যন্ত্রদানব দিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে শ্রমিকের নামে বিল দেখিয়ে ৪০ কোটি টাকা লুটপাটের প্রতিবাদে মানবন্ধন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:- এবছর সুনামগঞ্জে হাওড় রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১১টি উপজেলায় ৯৬৪টি প্রকল্প (ফসল রক্ষা বাঁধ) তৈরি করা হয়েছে। আর এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধে এক্সেভেটর(যন্ত্রদানব) দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকরা ৬২ ভাগ টাকা উত্তোলন করেছে। এখন পরবর্তী বিল উত্তোলন করার জন্য মাস্টার রোল করা হচ্ছে শ্রমিকের নামে। অথচ এসব বাঁধে মাটি কাটা হয়েছে মেশিনের মাধ্যমে। মাস্টার রোলে শ্রমিকের নামে টাকা উত্তোলন করা হলে ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিবে একটি চক্র। কিন্তু হাওড় রক্ষা বাঁধের নতুন নীতিমালায় মেশিন ও শ্রমিকের জন্য আলাদা আলাদা রেট রয়েছে। ছিল দুর্বাঘাস ও কমপেকশনের জন্য ৪৩ কোটি টাকা। এসব কিছুই করা হয়নি হাওড়ের বাঁধগুলোতে।

কিন্তু এখন ফসল রক্ষা বাঁধের পূর্ণ বিল তুলতে মাস্টার রোলে মেশিনের (এক্সকাভেটর) বদলে শ্রমিকের নাম বসিয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে ৮০ শতাংশ প্রকল্পের বিল তোলার প্রস্তুতি চলছে। এটি হলে সরকারের প্রায় ৪০ কোটি টাকা গচ্চা যাবে বলে এরই প্রতিবাদে মানববন্ধন পালন করেছে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের কৃষক ও হাওড় বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও হাওরের চলমান সমস্যা নিয়ে কর্মসুচি পালন করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১ টায় শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্টে) এই মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ খছরু,উপদেষ্টা বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী, রমেন্দ্র কুমার দে, সহ সভাপতি সুখেন্দু সেন, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল ভট্টাচার্য্য, এমরানুল হক চৌধুরী, এ কে কুদরত পাশা প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় অনতি বিলম্বে হয়রানি মুক্তভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু করতে হবে। মেশিন দিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে শ্রমিকের বিল দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। আর এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সুদৃষ্ঠি কামনা করছেন তারা। এছাড়া ও জেলার সকল উপজেলার একই দাবিতে মানববন্দন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :691 বার!

JS security