মাদক বিরোধী অভিযান ও বন্ধুক যুদ্ধ সমাচার!

এস,এম,ওয়াহিদুল ইসলাম

বর্তমান সময়ে মিডিয়ার হটকেক “চলে যাই মাদকের সাথে যুদ্ধে” চায়ের টেবিল মাড়িয়ে ইফতারির টেবিলেও আলোচনায় স্থান করে নিয়েছে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। চলমান মাদক বিরোধী অভিযান অন্ধকার জগতের অজানা অনেক কাহিনী বেড়িয়ে আসছে পাঠকের সামনে। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সরগরম সুস্থ সমাজের জন্য ক্যান্সার সম মাদক নিয়ে। অভিযানে বিপুল মাদকদ্রব্য ও মাদক  কারবারি নারী-পুরুষ সদস্য গ্রেফতার এবং পাশাপাশি “বন্ধুক যুদ্ধে” সমান তালে নিহতের সংবাদ আলোড়ন তুলেছে দেশবিদেশ।

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে জনপ্রতিনিধি, মডেল, ছাত্রছাত্রী থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকের জড়িত থাকার তথ্যের পাশাপাশি সুন্দরী কল গার্লদের রুপ যৌবন কে পুঁজি করে কিভাবে আলিশান বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছে মরণনেশা মাদক ব্যবসা করে তা জনসম্মুখে ক্ষমান্নয়ে প্রকাশ হচ্ছে। টপ অব দ্যা কান্ট্রি আওয়ামীলীগ দলীয় এম,পি, আব্দুর রহমান বদি’র ইয়াবা ব্যবসার মূল গডফাদার হিসাবে জড়িত থাকার ইস্যু!
স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রিপোর্টএ বদি জড়িত থাকার বিষয়ে খোলামেলা অভিযোগ করলেও ক্ষমতাসীন মহলের দলীয় বা প্রশাসনিক একশনের বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়!
মাদক বিরোধী অভিযানকে শুরুতে সবাই সাধুবাদ জানালেও এখন দেশের প্রধান বিরোধী দল সহ মানবাধিকার সংগঠন ও ক্ষেত্র বিশেষ ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও মৃদু সমালোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বন্দুক যুদ্ধে নিহতের অধিকাংশই সেবনকারী ও নিরীহ লোক বলে মিডিয়াতে চাউর হচ্ছে! আবার দু-একজন সরকার ও বিরোধী দলের নিরাপরাদ রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছে অভিযোগে সারাদেশে হইচই!
বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এর নিবেদিত প্রাণ পরীক্ষিত কর্মী ও ৩ বারের নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৎ ও জনপ্রিয় একরামুল নিহতের ঘটনা প্রিন্ট, ইলেকট্রিক ও সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম! দলীয় নেতাকর্মী থেকে বিরোধী দল এবং মিডিয়া বলছে নিহত একরামুল মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী উচ্চকণ্ঠ ছিলেন।
মাদক সম্রাট আব্দুর রহমান বদি’র মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধাচরণ ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সাবেক এমপি’র আত্মীয়তাই তৃণমূলের ত্যাগী এই নেতার করুণ মৃত্যু নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। পুলিশও বলছে মাদকের কোন মামলা নেই নিহত একরামুলের!
একরামের স্ত্রী বলেন, অভিযানের সময়টিকে কাজে লাগিয়েছে কুচক্রীরা। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী যাওয়ার পথে মোবাইলে বলেছিলেন, ‘ওদের সঙ্গেই আমাকে হ্নীলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ’ আয়েশা বেগম আরো বলেন, তাঁর স্বামী সেদিন ইফতারের পর বের হওয়ার সময় তাঁর কাছে ৫০০ টাকা চান মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে। কিন্তু ঘরে ছিল মাত্র ২০০ টাকা। পরে তিনি পাশের এক হোটেলের ম্যানেজারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা হাওলাত করে এনে দেন। তিনি জানান, তাঁদের একটি ঘর নেই। তাঁরা থাকেন কেবল একটি রুমের ঘরে এবং একটি বিছানায় দুই কন্যাসহ।
একরামের স্ত্রী জানান, তাঁদের দুই কন্যা তাহিয়া হক অষ্টম শ্রেণি ও নাহিয়ান হক ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। মেয়েদের টিউশন ফি এবং ঘরের পাঁচ মাসের বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া রয়েছে। তাঁর ব্যাংকের হিসাবেও কোনো টাকা নেই। এমন একজন ব্যক্তিকে কোনোভাবেই ইয়াবা কারবারের দায়ে হত্যা করতে পারে না—এমনই বিশ্বাস আয়েশা বেগমের এবং দলীয় নেতাকর্মীদের।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায়ও কাউন্সিলর একরামুলের সততার পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়, আওয়ামী লীগের এই নেতা এক যুগ আগে একটি পাকা ঘর করার জন্য কয়েকটি পিলার করেছিলেন। সেই পিলার এখনো রয়ে গেছে। তাই একরামুলের হত্যা নিয়ে দল ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো বক্তা এ রকম আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন—ইয়াবা কারবারে জড়িত নয় এমন আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকে একরামুলের মতো করে হত্যার ঘটনা ঘটাতে পারে মাদকের গডফাদাররা।
এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন আমি যখন যাকে ধরি থাকে রেহাই দেইনা, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদেরকে কোন ছাড় দেওয়া হবে সে যতই প্রভাবশালী হোক।
আমরা চলমান মাদক বিরোধী অভিযান কে স্বাগত জানাই পাশাপাশি অভিযানে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলতে চাই সুস্থ সমাজের ক্যান্সার সম মাদক নির্মূলে অধিকতর সচেতনতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিবেন, অর্থ ও প্রভাবশালীদের ক্ষমতার কাছে নথি স্বীকার না করে আইনের ধারা সমুন্নত রাখবেন, মাদকের মূল হোতাদেরকে আইনের আওতাধীন নিয়ে আসবেন এই প্রত্যাশা সাধারণ জণগনের।

লেখক:- বার্তা সম্পাদক, গ্লোবাল সিলেট ডটকম ও সহসভাপতি দিরাই অনলাইন প্রেসক্লাব।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :708 বার!

JS security