শাল্লায় হামলার শিকার গুরুতর আহত, কলেজ ছাত্র পাভেল’র উপর মাদক ব্যবসায়ীদের থানায় উল্টো অভিযোগ!

ইনসেটে- আঘাতের চিহ্ন ও আহত পাবেল

বিশেষ প্রতিনিধি:-
শাল্লা উপজেলার চোরাবস্তি হিসেবে পরিচিত প্রত্যন্ত গ্রাম নারকিলায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার দিরাই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী পাবেল উপর মাদক ব্যবসায়ীদের সংঘবদ্ধ হামলার পর উল্টো শাল্লা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মাদক ব্যবসায়ীদের মূলহোতা সেলিম। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত, হামলার শিকার দিরাই ডিগ্রী কলেজ ছাত্র পাভেল বলেন বিগত ১৯শে মে, চুলাই মদ ব্যবসায়ীদের ইন্ধনে আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরবর্তী কামারগাওয়ের মাদক সেবী মজির উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন আমাকে আমাদের গ্রামেই মদ খেয়ে মাতলামি করে শার্টের কলার ধরে মারপিট করে গা’য়ের জামা ছিরে পেলে। এবিষয়ে শাল্লায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলাম ২৩-০৫-২০১৮ ইং তারিখে।ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায় নারকিলা গ্রামের একমাত্র উচ্চশিক্ষিত ও অধ্যায়নরত ছাত্র আব্দুর রহমের ছেলে পাভেল আহমেদ ফেসবুকের নিজ ওয়ালে নিয়মিত পাড়া প্রতিবেশীদের মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী পোস্ট লিখে আসছেন এতে মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শাল্লা থানা পুলিশেরও চক্ষুশূল হয়ে উঠেন তিনি! মাদক ব্যবসায়ীদের হুমকি ধমকি ও শাল্লা থানার এক এস,আই,র অকত্য গালাগাল এর কারণে পুলিশ সুপার সুনামগঞ্জ কে বিষয়ট অবহিত করলে পুলিশের দিরাই-শাল্লার সার্কেল বেলায়েত হোসেন বিগত মার্চে আহত পাভেলের বাড়িতে ঘটনা সরজমিন তদন্ত করতে যান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে রিপোর্ট হয় শাল্লার মাদক স্পট উল্লেখ করে! এতে শাল্লা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন রিপোর্টকারী ও ফেসবুকে শেয়ারকারীদের উপর, বিশেষ করে নারকিলার পেশাদার চুর ও মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানলে পরেন কলেজ ছাত্র পাভেল আহমেদ রেফারেন্স দাতা সন্দেহে!

শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরে আসার পথে পাভেলকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। তার মাথা, পা ও হাতে ধারালো ছুরির একাধিক আঘাত রয়েছে। ঘটার পরপর মোবাইলে আহত পাভেল শাল্লা থানার ওসি’কে হামলার ঘটনা অবহিত করলে উনি উল্টো আক্রান্ত ছাত্র পাভেল কে শাসিয়ে আত্মীয় স্বজনকে মাদক মামলা ফাঁসিয়ে দিবেন বলে হুশিয়ারি দেন। মুঠোফোনে সিলেট উসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন পাভেল গ্লোবাল সিলেট ডটকম কে বলেন ওসি আমি অভিযোগ দিলে তা আমলে নিবেন তা নিশ্চিত করেছেন!
প্রসঙ্গত:- নারকিলা গ্রামের কলেজ ছাত্র পাবেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের গ্রামে চোলাই মদ তৈরিসহ দেশিয় নেশাজাত দ্রব্য তৈরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন । এ নিয়ে তিনি নিয়মিত ফেইসবুকে লেখালেখিও করছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গতকাল শনিবার (০৯-০৬-২০১৮) রাস্তায় তাকে মারধর করে।
জানা যায়, নারকিলা গ্রামের হতদরিদ্র আব্দুর রহমানের ছেলে পাবেল মিয়া নিজ উদ্যমে কষ্ট করে পড়ালেখা করছেন। সুনামগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ ও বর্তমান পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান তাকে এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। পাবেল মিয়া গ্রামের সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী। এবছর বিজ্ঞান বিভাগে দিরাই ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।
চোরাবস্তির এই কিশোরের লেখাপড়ার সংগ্রামের বিষয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় তিন বছর আগে একটি মানবিক সংবাদ প্রকাশিত হলে তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেন সুনামগঞ্জের তৎকালীন পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ। তিনি প্রতি বছর তাকে নতুন বই, ভর্তি সহ আনুষঙ্গিক খরচ দিয়েছেন। বর্তমান পুলিশ সুপারও তাকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন।
এপ্রতিনিধিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন-গ্রামের লোকজন হতদরিদ্র থাকায় অনেকেই চোলাই মদ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। পাবেল মিয়া গ্রামবাসীর নেশাদ্রব্য তৈরির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছেন। এ নিয়ে নিয়মিত ফেইসবুকে লেখালেখি করেন। এ ঘটনায় গ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা তার উপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল। মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য থাকার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফেইসবুকে পুলিশের সমালোচনা করেন পাবেল মিয়া। এর জের ধরে শনিবার সকালে পাবেল আহমদ সুনামগঞ্জে আসার পথে একই গ্রামের জিয়া উদ্দিন, কুশেদ আলী, রাজিব, জজ মিয়া, সেলিম, আমজদ আলীসহ কয়েককজন তার পথ আগলে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে ধারালো ছোরা দিয়ে তার মাথা, পা ও হাতে আঘাত করে। স্থানীয়রা পাবেলকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার নাজিয়া মানাল্লুল ইসলাম তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ডা. নাজিয় মানাল্লুল জানান, পাভেল’র শরীরে অনেক আঘাত রয়েছে, পায়ের আঘাতটি প্রায় ছয় ইঞ্চি গভীরে ডুকেছে, তাই তাকে সিলেট পাঠানো হয়েছে। এসময় পাবেল ও স্বজনরা শাল্লা থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুলিশ উল্টো তাদের ধমক দেয়। হামলাকারীরা এখন পাবেলের বিরুদ্ধে উল্টো মামলার করেছে বলে জানা গেছে।
আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী পাবেল মিয়া দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘আমাদের গ্রামের সবাই দরিদ্র। কেউ পড়ালেখা করে না। আমি গ্রামের সবাইকে মাদক ছেড়ে পরিশ্রম করে সন্তানদের শিক্ষিত করার কথা বলি। কিন্তু এ কারণে আমার প্রতি অনেকরই ক্ষোভ আছে। এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ করার কারণে শনিবার আমাকে মারধর করা হয়।
শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন,‘ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পূর্ব বিরোধ নিয়ে পাবেল আক্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাবেলের আত্মীয়-স্বজনরাও মাদক তৈরি ও বিক্রি করে। পাবেলের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হাতাহাতিতে মাথা ও পায়ে কিভাবে ছুরির আঘাত লাগল, জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনা অনেক দূরে, দু’জন অফিসার পাঠিয়েছি বলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :1158 বার!

JS security