মৌলভীবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫

 

গ্লোবাল ডেস্ক :- বোনের বিয়েতে সর্বোচ্চ আনন্দ করেছিলেন প্রিয়া। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বোনের বৌভাত শেষ করে পরিবারের সদস্যদের সাথে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘুম আর ভাঙেনি। চিরঘুমে সকালে বাবার, কাকী, মামি ও মামাত বোনোর সাথে পোড়া লাশ হয়ে বেরিয়েছেন তিনি।
এমনই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মৌলভীবাজারে সেন্ট্রাল রোড (এম সাইফুর রহমান রোড) এর পিংকি সু স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের নিহতরা। সেন্ট্রাল রোডে ওই দু’তলা ভবনের নিচ তলায় সুভাষ রায় পিংকি সু স্টোর নামের জুতার দোকান পরিচালনা করতেন এবং দ্বিতীয় তলায় ভাই এবং তার পরিবার নিয়ে একসাথে থাকতেন।

নিহতদের মধ্যে দিপা রায় ও বৈশাখী সুভাষের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসেন। তারা হবিগঞ্জের উমেদনগরের বাসিন্দা।

জানা যায়- সুভাষ রায়ের মেয়ের পিংকির বিয়ে গত ২২জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ে উপলক্ষে আত্মীয়রা বাসায় আসেন। গতকাল সোমবার মেয়ের বউভাত শেষে বাসায় ১২জন সদস্য অবস্থান করেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে ভবনের নিচ তলায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ক্লান্ত সবাই তখন ঘুমে ছিলেন।

আগুন টের পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের ৭ জন আপশপাশের বাসিন্দাদের সহায়তায় বেরিয়ে আসেন। কিন্তু ভয়াবহ আগুনের কবলে আটকা পড়েন ৫ জন। ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে তারা মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

নিহতদের পরিবারের নিকটাত্মীয় কল্প রায় বলেন- বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষের দিকে ছিল। গতকাল বৌভাত শেষ করে রাতে আমরা সবাই আনন্দ করেছি। এর মধ্যে আমি অন্যত্র চলে আসি আর ওই বাসাতে তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীস্বজনসহ ১২জন অবস্থান করেন।

সকালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা খবর পেয়ে কয়েকজনকে উদ্ধার করি। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এমন ছিল যে তাদের পাঁচজনকে বের করে আনা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা রুপম আচার্য্য জানান- বাসার অবস্থা এমন ছিল যে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার বিকল্প ছিলনা। সদর দরজা দিয়ে তাৎক্ষণিক যাদের সম্ভব হয়েছে বের করে এনেছি। কিন্তু আগুন এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে পুরো ভবন ধুয়া আর আগুন। কেউ কিছু দখেতেই পায়নি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে এই ভয়াবহ ঘটনায় সহকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানাকে প্রধান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। এছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় নিতদের পরিবারকে এক লক্ষ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :268 বার!

JS security