শামসুদ্দিন হাসপাতালে খালি নেই আইসিইউ বেড


সিলেটে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা খালি নেই। খালি নেই করোনা সাসপেক্টেড(সন্দেহভাজন) ওয়ার্ড, রোগীতে ভরপুর করোনা পজেটিভ ওয়ার্ডও। কোভিড-১৯ রোগী সামাল দিতে পারছেনা সিলেটে করোনার জন্য ডেডিকেটেড ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল।
এদিকে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ১৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। করোনা শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করায় রোগীর চাপ বেড়েছে বেসরকারি হাসপাতালেও।
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৮৪টি সাধারণ বেড ও ১৬টি আইসিইউ বেড রয়েছে। ১৬টি আইসিউ বেডের মধ্যে ১৪টিতে রোগী ভর্তি করা হয়। আর দুটি বেড ডায়ালাইসসি এর জন্য ফ্রি রাখা হয়। ১৪টি আইসিইউ বেডে ১৪ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন রোগী ভর্তির কোনো স্থান নেই। এছাড়া, সাধারণ ৮৪টি বেডের মধ্যে কোভিড সাসপেক্টেড ওয়ার্ড পুরোপুরি ভরে গেছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর.এম.ও) ডাঃ সুশান্ত কুমার মহাপাত্র গতকাল বুধবার সিলেটের ডাককে জানান, হাসপাতালে ৭৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে গতকাল বুধবার সকালে নতুন ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, গত মার্চ মাসের শেষের দিকে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। বর্তমানে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। আইসিইউ বেড়ে এবং করোনা সাসপেক্টেড ওয়ার্ডে নতুন রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮৩ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৭৪ জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের করোনা রোগীদের জন্যে সরকারিভাবে নির্ধারিত ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে গত বছরের ৫ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্যে ১শ’ প্রস্তুত করা হয় হাসপাতালটি। এতে সাধারণ বেড ৮৪টি, আইসিইউ বেড ১৬টি, হাই ফ্লু নজেল কেনোলা ৬টি, অক্সিজেন সিলিন্ডার ২৬১টি, ৯টি ভেন্টিলেশন রয়েছে। এছাড়া খাদিম ৩১ শয্যা হাসপাতাল ও দক্ষিণ সুরমায় স্বাস্থ কমপ্লেক্সকে করোনা আইসোলেশন সেন্টারে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে গতবছরের ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকে। মার্চ থেকে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত গতিতে। পাশাপাশি রোগীর চাপ বেড়েছে হাসপাতালেও।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেটসহ পুরো দেশে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু, গতকাল বুধবার লকডাউনের তৃতীয় দিন দেখা গেছে, সিলেট নগরীতে লকডাউনের কোনো প্রভাব নেই। মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে খুবই ঢিলেঢালাভাব দেখা গেছে মানুষের মধ্যে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্য বিধি পালন করতে হবে এবং করোনা সংক্রমণের উৎস বন্ধ করতে হবে। এটা যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি, তাহলে সংক্রমণ কমানো সম্ভব হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সংক্রমণ যেন না ছড়ায়। তাই যাদের করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে, তাদেরকে সামাজিক সহায়তা দিয়ে আইসোলেশনে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়ক আইসোলেশন ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কোয়ারেন্টিন দিতে হবে।
এদিকে, গতকাল বুধবার সকালে স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, যে কোনো মূল্যে করোনা সংক্রমণ রোধ করা না গেলে হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা বাড়িয়েও লাভ হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া ও পরিসংখ্যানবিদ মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্যে জানানো হয়েছে,
সিলেট বিভাগে ২৪ ঘন্টায় (গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৪২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এ রোগে আক্রান্ত আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ জন এবং করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন ৬৫ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট বিভাগে নতুন শনাক্ত ১৪২ জনের মধ্যে সিলেট জেলার ১০৩ জন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন, হবিগঞ্জ জেলার ১জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ১৩ জন।
এই ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেট জেলার আরও ২ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯৫ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ২২৭ জন, সুনামগঞ্জে ২৬ জন, হবিগঞ্জে ১৮ জন এবং মৌলভীবাজারে রয়েছেন ২৪ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলার ৪ জন, হবিগঞ্জ জেলার ২জন ও মৌলভীবাজার জেলার ২ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন সিলেট জেলার ২৭৪ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ৪ ও মৌলভী বাজার জেলায় ৫ জন।
গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনামুক্ত ৬৫ জনের মধ্যে সবাই সিলেট জেলার। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১১ হাজার ২৫৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ২ হাজার ৬০৯ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ৮৬ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ২ হাজার ৮৯ জন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে করোনা মুক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১০ হাজার ৩৩৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ২ হাজার ৫৩৮ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ৬৯৫ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ১ হাজার ৯২৪ জন
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের মতো সিলেটে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। আজ বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম।

 

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :33 বার!

JS security