছে। সেই চুক্তি বাদ দিয়ে তাদের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি হচ্ছে। বিভিন্ন বন্দর হচ্ছে! আমরা অবশ্যই একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সংযোগ স্থাপনের পক্ষে। তবে তাদের থেকে আমারা কি পাচ্ছি সেটা জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমরা বার বার বলেছি এসব বিষয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে ও প্রতারণা করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা সকল প্রটোকলসহ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার আইন পাশ করেছে সরকার। কিন্তু তারা যদি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয় তাহলে এই বিধি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমরা এর বিরোধিতা করছি। এ সময় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বার বার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। আজ তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেই সরকার মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে রেখেছে। এই সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে। তবে খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। জনগণ মেনে নেবে না। এজন্য আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। বিএনপি তাঁর নেতৃত্বেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম, আহসান হাবিব লিঙ্কন, নবাব আলী আব্বাস খান, সেলিম মাস্টার, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টি মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকিব, মুসলিম লীগ সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, লেবার পার্টি (একাংশের) মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, বিজেপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :385 বার!

JS security