শিক্ষা, সত্য, জ্ঞান——শুকদেব বিশ্বাস

শুকদেব বিশ্বাস।

আমি আমার অর্জিত শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে “সত্য ও জ্ঞান” সম্পর্কে জানার বোঝার চেষ্টা করেছি। সত্য সম্পর্কে আমার উপলব্ধি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

Education is the process of knowing or achieving the truth. বলা যেতে পারে শিক্ষা বা এডুকেশন হচ্ছে সত্য জানার বা সত্য লাভের উপায় বা সত্যে পৌঁছানোর উপায়। সত্য লাভের তিনটি পথ আছে। আমরা তিন উপায়ে ‘সত্য’ পেতে পারি।

১। Experimental Truth বা পরীক্ষণীয় সত্য।

২। Theoretical Truth বা তাত্ত্বিক সত্য।

৩। Observational Truth বা পর্যবেক্ষণমূলক সত্য।

১। Experimental বা পরীক্ষণীয় সত্য: সরাসরি বিজ্ঞানাগারে বা পরীক্ষাগারে পদ্ধতিগতভাবে পরিচালিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল হচ্ছে Experimental Truth. যদিও Absolute Truth বা পরম সত্যের ধারনা ধ্রুব নয় অথবা এটি একটি আপেক্ষিক বিষয় তবুও পরীক্ষাগারে প্রমাণিত সত্যকে আমরা মৌলিক সত্য বলে স্বীকার করি।

২। Theoretical Truth বা তাত্ত্বিক সত্য: এটি বিজ্ঞানের সবচেয়ে যৌক্তিক শাখা হিসেবে বিবেচিত বা Pure Logic দ্বারা প্রতিষ্ঠিত গণিত দ্বারা উপনীত সত্য। এই সত্য প্রতিষ্ঠায় গণিতের সাথে বিজ্ঞানের যেকোন এক বা একাধিক শাখা যেমন জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ইত্যাদি যুক্ত থাকতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে প্রাপ্ত সত্যের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এগুলোর সব সত্যকে ল্যাবে পরীক্ষা করার সুযোগ নাও থাকতে পারে। যেমন ধরুন, টাইম ডায়ালেশান বা কাল দীর্ঘায়ন-কে আমরা পরীক্ষণ বা পর্যবেক্ষন কিছুই করতে পারিনা; এটি সম্পন্ন করতে দ্রুতগতির যান সহ যেসব একুইপমেন্ট ও অবজার্ভার প্রয়োজন আপাতদৃষ্টিতে তা সম্ভব নয়। তথাপি এটি গণিত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত তাত্ত্বিক সত্য।

৩। Observational Truth বা পর্যবেক্ষণমূলক সত্য: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারে পরিচালিত সকল পর্যবেক্ষণের ফলাফলকে সত্য বলে ধরা হয়। কিন্তু এর বাইরেও সভ্যতার ইতিহাসে মানব প্রজাতি শুধুমাত্র Observe বা পর্যবেক্ষণ করে অনেক সত্য আবিষ্কার করেছে। যেমন ধরুন ‘মানুষ মরণশীল’ এটি কোন থ্যিয়োরিটিক্যাল অথবা এক্সপেরিমেন্টাল সত্য নয়। কেউ এটি পরীক্ষা করেনি, গণিত দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও এটি একটি সত্য। এটি তারা কিভাবে পেয়েছে? পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। আমি দেখেছি আমার পূর্বপুরুষেরা মারা গেছে-মারা যাচ্ছে, আমার বাবা দেখেছে তার পূর্বপূরুষেরা সবাই মারা গেছে, সেইসব মৃতরাও দেখেছিল তাদের পূর্বপুরুষেরাও মারা গিয়েছিল। এই অবজার্ভেশন বা পর্যবেক্ষণের ইতিহাস মানুষকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে মানুষ মরণশীল। বলা বাহুল্য এখানে বিজ্ঞানের কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়নি। ধরুন, একজন মানুষ কোনদিন মরবে না, এমন কি হতে পারে? কেউ যদি সত্যি সত্যি না মরে! শুধুমাত্র পূর্বপুরুষদের অবজার্ভেশনই আমাদের বলছে এটি হবার কথা নয়। কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিক অবজার্ভেশনের বাইরের অবজার্ভেশনে প্রাপ্ত অনেক ফলাফল পরবর্তীতে ভুল বা মিথ্যা বলে প্রমাণীত হয়েছে। যেমন ধরুন, সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয় এটি একটি Observational Truth –যেখানে ধরা হয়েছিল সূর্য গতিশীল কিন্তু পৃথিবী স্থির। কিন্তু পরবর্তীতে তাত্ত্বিক পদ্ধতির মাধ্যমে জানি সূর্য আসলে উদিত হয় না, অস্তও যায়না; পৃথিবীর ঘূর্ণনে আহ্নিক গতির কারনে দিন রাত্রি হয় এবং রতিদিন নির্দিষ্ট দিক থেকে তা দৃশ্যমান হয়।

তাই মানের দিক দিয়ে Experimental Truth সবার উপরে, এরপর Theoretical Truth এবং সর্বশেষে Observational Truth. Observational Truth-কে যদি Theoretical Truth এ পরিনত করা যায়, Theoretical Truth –কে যদি Experimental Truth এ নিয়ে আসা যায় তাহলে তা সর্বোত্তম।

তাহলে এডুকেশন (Education) বা শিক্ষার মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে এই তিন সত্যের যে সত্যেই আপনি উপনীত হলেন তা হচ্ছে জ্ঞান বা নলেজ (Knowledge). শুধু সত্য জ্ঞান নয়। শিক্ষা থেকে শুরু করে সত্যে উপনীত হওয়া পর্যন্ত যে পথভ্রমণ, তা লব্ধ সত্যের সাথে যুক্ত হলে সেটি হবে আপনার জ্ঞান বা নলেজ (Knowledge). কোন বিখ্যাত ব্যক্তি বা বইয়ে উল্লেখিত কোনকিছু আপনার জ্ঞান নয়। আপনার বা অন্যের কোন কল্পনা বা বিশ্বাস ‘সত্য’ হবে না ততক্ষন, যতক্ষন তা এই তিনসেটের কোনটির ভেতর দিয়েই লব্ধ নয়। আর যে পদ্ধতি বা মেথডোলজির মাধ্যমে সত্য লাভ বা অর্জন করা সম্ভব নয়, অথবা যে শিক্ষার উদ্দেশ্য ‘সত্য উদ্ঘাটন’ নয় –তা কোন শিক্ষা নয়।

(ভিন্নমত স্বাগতম)।

লেখক- শুকদেব বিশ্বাস

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, উদ্যোক্তা।

(লেখকের ফেসবুক থেকে)।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :511 বার!

JS security