সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন ট্রাম্প-কিম

গ্লোবাল আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক বৈঠকে যোগদিতে সিঙ্গাপুর এসে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।রোববার (১০ জুন) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সিঙ্গাপুর এসে পৌঁছান দুই নেতা।অনেক চড়াই-উতড়াই পার হয়ে অবশেষে আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার শীর্ষ নেতাসহ দুদেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে এটাই হবে প্রথম কোনো সম্মেলন।দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়নহাপকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, এক দশকের পুরনো ব্যক্তিগত বিমান আইএল-৬২ তে চড়ে রোববার সকালে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন কিম। পিয়ংইয়ং থেকে ছেড়ে আসা একটি সরাসরি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরে অবতরণ করেন তিনি।

এই বৈঠকে ভাল কিছু ঘটবে কি না তা এক মিনিটেই জেনে যাবেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। শনিবার কানাডার কুইবেকে জি-৭ সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সিঙ্গাপুরের ওই শীর্ষ সম্মেলনকে শান্তি মিশন বলে বর্ণনা করেন তিনি।তিনি বলেন, আমি মনে করি প্রথম মিনিটের মধ্যেই আমি জেনে যাব। শুধু আমার স্পর্শ, আমার অনুভূতিতে। এটাই আমি করি। যদি আমার মনে হয় এটি হবে না, আমি আমার সময় নষ্ট করবো না। আমি তার সময়ও নষ্ট করতে চাই না।

সম্মেলনে শেষ করেই শনিবার (৯ জুন) সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন ট্রাম্প ও তার সফরসঙ্গীরা। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮:৩৫ মিনিটের দিকে তারা সিঙ্গাপুরের পায়া লেবার বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান।সেখান থেকে শাংরি লা হোটেলে যাবে মার্কিন দলটি। ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ারফোর্স-ওয়ান বিমানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি ও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স ছিলেন।মঙ্গলবারের বৈঠকের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এবং সুবিধাজনক স্থান বিবেচনায় স্থান হিসেবে সিঙ্গাপুরকে বেছে নেওয়া হয়। পৃথিবীর অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরে একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা এই বৈঠকের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে সরে আসবে উত্তর কোরিয়া। বৈঠকের সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

শুরু থেকেই এই বৈঠক নিয়ে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। গত ৩১ মে বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ডান হাত হিসেবে খ্যাত জেন কিম ইয়ং-চোল। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।এই বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে গত ২৬ মে চমকপ্রদভাবে দ্বিতীয়বার পানমুনজামের বেসামরিক অঞ্চলে সাক্ষাৎ করেন কোরিয়ার দুই নেতা। কিম ও মুনের মধ্যে দুই ঘণ্টার ওই বৈঠকে ‘মার্কিন-উত্তর কোরিয়া সম্মেলন’ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আলোচনা হয় বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

গত ২৭ এপ্রিল ৬৫ বছর পর প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার নেতা। ওই বৈঠকের মাধ্যমে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে দুই দেশ অঙ্গীকার করে। ঐতিহাসিক ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়াও সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের আগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের কাজ সাময়িক বন্ধের ঘোষণা করেন কিম।কিম-মুনের বৈঠকের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারমাণবিক পরীক্ষা অঞ্চলের সুরঙ্গ ধ্বংস করে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের সময় আধাঘণ্টা এগিয়ে নেয় দেশটি। এর মধ্যে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা জন বোল্টনের এক বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বিবৃতি দেয় উত্তর কোরিয়া। এরপর এই বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর জের ধরে মার্কিন-উত্তর কোরিয়া সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করেন ট্রাম্প

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :291 বার!

JS security