শাল্লায় অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা, প্রশাসন নিরব!

আটগাও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিবাদ করলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকায়!
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে চোলাই মাদকের রমরমা ব্যবসা। আর পাশাপাশি চলছে জোয়ার আসর। রাতভর জোয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ছে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা। জেলার এই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে চোলাই মাদকের কারখানা। আর এসব কারখানা থেকে প্রশাসন ও স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যাক্তিদের মাসোহারায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাদক ছড়িয়ে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ।

যুব ছাত্র সমাজ কে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আটগাও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মামুন আল কাওছার প্রতিবাদে সরব হলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোলাই মাদকের অবাধ বেচাকেনা নিয়ে আওয়ামী লীগ কিছু নেতারা প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে এই বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তবে অভিযোগ আছে পুলিশ প্রশাসন মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আটক না করে মাদক সেবীদের আটক করছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই উঠছে।

শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মাদকের ব্যবসা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে আটগাও ইউনিয়নের চিকাডুবি, ভর্লবপুর, দৌলতপুর এলাকায় চোলাই মাদকের অন্তত ৪০টি কারখানা রয়েছে। আর এসব কারখানা নিয়ন্ত্রন করছেন জামির মিয়া, মোশাহিদ, রমজান, ইসলাম উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, গফুর মিয়া ও মনু মিয়া। আর এসব ব্যবসায়ীরা সুকৌশলে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে প্যাথেডিন ইনজেকশন, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাজাসহ নানা প্রকার নিত্য নতুন মাদক। মাদক ব্যবসায়ীরা অতি কৌশলে ফেন্সিডিল চোরাপথে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে আসছে। এছাড়াও, উপজেলার কামারগাও, নারকিলা, শাল্লা সদর, ভেরামোহনার নৌকাঘাট, আনন্দপুর মাদক ব্যবসা দেধারচ্ছে চলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে যত সামান্য ধরা পড়লেও মূল চালান ধরা ছোয়ার বাহিরে চলে যাচ্ছে।

যানবাহনের মধ্যে মোটর সাইকেল আর নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে থানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ থাকলেও মাদক ব্যবসায়ীদের কারখানায় অভিযান তেমন দেখা যায়নি। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর মাদক ব্যবসায়ীরা চোলাই মদ তৈরি করে সেই মদ পটকা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরে এসে আবারও এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।

তারা অন্য কোন কাজ না করে সহজ পদ্ধতির ব্যবসা করছে। এই উপজেলায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করে ভ্রাম্যমান ভাবে বিক্রি করছে। তাদের কাছে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে ক্রেতারা নির্ধারিত স্পটে এই মাদক ক্রয় করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় ব্যক্তির সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন আতাত রয়েছে। মাস গেলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেয়া হচ্ছে।

শাল্লা থানার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনদেরকে বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন আতাত করতে দেখা যায়। মাঝে মধ্যে লোক দেখানোর জন্য অভিযান চালিয়ে মাদক সেবীদেরকে আটক করে মাদক দিয়ে ব্যবসায়ী বানিয়ে মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিলে মাদক সেবী বানিয়ে ভ্রাম্যমান করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই মাদক ক্রয় করছে উঠতি বয়সের যুবক, স্কুল পড়ুয়া ছাত্র, রিক্সা শ্রমিক ও ধনাঢ্য আলালের ঘরের দুলালেরা। এই মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে এখনিই মাদক ব্যবসায়ী হোতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তা না হলে যুব সমাজ মাদকের বিষাক্ত ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে সচেতন মহলের দাবী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটগাও ইউনিয়নের এক ব্যাক্তি জানান, এই ইউনিয়নে মাদকের পাশাপাশি জোয়ার আসর একটি বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিরাতে এই জোয়ার আসরের ফলে চুরির সংখ্যা বেড়ে উঠেছে। আটগাও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন আল কাওছার জানান, আটগাও ইউনিয়নে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

এই ব্যবসার ফলে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এই মাদকের করালগ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা চাইলেও কোনো সুরাহা হয়নি। আর জোয়ার আসরের ফলে এলাকার বিভিন্ন গ্রামে চুরির সংখ্যা বেড়ে উঠেছে। প্রতিরাতেই খালি হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গ্রামের ৩/৪টি গ্রামের আসবাবপত্র। তাই আমরা সচেতনমহল ও এলাকাবাসী এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে মাদক কারবারিদের আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্ঠি কামনা করছি।

এই বিষয়ে সহকারি এসপি বেলায়েত হোসেন সিদ্দিক(দিরাই শাল্লা সার্কেল) জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। আটগাও ইউনিয়নে মাদক কারবারিদের সুনির্দিষ্ঠ তথ্য পেলে অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হবে মাদকের আস্তানা। আর মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :1243 বার!

JS security