ভালবাসা দিবসের ইতিকথা ও বঞ্চিত প্রকৃত প্রেমিক সংঘের আন্দোলন!

এস এম ওয়াহিদুল ইসলামঃ-

বিশ্ব ভালবাসা দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বঞ্চিত প্রকৃত প্রেমিক সংঘের ব্যানারে  প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। ভালবাসা দিবসে নিজেরা প্রেম বঞ্চিত দাবি করে আমার ভাই সিঙ্গেল কেন জবাব চাই, কেউ পাবে, কেউ পাবে না তা হবে না তা হবে না’, ‘দুষ্টু প্রেমিক নিপাত যাক, প্রকৃত প্রেমিক মুক্তি পাক স্লোগান দিতে থাকেন তারা!!
এ-ই হলো দেশের সর্বোচ্চ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ১৪ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের অবস্থা!!
গতকাল বিশ্ব ভালবাসা দিবসের প্রভাব আমারা দেখেছি বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রিপোর্টে—শুধুমাত্র ফরিদপুর শহরে পুলিশের অভিযানে ৩১ জন তরুণ-তরুণী আটক হয়েছেন! এ-র মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক!!
আমার বিশ্বাস এমন অভিযান যদি সারাদেশে পরিচালিত হতো তাহলে হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত যুগলপ্রেমের জুটি পাওয়া যাবে। অবশ্যই এজন্য কারো মাথা ব্যাথাও নেই!
অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহ দিলে তা প্রতিরোধে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি যেভাবে হুলুস্থুল কান্ডকারখানা বাধিয়ে পেলেন তা বলা বাহুল্য। দেখা যায় আকদ পড়ানো কাজী সহ সহযোগী এমনকি অবিভাবকদের পর্যন্ত গ্রেফতার, শাস্তি ও জরিমানার মুখোমুখি হচ্ছেন!
কিন্তু ভালবাসা দিবস উদযাপনের নামে অবাধ মেলামেশা ও ব্যাভিচার এবং আপত্তিকর অসামাজিক কার্যকলাপে যেন কিছুই আসে যায়না!!!
আবার এগুলো নিয়ে কথা বললেও তথাকথিত নারীবাদীরা কা-কা-কা রব তুলে মুফতি সেজে আলেম উলামাদের কে নারী বিদ্বেষী, সেকেলে, সমাজ ও প্রগতির অন্তরায়, তালেবান, আল-কায়দা অথবা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা ইত্যাদি বিশেষণের মাধ্যমে রব তুলে! কম যায়না মিডিয়াও!
যদিও এইধরনের বেলাল্লাপনা বাংলাদেশের সামাজিক পরিবেশ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে তা সংগতিপূর্ণ নয়।
আর যে ভালবাসা দিবসের নামে নোংরা প্রগতিশীলতার গড্ডালিকায় আমরা গলা ভাসিয়ে দিচ্ছি তার ইতিহাস পাঠকের জন্য নিম্নে তুলে ধরছি।

ভাল বাসা দিবসের ইতিকথাঃ-
জানা যায়, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমানসম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেন্টাইনস ডে’ সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী,
দিরাই, সুনামগঞ্জ।
তারিখঃ- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রিঃ

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :787 বার!

JS security