লক ডাউন, নিম্নবিত্তদের হাহাকার

লেখক মুহাম্মদ হাবিলুর রহমান জুয়েল:: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার কতৃক গৃহীত সিদ্বান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের সব দোকানপাট, হাট বাজার বন্ধ। যদিও বিষয়টি সরকারের জন্য জনসার্থে হলেও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কি জনসার্থে? প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যারা এককাপ চা খেয়ে পরিবারের বাকি ৮-১০ জনের খাবারের যোগান দিত তারা আজ কোথায়? প্রশ্নের উত্তর একটাই সবাই হোম কোয়ারান্টাইন বা ঘরবন্দী বলা চলে। কিন্তু তাদের ঘরবন্দী থাকলেই কি করোনা থেকে আমরা মুক্ত হয়ে গেলাম।

হ্যা” তারাও অন্য সবার মত ঘরে থাকুক আমরাও চাই তারা যেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু তাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার ঘরবন্দী করেছেন তা কি রক্ষা করা গেল। যদি রক্ষা করা হয়ে থাকে তবে কেন এসব নিম্ন আয়ের মানুষদের চোখে পানি, চিন্তার চাপ। অভাবের মধ্যে টানাটানির সংসার এখন চলবে কি করে? খাবার পাবেন কোথায়। মানুষের পাচটি নিত্যপ্রয়োজনীয় অংশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খাবার। কিন্তু সেই খাবারের জন্য এখন এই নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো কোথায় যাবে। অনেকক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় – সরকার বরাদ্দকৃত অর্থ খাবারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঠালেও তা শেষ পর্যন্ত যথাযথ ব্যক্তির নিকট এসে পৌঁছে না। বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় এক কোটি পরিবার নিম্নবিত্ত অথবা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অংশে।

কিন্তু এসকল পরিবারের পক্ষে একটানা দু-সপ্তাহ বিনা কর্মে বা ব্যাবসা ছাড়া তাদের পক্ষে একদিনও খাওয়া সম্ভব নয়। এদের খাবার নিশ্চিত করা এখন সরকারের দায়িত্ব। কেন এখন এসকল লোকদের মুখে ঝাপসা আলোর ছাপ। এজন্য প্রয়োজন ছিল নির্ধারিত কিছু সময় বেধে দেওয়ার যাতে তারা অন্তত কর্ম করতে পারে ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসা করা আবার গাড়ি চালক সহ অন্যান্য কর্মজীবীদের কর্ম করার সুযোগ। যদিও তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের যোগান না দিতে পারলে করোনা ভাইরাসের পূর্বেই দুর্ভিক্ষের কারণে বাংলাদেশে মারা যাবে অনেক মানুষ সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

আমরা করোনার দুহাই দেখিয়ে তাদের সতর্ক করছি কিন্তু রাস্তায় বের হলে দেখা যায় কিছু রিক্সা চালক যাত্রীদের অপেক্ষায়। অথচ সারাদিন বসে থেকে সন্ধ্যায় বাড়িতে গিয়ে সন্তানদের ক্ষুদার জ্বালার আহাজারিতে যখন পকেটে গুনে দেখে ৫০ টাকা আছে তখন এককেজি চালের বিপরীতে ডাল দিয়ে খিচুড়ি বানানো ছাড়া উপায় নেই এদের। আবার একশ্রেণির মানুষ লজ্জ্বায় কারোও কাছে সাহায্য চায় না নিজ কর্মে যা পায় তাই নিয়ে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তাদের তো এখন কর্মের সুযোগ নেই।

সরকারি কর্মকর্তারা নির্দেশ দিচ্ছেন ঘরে বসে থাকার জন্য। একারণে সরকার যদি এসকল লোকদের খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারে তবে “উর্ধতন সরকারি সকল কর্মকর্তাদের বেতন থেকে একটা অংশ বের করে তাদের খাদ্য নিশ্চিত করা হোক” এ উপায় ব্যাতিত বাংলাদেশের মধ্যে এই দুই শ্রেণির লোকদের খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারি কঠোর তদারকি এবং সকলের খাবার নিশ্চিত করা এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :240 বার!

JS security