মায়ের লাশ নিয়ে সাইকেলে ছেলে :নিচু জাত বলে ছোঁয়নি কেউ

  ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাবা নেই। সেই অনেক ছেলেবেলায় বাবাকে হারানো ১৭ বছরের কিশোর সুরজের মাও তাকে ছেড়ে গেলো আচমকা। সুরজ আর তার মা মিলিয়ে দু’জনের সংসারে তার মাকে ঘিরেই তার পৃথিবী আর্বতিত হতো। মা জানকী সিংহানিয়া বহু বছর ধরে সংসার চালাতেন, একা হাতেই মানুষ করছিলেন ছেলেকেও। মা জানকীর হঠাৎ মৃত্যুতে কিশোর সুরজের আস্ত পৃথিবীটা এলোমেলো হয়ে গেলো। কিন্তু কী করা? মায়ের সৎকার তো করতে হবে। অথচ মায়ের শেষকৃত্যের জন্য টাকাটুকুও ছিল না কৃষক ছেলের হাতে। এত বড় ধাক্কা সামলাতে একটু সময় লাগলেও বাস্তব মেনে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। হাত পেতেছিলেন প্রতিবেশিদের কাছে। কিন্তু এরপর আরো কঠিন বাস্তবতার মুখাপেক্ষী হতে হল তার। পাড়ার ‘নিচু’ জাতের ছেলে বলে প্রতিবেশিরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তার পাশে দাঁড়ায়নি। অবশেষে বাধ্য হয়ে মায়ের লাশ সাইকেলে করে জঙ্গলে কবর দিতে নিয়ে যায় কিশোর ছেলেটি।প্রতিবেশিরা চলতি পথে তাকে হা করে তাকিয়ে দেখেছে, অনেকে অনেক প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছে তার দিকে। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি। তবু থেমে যায়নি কিশোর পুত্রের পথ চলা। শোকাহত পুত্র চোখের জল মুছতে মুছতে মায়ের দেহ সাইকেলে চাপিয়ে শ্মশানের উদ্দেশে হাঁটতে থাকে। পরে একটি জঙ্গলে গিয়ে মায়ের দেহ কবর দেয় সুরজ। এ ঘটনা ভারতের উড়িষ্যার সুন্দরগড়ের কড়পাবাহাল গ্রামের। একটি ভারতীয় গণমাধ্যম এমনই একটি ঘটনার ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ করে। আর এতেই হইচই পড়ে যায় ভারতজুড়ে। প্রতিবেদনে জানা যায়, হঠাৎ পানি আনতে গিয়ে ৪৫ বছর বয়সী মা জানকী দেবী মারা যান। তার মায়ের মৃত্যুতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা চান। ‘নিচু জাতের’ বলে সুরুজের মায়ের শেষকৃত্যে এগিয়ে আসেননি গ্রামের কেউ। পরে ছেলে সাইকেলে লম্বালম্বি দুটি বাঁশ বেঁধে মায়ের লাশ চাপিয়ে গ্রাম থেকে প্রায় চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলে কবর দেয়। এর আগে ২০১৬ সালে দেশটির উড়িষ্যায় হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্স দিতে না পারায় স্ত্রীর লাশ মাদুর জড়িয়ে কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন দানা মাঝি নামে এক ব্যক্তি। ওই সময় বেশ আলোচিত হয় সেই ঘটনাটি। 

সূত্র: খোলা কাগজ।  

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :173 বার!

error: Content is protected !!
JS security