ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বিতর্ক প্রসঙ্গে কিছু কথা

এস,এম,ওয়াহিদুল ইসলাম—
মুক্তিযুদ্ধ আর যুদ্ধাপরাধী এই দুইটি বিষয় বাংলাদেশের সর্বাধিক আলোচিত! বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২য় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্বাচনী ওয়াদা মোতাবেক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য শুরু করলে ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা-সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে সারা বাংলাদেশে নাম্বার ওয়ান আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয় যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে খড়্গ হস্ত ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী মহান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অগাধ সুযোগ-সুবিধা অবারিত করলে এই সুযোগে কিছু সুযোগ সন্ধানী টাউট বাটপার মুক্তিযোদ্ধা সাজতে সনদ জালিয়াতি সহ অনৈতিক পহ্না অবলম্ব করে অতি মুক্তিযোদ্ধা বনে যায়! আবার অনেকে দেশ মাতৃকার জন্য যুদ্ধ করে সহায় সম্বল হারিয়েও স্বাধীনতা পরবর্তীতে নিজেকে আর অফিসিয়ালি রেকর্ড ভুক্ত করে তালিকায় নাম উঠানোর প্রয়োজন বোধ করেন নি এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি! আবার কেউ কখনো যুদ্ধ না করেই বড় মুক্তিযোদ্ধা সেজে বসে আছেন দিব্যি! সম্প্রতি একসাথে ৪জন সচিব সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলা সনদ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা সাজার সার্টিফিকেট ভূয়া প্রমাণিত হয়েছে!
সাম্প্রতিককালে দিরাইয়ের চায়ের টেবিল থেকে অনলাইন, ফেসবুক এমনকি স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকার নিউজের কল্যাণে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার নামে ভূয়া সংগঠনের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
গত সপ্তাহের প্রথমার্ধে দিরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এর নিজস্ব প্যাডে সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন- দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের রায়বাঙ্গালী গ্রামের মরহুম আব্দুল মান্নান (মনাফ) এর নামে তাহার ছেলে ইউকে প্রবাসী জুবের আলম খোশেদ “মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মান্নান স্মৃতি সংসদ” নামে যে সংগঠন চালাচ্ছেন তা ভূয়া! যিনি মুক্তিযোদ্ধাই নন তাহার নামে কমান্ডার যোগ করে পরিচালিত সংগঠন স্বাভাবিক ভাবেই অবৈধ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা..!
যেদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ পেল পরের দিন স্মৃতি সংসদের দিরাই সহ বিভিন্ন ইউপির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করলেন “মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মান্নান স্মৃতি সংসদ” এর পক্ষে মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার প্রমুখ! তা একমাত্র উনার কালনী ভিউ অনলাইন এ সংবাদ প্রকাশ করে! সংবাদের ভাষ্যমতে আব্দুল মান্নান যে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ছিলেন তার স্বপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান কে ব্যক্তিগত ভাবে নোংরা আক্রমণ করে বিষোদগার করাই প্রাধান্য পেল! তার জবাবী প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান আব্দুল মান্নান স্মৃতি সংসদ ও কালনী ভিউ অনলাইন নিউজ পোর্টালের কর্তৃপক্ষের অনেককে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করলেন দিরাই থানায়! সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম ভূয়া-মুক্তিযোদ্ধা ইস্যুর পক্ষে-বিপক্ষে..।
সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে নিয়ে দেশে-বিদেশে জীবদ্দশাতে বা মৃত্যুর পর বিভিন্ন সংগঠন গড়ে উঠে তা স্বাভাবিক ব্যাপার। ব্যক্তিকে যখন তার অবধানের অধিক অথবা ভক্তরা খল-নায়ক কে মহা নায়ক বানাতে যান! তখন প্রতিবাদ-বিতর্ক শুরু হয় স্বভাব সিদ্ধ ভাবে..। আমি ব্যক্তিগত ভাবে দিরাই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিবাদ কে ১০০% সমর্থন করি। তবেঁ তাদের দাবিকে অস্বীকার করি কিভাবে..? উনি যদি সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধ করে থাকেন! তাহলে “আব্দুল মান্নান” কে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
প্রশ্ন কিভাবে..? এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্বতো তাদেরই যারা উনার স্বজন বা উনার নামে সংগঠন ফেরি করছেন.? উনারা মুক্তিযোদ্ধার নামে সংগঠন করে সমাজ সেবায় অবদান রাখতে পারেন আর সরকার যে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করছে কয়েকবার গেজেট প্রকাশ করেছে আর তাতে যে কিছু ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভূত হয়েছে আবার কিছু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা রয়ে গেছে তালিকার বাহিরে আশাকরি তা উনারা সম্যকভাবে অবগত আছেন..!? তাহলে কেন উনারা আইনসংগত ভাবে আব্দুল মান্নান কে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্তি করলেন না..? বিতর্ক যখন উঠেছে তখন উনার ছেলে নিরব ভূমিকা পালন করছেন আর মুক্তিযুদ্ধের কুড়ি বছর পরে যে ছেলেদের জন্ম তাঁহারা বাপ-দাদার বয়েসী ব্যক্তিদের কে আক্রমণ করে কথা বলছেন কিন্তু স্বপক্ষীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপন করছেন না! উনি মুক্তিযুদ্ধ করে থাকলে সহকর্মী সবাই মরে যান নি..এখনো অনেক জীবিত আছেন তাদেরকে স্বচক্ষে দেখা সাক্ষী হিসাবে উপস্থাপন করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়ানো যেত তা না করে হম্বিতম্বি করে জল ঘোলা করা গাধার স্বভাব..! একজন মুক্তিযোদ্ধা কে স্মরণ করতে যেয়ে আইনানুগ পহ্না অবলম্ব করা সবার জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, গ্লোবাল সিলেট ডটকম। 

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :1414 বার!

JS security