সম্রাটের ২ পিকআপ ভর্তি টাকার সন্ধানে গোয়েন্দারা!

গ্লোবল ডেস্ক:- সম্রাটের ২ পিকআপ – ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার দুই দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে দুই পিকআপ ভর্তি টাকা গেছে চট্টগ্রামের দিকে! এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে।

এই টাকা কোথায় গেছে, কার টাকা, এখন কী অবস্থায় আছে- সব কিছু উদঘাটনের চেষ্টা করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। ধারণা করা হচ্ছে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটই ওই টাকা পা’চার করতে চেয়েছিলেন। রোববার ভোরে গ্রে’প্তার হয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, অবৈধ টাকা রাখার জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, দুর্নীতি, মা’দক, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা। কয়েক শত কোটি টাকা নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।

প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দাদের ধারণা, চট্টগ্রামের হুন্ডি ব্যবসায়ী সাহীন চৌধুরী কাছে এ টাকা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা জানতে হুন্ডি ব্যবসায়ী সাহিন চৌধুরী এবং সম্রাটের ক্যাশিয়ার আলী হোসেনকে হণ্যে হয়ে খুঁজছে গোয়েন্দারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শুদ্ধি অভিযান। আর এ ভয়ে দুর্নীতিবাজ নেতারা বিভিন্ন কায়দায় নিজেদের অর্থ-সম্পদ পা’চার করতে শুরু করেছে।

হঠাৎ করেই এমন বেকায়দার পরিস্থিতিতে পড়তে হবে এটা তাদের ধারণাতেই ছিল না। তাই অনেকে বস্তায় ভরে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন গ্রামের বাড়িসহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের কাছে।

জানা যায়, সম্প্রতি একজন প্রকৌশলী কয়েক বস্তা টাকা তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখতে যান। কিন্তু ওই আত্মীয় রাখতে রাজি হন নি। অবৈধ টাকা রাখার জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, দুর্নীতি, মা’দক, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা। অঢেল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্নীতিবাজরা তাদের সিংহভাগ টাকা পা’চার করেছেন ব্যাংককে অবস্থানকারী চট্টগ্রামের সাহীন চৌধুরী নামের হুন্ডি ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির মাধ্যমে। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে আমলা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির কর্মকর্তা সাহীন চৌধুরীর মাধ্যমে বিদেশে টাকা পা’চার করেছেন।

সূত্র জানায়, উল্লিখিত দুই পিকআপ ভর্তি টাকা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া কিংবা এমন এক নেতার হতে পারে যার নামের আদ্যক্ষর ‘স’। গোয়েন্দারাও এমনটি ধারণা করছেন। সম্প্রতি অভিযানে গ্রে’ফতারকৃতদের মধ্যে খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও ‘স’ আদ্যক্ষরের ওই নেতার টাকা সবচেয়ে বেশি।

রাজনীতির নামে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তির প্রয়োগসহ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় চলছে শুদ্ধি অভিযান।

এ অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে দলের ইমেজ ক্ষুণ্নকারী নেতাকর্মীরা আছেন ‘দৌড়ের ওপর’। দুই বছর আগে থেকেই বিতর্কিতদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়।

দুর্নীতি করলে কেউ যে ছাড় পাবেন না, এমনকি আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতা, শীর্ষ আমলা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন নেতারাও যে অভিযানের বাইরে নেই, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, দুর্নীতিবাজরা সিংহভাগ টাকা পা’চার করেছেন ব্যাংককে অবস্থানকারী চট্টগ্রামের শাহীন চৌধুরী নামের হুন্ডি ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির মাধ্যমে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই নাম।

রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির কর্মকর্তা শাহীন চৌধুরীর মাধ্যমে বিদেশে টাকা পা’চার করেছেন। শুধু এই সরকারের আমলে নয়, বিগত সরকারের আমলেও একই কায়দায় শাহীন চৌধুরীর মাধ্যমে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও আবুধাবিতে কোটি কোটি টাকা পা’চার হয়েছে। এ ধরনের তথ্যও বেরিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, ব্যাংককের একটি ব্যাংকে শাহীন চৌধুরীর জন্য একটি আলাদা ডেস্ক রয়েছে এই হুন্ডি ব্যবসার জন্য।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :170 বার!

error: Content is protected !!
JS security