‘রাজনীতি না করে অভিনেত্রীদের এমপি হতে চাওয়া ইতিবাচক নয়’

গ্লোবাল ডেস্কঃ-  সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ফরম কেনার হিড়িক লেগেছে চলচ্চিত্র ও নাট্যাভিনেত্রী এবং কণ্ঠ শিল্পীদের মধ্যে। দলটির ফরম বিক্রির তৃতীয় দিন পর্যন্ত চিত্রনায়িকা ও সাবেক এমপি কবরী সারোয়ার, সুজাতা, সুবর্ণা মুস্তাফা, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস, অপু বিশ্বাস, মৌসুমী, তারিন, ফাল্গুনী হামিদ, অঞ্জনা, নতুন, দিলারা, জ্যোতিকা জ্যোতি, কণ্ঠশিল্পী সুমি আক্তার ফরম সংগ্রহ করেছেন। এবারই প্রথম চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতের এত বেশি সংখ্যক নারী আওয়ামী লীগের হয়ে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, এবার সংস্কৃতি জগতের ৬২ জন সংরক্ষিত আসনের ফরম কিনেছেন। এর আগে দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে পরে মন্ত্রী হয়েছিলেন অভিনেত্রী তারানা হালিম। এবার এখনও তিনি ফরম সংগ্রহ করেননি। এছাড়া, নবম সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। এরপর তিনি দশম এবং একাদশ সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। নবম সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা কবরী সারোয়ার। এবারও তিনি সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এত বেশি সংখ্যক অভিনেত্রীর সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফরম কেনার বিষয়টি সহজভাবে দেখছেন না রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তারা বলছেন, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকে চিত্রজগতের অভিনেত্রীদের এমপি হওয়ার আগ্রহ ভীতিকর। রাজনীতি না করে অভিনেত্রীদের এমপি হতে চাওয়া ইতিবাচক নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, ‘অভিনেত্রীদের রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বা এমপি হওয়ার এই আগ্রহ ইতিবাচক নয়, বিশেষ করে রাজনীতি যেখানে জনকল্যাণের জন্য। কোনও অভিনেত্রী যদি জনকল্যাণমূলক কিছু করতে চান, তাহলে তার জায়গা থেকে করার অনেক কিছু আছে, যার নজির সারা পৃথিবীতে আছে। হঠাৎ করে জনপ্রতিনিধি হয়ে তারা আসলে এর সুযোগ-সুবিধাই নিতে চান।’ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় না থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বা জনপ্রতিনিধি হতে চাওয়াকে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। আওয়ামী লীগের ফরম সংগ্রহ করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার যোগদানের বিভিন্ন ছবি গণমাধ্যমে আসার পর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম কেনা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা সমালোচনার। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণায়ও তিনি অংশগ্রহণ করেননি। সুবর্ণা মুস্তাফা, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস, অপু বিশ্বাস, তারিন, জ্যোতিকা জ্যোতি, পুর্ণিমা সক্রিয়ভাবেই নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছিলেন। তাদের অনেকে ঢাকা বাইরে গিয়েও বিভিন্ন জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে রোকেয়া প্রাচী মহিলা লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক। আর কবরী সারোয়ার, অরুণা বিশ্বাস, তারানা হালিম আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গে জড়িত। মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে মৌসুমী গত বৃহস্পতিবার এফডিসিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল— কোনও একদিন রাজনীতিকদের পাশাপাশি আনকোরা, নতুনরাও সুযোগ পাবে। শুধু যে রাজনীতিকরাই রাজনীতি করবেন, তা নয়। এর ইঙ্গিত আমরা পেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর নতুন মন্ত্রিসভাতেই। তাই ফরম কিনেছি।’ জাসাসের অনুষ্ঠানে তার যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। শিল্পী হিসেবে অনেকেই আমাকে ডেকেছেন, গিয়েছি। আমি আগে কখনও বলিনি— কোনও দলের, কিংবা কারও হয়ে কাজ করতে চাই। তাহলে এই প্রশ্ন কেন আসছে? আমি এত বছর সততার সঙ্গে কাজ করেছি, এমন প্রশ্ন তুলে আমাকে ম্লান করে দেবেন না। অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেছেন, তার এলাকা ময়মনসিংহের গৌরিপুরের মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এখন তার অবস্থান থেকেই তিনি সাধ্যমতো জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। সংসদ দেশের সর্ববৃহৎ পরিসর। সেখান থেকে জনগণের জন্য কিছু করাটা অনেক সহজ। গণজাগরণ মঞ্চে নিজের সক্রিয়তা এবং আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করাকে তিনি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা হিসেবে উল্লেখ করেন। মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক রোকেয়া প্রাচী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার পরিবারে বাবা-চাচা মিলিয়ে তিন জন এবং অন্যান্য আত্মীয় মিলিয়ে পাঁচ জন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার সময়ে মিরপুরে শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন আমার বাবা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ওই এলাকায় যে কয়জন ব্যক্তি আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করার কাজ করেছেন, আমার বাবা তাদের অন্যতম।’ প্রাচী বলেন, ‘জাহানারা ইমামের ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছি, গণজাগরণ মঞ্চে কাজ করেছি। ২০১৪ সালের পর সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে মহিলা লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। এসব বিবেচনায় আমি সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করি। দলের প্রতি আমি পরিপূর্ণভাবে আস্থাশীল। যদি সুযোগ পাই, তাহলে নিষ্ঠার সঙ্গে একজন পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে কাজ করবো।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :463 বার!

JS security